banglanewspaper

বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালী জেলাধীন মির্জাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত মাধবখালী ইউনিয়নের ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা। এই কমিটি মানতে নারাজ ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। ইউনিয়নের অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই কমিটিকে আখ্যায়িত করেছে নানা-নাতির কমিটি নামে।

অভিযোগ উঠেছে গঠনতন্ত্র বিরোধী, বয়স্ক, অছাত্র, বিবাহিত, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী কমিটিতে থাকায় এই কমিটি নিয়ে চলছে এত বিতর্ক। ছাত্রলীগের নবগঠিত এই কমিটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুইবার বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হয়েছে। এই কমিটিতে পদ পাবার পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউনিয়নের অন্যান্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

বিতর্কিত কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি,  সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আকনসহ শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী। পরে এক সমাবেশে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, 'আমাদেরকে কিছু না জানিয়েই রাতের আঁধারে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।'

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হাওলাদার বলেন, 'বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জুয়েল ছাত্রলীগের বয়সসীমা অতিক্রম করে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ২৯ বছরে পদার্পণ করেছে। তিনি একজন মোবাইল মেকার। লেখাপড়া বাদ দিয়ে মহিষকাটা বাজারে ভাড়া দোকানে মোবাইল বিক্রি ও মেরামতের কাজ করতো। কমিটি গঠনের পূর্বে দোকানটি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বাজিতা গ্রামের মৃত: আতাহার হাওলাদারের মেয়ে রুবিনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি মো. বাহাদুর মোল্লা জানান, 'সিনিয়রদের বাদ দিয়ে ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজিব কাওসারকে করা হয়েছে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন মোল্লা কোনো প্রতিষ্ঠানেই লেখাপড়া করে না। এছাড়া ঐ কমিটিতে সাত জনের বিভিন্ন পদে নাম রয়েছে যারা বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে চাকরি করেন।'

মাধবখালী ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় একনিষ্ঠ কর্মী আকাশ শিকদার বলেন, 'ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছে মো. কামাল হোসেন জুয়েল, তিনি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অধ্যায়নরত নয় এবং ছাত্রলীগে পদ পাবার বয়সসীমাও অতিক্রম করেছে। তাছাড়া সিনিয়রদের বাদ দিয়ে ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজিব কাওসারকে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজিব কাওসার সম্পর্কের দিক থেকে সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন জুয়েলের নাতি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে নানা নাতি হওয়ায় আমরা সবাই এই কমিটিকে নানা-নাতির কমিটি নামে আখ্যায়িত করেছি।।'

মাধবখালী ইউনিয়নে রাজপথে সক্রিয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অযোগ্য লোককে সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকার কথাও জানায় তারা। অন্যান্য অনেক পদধারীদের কথা বলা হয়েছে তারা অপরিচিত মুখ, এর আগে কখনও মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দেখা যায়নি। টাকার বিনিময়ে তারা পদ কিনে এনেছেন। এছাড়া উক্ত কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শুভ নিজে একজন মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ করেন।

এমতাবস্থায় এই বিতর্কিত কমিটির বিরুদ্ধে চলছে মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা। 

উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি দিবাগত রাতে মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
 

ট্যাগ: bdnewshour24 পটুয়াখালী