banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংস্কৃতির সাথে যারা জড়িত তারা জঙ্গি হতে পারে না বলে জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, দুই একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিবাদে জড়ালেও গত ১৮ বছরে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কোনো জঙ্গি আবিস্কার করেনি এবং জঙ্গিবাদের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা সর্ব মহল থেকে প্রশংসা পেয়েছি। 

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ -এ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব-২০২০ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে ধানমন্ডির প্রধান ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এই উৎসব চলবে আগামীকাল শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ায়রি) পর্যন্ত।

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বাস্তবতার কষাঘাতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ইংরেজি মাধ্যম হলেও কোনোদিন বাঙালি সংস্কৃতি পালন থেকে বিরত হইনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খুব স্পষ্টভাবেই আমরা লালন-পালন করে থাকি। আমরা লক্ষ করেছি যে সতীর্থ দুই একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিবাদে জড়ালেও গত ১৮ বছরে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কোনো জঙ্গি আবিস্কার করেনি। এর প্রথম কারণ হচ্ছে- আমরা খুব সচেতনভাবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করি। দ্বিতীয়ত একটা অনুষ্ঠান যখন শুরু করা হয় গত ১৮ বছরেও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পৃক্ততা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডেইলি সান পত্রিকার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বাঙালিদের ঐতিহ্যের মধ্যে পিঠা অন্যতম। এখানে পিঠা উৎসবে এসে আমি আবেগাপ্লুত হয়েছি। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারা অত্যন্ত গৌরবের এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়। অনুরোধ করবো প্রতিবছর যেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পালন করে। 

তিনি বলেন, আমার সংস্কৃতি যদি আমি লালন না করি বাইরের কেউ এসে আমাদের এই সংস্কৃতি কেউ লালন করবে না। এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাটি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুশফিক এম চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জড়িত ছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম পরিস্থিতি ২০১৬ তে দেখা গেলেও ১৯৮৮ সালের দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মৌলবাদের ঘাটি। কুষ্টিয়া-যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র এনে অস্থিতিশীল পরিস্থিত সৃষ্টি করা হতো। ধীরে ধীরে সেগুলো থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি। কিন্তু এদিক থেকে আমাদের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের অভিযোগ নেই। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজ থেকে দশ বছর পরে আমেরিকার মতো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ইউনিভার্সিটি।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মোর্শেদা চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মেলায় বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও বিভিন্ন স্বাদের প্রায় ৭০ রকমের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শিত হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। অতিথিরা প্রদর্শিত পিঠার প্রশংসা করেন এবং বিভিন্ন পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের এরকম সৃজনশীল আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পিঠা