banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে একদল লোক সলিমাবাদ ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে জোর পূর্বক প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাঙ্গচুর ও লুটতরাজ করে বলে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা আমুলী আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে, ঘুনিপাড়া গ্রামের মৃত-আঃ রশিদ মিয়ার ছেলে বাদী এমদাদ হোসেন (৬০) এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টায় কমপক্ষে ১৩ জনের একদল লোক এ ঘটনা ঘটায়। খবর পাওয়া মাত্রই, নাগপুর থানার সাথে যোগাযোগের চেষ্ট করি কিন্তু অফিসার ইনচার্জ নাগরপুর থানার মোবাইল ফোন ব্যস্ত থাকায় পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করি। দ্রুত ৯৯৯ নাম্বার থেকে আমাকে নাগরপুর থানার সাথে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দেওয়ার পর ঘটনা শুনে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

পরে ১ ডিসেম্বর একটি লিখিত অভিযোগে ১৩ জনকে আসামী করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা আমুলী আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। 

আসামীরা হলেন- ঘুনিপাড়া গ্রামের মৃত- আঃ রশিদ মিয়ার ছেলে মোঃ গোলাম মোস্তফা (৬৮), মোঃ আবুল হাসান (৫৫), মৃত- আশরাফ উদ্দিন এর ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন (৬৫), বেকড়া ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল খালেক এর ছেলে আব্দুল আউয়াল (৬০) মৃত- আব্দুল হক এর ছেলে আবুল কালাম (৫০), ঘুনিপাড়া গ্রামের আব্দুল বারী এর ছেলে আব্দুল আলীম মিয়া (৫০), খাষ ঘুনিপাড়া গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫০), বলরামপুর গ্রামের মৃত-মলু শেখ এর ছেলে আঃ শিহাব উদ্দিন (৪৫), মৃত- খোরশেদ আলম এর ছেলে আলীনুর মিয়া (৪০), মোঃ ওয়াদুদুর রহমান (৪৫), মৃত- আশরাফ উদ্দিনের ছেলে খুররম মিয়া (৩৫), মঞ্জু মিয়া (৩০), মৃত- দুলাল চৌধুরীর ছেলে মামুন চৌধুরী (৩০)।

অভিযোগে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়ার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নানারকম দুর্নীতি ও ছাত্রীদের সহিত অনৈতিক আচরণে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিষ্ঠাতা এমদাদ হোসেন প্রতিবাদ করায় বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ২০ জন ছাত্রীকে মারপিট করেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ১৪ এপ্রিল ২০১৪ ইং তারিখে খবরে প্রকাশ পায়।

তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ১নং আসামী ও তার সহযোগীরা আমার আলমারী থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন দলিল দস্তাবেদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে। আঃ জব্বারের স্ত্রী মোছাঃ কল্পনা বেগম এবং সিরাজ শিকদারের ছেলে আঃ জব্বারের কাছ থেকে আমার অন্যান্য ঘরের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ঐ সকল ঘরে ঢুকে ক্ষতিসাধন করে।

বিষয়টি থানা আমুলী আদালত, টাঙ্গাইল এর (সি. আর) ২৮৩/২০১৯ নং অভিযোগ আমলে নিয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল আউয়াল মিলন ও মো. আবুল হাসাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, কোর্টে অভিযোগের বিষয়টি আমরা শুনতে পেয়েছি কিন্তু এর কোনো কপি বা নোটিশ আমাদের হাতে এখনও পাইনি। তাই এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছিনা।

ট্যাগ: bdnewshour24 নাগরপুর