banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ, নবীণবরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরের মিলানায়তনে পুরস্কার বিতরণ, নবীণবরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তা ছিলেন, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ট্রেজারার মোর্শেদা চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. নূরুল ইসলাম। 

রচনা প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১২ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তাদের মধ্যে প্রথম বিজয়ীকে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ৩০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট, তৃতীয় বিজয়ীকে ১৫ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট এবং অন্যদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

এতে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হলেন- চট্টগ্রামের মো. আমজাদ হোসেন; দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী- বগুড়ার সাবরিন সামান্তা; তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী- নওগাঁর মো. ইমরোজ শাহরিয়ার শায়িক।

প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘দেশের দারিদ্র্যসীমা অর্ধেকে নেমে গেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটি আরও কমিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। বঙ্গবন্ধুর মতো তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বমানবতার উদাহরণ ঘটিয়েছেন। বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মানবতার মা’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম দিয়েছেন। তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন তিনি আমাদের মাঝে গেঁথে দিয়েছেন। বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়া না পর্যন্ত আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি।’

আবদুল মোমেন বঙ্গবন্ধুর মানবতার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্যসীমা অর্ধেকে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও কমিয়ে আনা হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে আজ মানবতার সংজ্ঞা বদলে গেছে। এ কারণে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি-মারামারি শুরু হয়েছে। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মানবতার সঠিক সংজ্ঞা শেখাতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার কথা থাকলেও আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে আমিই একমাত্র ব্যক্তি বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে শেষ করি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এর ব্যত্যয় হয়নি। আমার জন্ম হয়েছিল গোলাম হিসেবে, আমি গোলাম হিসেবে বর্ধিত হয়েছি কিন্তু আজকে বুক চাপিয়ে বলতে পারি- আমি গোলাম হিসেবে আমি কবরে যাচ্ছি না, স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কবরে যাবো।’ 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন স্তরে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা প্রতিজগিতায় অংশ নিয়েছিল তাদের প্রত্যেকের রচনা নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে বই প্রকাশ করা হবে। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমি মধ্যবিত্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান। আজকে যদি পাকিস্তান টিকে থাকতো তাহলে আমরা দু'মুঠো ভাত খেতে পারতাম কি-না জানিনা। পাকিস্তান আমলে মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬ ডলার, আর আজকে মাথাপিছু আয় কত শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় অনুধাবন করছে। ১৯৭৩ সালে যখম বিদেশে পড়াশোনা করতে যাই তখন পকেটে ছিল মাত্র ১০ পাউন্ড। আর আজ বাংলাদেশ থেকে যেকেউ বিদেশে যাওয়ার সময় দশ হাজার ডলার বিনা হিসেবে নিয়ে যেতে পারে আবার নিয়ে আসতেও পারে।’

নিজেকে গর্ববোধ করে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য বলেন, ‘আমিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপাচার্য যার সঙ্গে বন্ধবন্ধুর একটি ছবি রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকা অবস্থায় গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম।’

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, পরিচালক ও চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘জাতির পিতার জন্ম নাহলে এই দেশ সৃষ্টি হতো না। আর এই দেশ সৃষ্টি নাহলে আমি এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে অনুপ্রাণিত ও ধন্য মনে করছি। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রয়াস।’

তিনি বলেন, ‘আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা ছাড়া এদেশে ক্ষুধা দূর করা যাবে না। আর সেটি বাস্তবায়ন করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাবিশ্বে যেভাবে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নতি হয়েছে ঠিক সেভাবে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির উন্নতি হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে যদি শেখ হাসিনা সরকারে না আসতেন তাহলে আমরা আজকের এই বাংলাদেশকে পেতাম না। আমি বিশ্বাস করি আজকের এই তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, মানবতা ও কৃষি নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের জীবনের আদর্শ কখনোই হওয়া উচিত না শুধু হন্যে হয়ে অর্থের পেছনে, সম্পদের পেছনে ঘোরা। আমাদের মধ্যে মানবিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হওয়া সবার দরকার। তুমি যদি মানবিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হও তাহলে অর্থ তোমার পেছনে দৌড়াবে। তুমি সিদ্ধান্ত নেবে কোন অর্থটি নেবে আর কোন অর্থটি নেবে না।’ 

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী বলেন, ‘আজকের দিনে তোমাদের জন্য আমাদের একটিই কামনা তোমরা যেন সামনে এগিয়ে যাওয়া পথের সমস্ত প্রতিকূলতা ও বাধা বিঘ্ন জয় করে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারো। মেধা-মননে ও প্রজ্ঞায় নিজেদেরকে বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারো। প্রত্যেকে বিভিন্ন ধারায় ও পেশায় নিজেদেরকে বিকশিত করে তুলতে পারো। সেই জন্য অবশ্যই তোমাদেরকে গভীর মনোযোগী হতে হবে। জীবনে সঠিক চলার পথ বেছে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে এই আমাদের প্রার্থনা। এরই সাথে আমি আশা করবো তোমরা নিজেদের ভেতর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন ও পালন করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মানেই সু-শিক্ষা আর সুশিক্ষার জন্য মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই আমরা বহু পূর্ব থেকেই শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক আশা প্রত্যাশা নিয়ে তোমরা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ- এ ভর্তি হয়েছো। আবার তোমাদেরকে ঘিরে তোমাদের পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদেরও অনেক স্বপ্ন ও আশা আছে। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ তোমাদের সেই আশা প্রত্যাশা পূরণ করতে শতভাগ চেষ্টা করবে। আমি আশা করি তোমাদের দিক থেকে তোমরাও আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।’

অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী আরও বলেন, ‘আজকের দিন কিন্তু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে আমরা এক নিত্য নতুন প্রযুক্তির মধ্যে বাস করছি। সময় এখন আগের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলে। আমি বাস্তববাদী, টার্গেট অরিয়েন্টেড, তোমাদের নিয়েও আশাবাদী- তোমাদের তারুণ্য দিয়ে সব জয় করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রথম পর্বের নবীন বরণ, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা শেষে দ্বিতীয় পর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী