banglanewspaper

সাভার   প্রতিনিধিঃ ঢাকার উপকন্ঠ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া একটি জনবহল এলাকা। মানুষ কাজের সন্ধানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পাড়ি জমান এই শিল্পাঞ্চলে।  সম্প্রতি  এই শিল্পাঞ্চলে অবৈধ্ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চলছে সাপলুডু খেলা। রাতের আধারে  নিম্ন মানের পাইপ দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে কিছু অসাধু গ্যাস  চোরা   কারবারীরা। অন্যদিকে কিছুদিন পর পর তিতাসগ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই লাইন কাটলেও  অন্যদিকে লাইন সংযোগ দিয়ে দিচ্ছে এই অবৈধ্ গ্যাস সিন্ডিকেট।   

অবৈধ্ গ্যাস সংযোগ এর ফলে সরকার শতকোটি টাকা রাজস্ব হারালেও রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছেন এই গ্যাস সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য। রাতের আধারে  নিম্ন মানের পাইপ দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় প্রায় ঘটছে মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটনা। এছাড়াও এর ফলে বৈধ্ গ্যাস সংযোগ গ্রহণকারীরা পাচ্ছে না তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবারহ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে  মোল্লা বাজার এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম, ময়না মুল্লা, পিতা, জালাল মুল্লা গ্রাম- বেরন মানিকগঞ্জপাড়া , অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে  লক্ষ লক্ষ টাকা  গ্যাস লাইনের  মাসিক বিল তোলা হয়  ডিস বিল এর সাথে  প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।  
 

গ্যাস সংযোগের  মাসোয়ারা তোলা হচ্ছে মোল্লা বাজার চিত্রশাইল, কান্দাইল, মৃধাপাড়া ও ঘোষবাগ এলাকার প্রায় সব কয়টি বাড়িতেই রয়েছে অবৈধ্য গ্যাস সংযোগ। অথেচো এই অবৈধ্য গ্যাস লাইন গুলো মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বিছিন্ন করেছিলো তিতাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় কয়েকজন বাড়ি মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এলাকার প্রভাবশালীদের নিটক হতে ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়েছেন এই অবৈধ্য সংযোগ। শুধু এখানেই নয় এত টাকা দিয়ে লাইন নেওয়ার পরেও বৈধ লাইনের ন্যায় প্রতিমাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিতে হয় এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের।  

এ ব্যাপারে আবু সাদাত মোঃ সায়েম বলেন, আপনাদের কাছে বার বার তিতাসের সম্পকৃততার প্রশ্ন শুনে আমি বিব্রতবোধ করি, কে জরিত, কতটুকু জরিত আপনারা আমার থেকে ভালো জানবেন, যেহেতু আপনারা গনমাধ্যম কর্মী, আপনারা অনেকটা জনগনের কাছ পর্যন্ত যেতে পারেন।  আমি বা আমার কেউ যদি জরিত থাকে, আমরা প্রতিষ্ঠানের কেউ জরিত থাকে অবশ্যই তার পূর্ণাঙ্গ পরিচায় দেন, আমাদের কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে যথাযত আইনি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবে।

চলমান সাপলুডু প্রক্রিয়ার মত অবৈধ্য সংযোগ দেওয়া ও কাটার ব্যাপারে  তিনি বলেন, এই অবৈধ গ্যাস লাইন গুলো নিয়মিত বিচ্ছিন্ন করছি, নিয়মিত মামলাও হচ্ছে, পুলিশের তদন্ত চলছে, এছাড়াও সরকারী অনেক সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। তারা এই অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিবে বলে আমরা আশা করছি। 

এদিকে গত জানুয়ারী মাসে তিতাসের ৫ দিনের অভিযানে আশুলিয়ার জিরবো ডাক্তার বাড়ি, ঋষিপাড়া, নরসিংহপুর, ঘোষবাগ, টঙ্গাবাড়ি, বেরন, মানিকগঞ্জ পড়াসহ বশে কয়েক এলাকায় প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকার লাইন তুলে প্রায় ১৩ হাজার বাসাবাসির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও দুই জনকে আটক ও একটি কোম্পানিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

অন্যদিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল, কান্দাইল, মৃধাপাড়া, ঘোষবাগ ও নরসিংহপুর এলাকায় যে কয়েক জন অবৈধ্য গ্যাস কারবারীর নাম উল্লেখযোগ্য তারা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা কান্দাইল এলাকার মোস্তফা মৃধা, চিত্রশাইল এলাকার বোম জামান, নরসিংহপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম ওরফে গ্যাস সিরাজ ও আমিনুল ইসলাম। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ময়না মোল্লা  মোল্লা বাজার এলাকা, জমোস্তফা মৃধা ও সিরাজুল ইসলাসহ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বেশি রয়েছে।  
এ বিষয়ে গ্যাস সিরাজের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তার মুঠোফোনটি বরাবরই ব্যবস্তা দেখায়। কথা হয় মোস্তফার সাথে। 
কান্দাইল এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোস্তফা মৃধা বলেন, যদি এলাকার সবাই বলে তাহলে আমি দিয়েছি, আর নাহলে তিতাসের যে লোকজন আছে তারা দিসে। 

আপনি দিয়েছেন কিনা সেটা পরিস্কার করে বলেন তিনি বলেন, সবাই যদি বলে তাহলে এটা সত্য হতে পারে, আর আমি যদি মনে করি আমি দেই নাই, তাহলে এলাকায় যখন গ্যাস আসছে, তখন এক ধরনের লোকে দিসে, তখন বলছি হ্যা আমাদের গ্যাস দেন, কারণ আমাদের ভাড়া ভাড়বাড়ি আছে, এমন সময় অনেকেই নিছে, তারা আমার সামনে টাকা দিছে, আমি দেখছি, শুনছি, সবি জানি। এ রকম একটা কিছু। 

এ সময় তিনি আরও বলেন, সবাই যদি বলে আমি দিসি, আমি কি গ্যাসের কাজ জানি?, আপনি কোথায় আছেন বলেন, আমি আসি, দেখেন তো আমি এ ধরনের কাজের লোক কিনা?

ট্যাগ: bdnewshour24 আশুলিয়া তিতাস গ্যাস বানিজ্য

ঢাকা
নাগরপুরে মোটরসাইকেল চাপায় ঘটনাস্থলে নারীর মৃত্যু

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বাসন্তী সরকার (৩৭) নামের এক নারী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) বেলা আড়ারটার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ের আটি গ্রামের অরুন সরকারের স্ত্রী বাসন্তী সরকার স্বামী ও ছেলের সঙ্গে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় মেঘনা-নাগরপুর সড়কের দক্ষিণ নাগরপুর নামক স্থানে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

স্থানীয়রা দ্রুত বাসন্তীকে উদ্ধার করে সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী মোটরসাইকেলচালক ও মোটরসাইকেলটি আটক করলে, মোটরসাইকেলের চালক ও প্যাসেঞ্জার বাইক রেখে পালিয়ে যায়। পরে নাগরপুর থানা পুলিশ এসে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ট্যাগ:

ঢাকা
নাগরপুরে গাছের সাথে গলায় রশি প্যাঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করলো পুলিশ

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গলায় রশি প্যাঁচানো অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। 

গ্রাম পুলিশের ফোন পেয়ে উপজেলার মামুদনগর ইনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার কাঠ বাগানের ইউকেলিপ্টাস গাছের সাথে গলায় রশি প্যাঁচানো ঝুলন্ত ২৫ বছর বয়সী যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। 

বুধবার (২৭ অক্টোবর) নাগরপুর থানার এসআই মো. আরফান খানের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে গ্রাম পুলিশের ফোন পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়াও লাশের পরিচয় ও পরিবার পরিজনের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। 

এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

তবে ঘটনা স্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারকারী এসআই মো. আরফান খান ও তার সঙ্গীয় পুলিশ দলের সাথে কথা বলে জানা যায়, অজ্ঞাত নামা ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

ট্যাগ:

ঢাকা
নাগরপুরে যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত 

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। 

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।

পরে ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি উপলক্ষে কেক কেটে দলের সকলের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। দোয়া মাহফিলের পর এক আলোচনা সভায় মত বিনিময় করেন উল্লেখযোগ্য নেতারা। 

মো. ফনির হোসেন ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও মো. রফিকুল ইসলাম দীপনের সঞ্চালনায় এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি এ্যাড. গৌতম চক্রবর্তী। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালাম। কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা মো. শরিফুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. হাবিবুর রহমান হবি, মো. আহাম্মদ আলী রানা সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

ট্যাগ:

ঢাকা
চেয়ারম‌্যান প্রার্থী এমদাদ হো‌সে‌নের মত‌বি‌নিময়

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতি‌নি‌ধি : টাঙ্গাই‌লের নাগরপুর উপ‌জেলার ৫ নং স‌লিমাবাদ ইউ‌নিয়‌নের চেয়ারম‌্যান প্রার্থী মো. এমদাদ হো‌সে‌ন ২৩শে অ‌ক্টোবর (শ‌নিবার) ইউ‌নিয়নবাসী‌দের নি‌য়ে ঘু‌নিপাড়া মাঠ  প্রাঙ্গ‌নে মত‌বি‌নিময় সভা অনুষ্ঠিত। 

এসময় ইউ‌নিয়‌নের ঘু‌নিপাড়া, পাইকশা, মাইঝাইল ও সলিমাবাদ গ্রা‌মের হাজারো গ্রামবাসী মত‌বি‌নিময় সভায় অংশগ্রহণ ক‌রেন। 

মোঃ নুরুল হক এর সভাপ‌তি‌ত্বে ও  ইমরান হো‌সেন রানার সঞ্চালনায় মত‌বি‌নিময় সভায় সলিমাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এমদাদ হো‌সেন ব‌লেন, আমি ১৯৮৩-২০০৩ সাল পর্যন্ত এই ইউ‌নিয়‌নের চেয়াম‌্যান ছিলাম। অতী‌তে আমার হাত ধ‌রে ইউ‌নিয়‌নের অ‌নেক উন্নয়নমূলক কর্ম সম্পাদন হ‌য়ে‌ছে, ইনশাল্লাহ্ এবারও  নির্বাচ‌নে জয়ী হ‌লে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করব। 

সভায় অন‌্যান‌্যদের ম‌ধ্যে মত বি‌নিময় ক‌রেন স‌লিমাবাদ ইউ‌নিয়ন আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কায়‌কোবাদ খান (‌কে‌বি খান), ঘু‌নিপাড়া নবযুগ স্পো‌টিং ক্লা‌বের সহ-সভাপ‌তি নওশাদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হো‌সেন, ৬নং ওয়া‌র্ডের সা‌বেক ইউ‌পি সদস‌্য মেরাজুল ইসলাম আ‌খি, ছা‌নোয়ার হে‌সেন, এলাহী সিকদার, সাইফুল হো‌সেন সহ ও অত্র ইউ‌নিয়‌নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ট্যাগ:

ঢাকা
আলোয় উদ্ভাসিত হতে চলেছে চরের ৭০টি গ্রাম

banglanewspaper

এবার আলোর ঝলকানিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তিন জেলার চরাঞ্চলের নয়টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রাম। চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে মৌলিক অধিকারগুলো এখনো দুর্লভ। সেই চর এবার আলোকিত হয়ে ঘুচাবে অন্ধকার। মানুষের মৌলিক অধিকার ঘুচানোর পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলার চরাঞ্চলের নয়টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামকে বিদ্যুতের আওতায় আনার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন লাইন নির্মাণকাজ ও নদী ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে, যা চলতি বছর নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৫ কিলোমিটার অফগ্রিড বৈদ্যুতিক লাইন। প্রকল্পের মধ্যে সাবস্টেশন রয়েছে একটি (১০ এমভিএ)। সাবমেরিন ক্যাবল ৩৩ কেভি একটি ও ১১ কেভি তিনটি।

বিদ্যুতায়নের আওতায় রয়েছে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় পাঁচটি, রাজবাড়ি জেলার সদর, গোয়ালন্দ, দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জ জেলার শবালয় উপজেলার একাংশ। নয়টি ইউনিয়ন হলো- নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, হাটুরিয়া-নাকালিয়া, আরুয়া, মিজানপুর, শিবালয়, তেওতা, বাঘুটিয়া ও বাচামারা। ৭০টি গ্রামের ১১ হাজার ২৭৬ জন মানুষ এ বৈদ্যুতিক সেবার আওতায় আসবেন।

পাবনার কাশিনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের পেছন থেকে মানিকগঞ্জের বাঘুটিয়া পর্যন্ত আপগ্রিড লাইন নির্মাণ করা হবে। এক বছর আগে শুরু হওয়া এ কাজ শেষ হবে নভেম্বরের মধ্যে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রিড থেকে মূল লাইন এসে যুক্ত হবে এই লাইনে।

সম্প্রতি পাবনার বেড়া উপজেলার কল্যাণপুর চরে নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) মনিরুল ইসলাম, এজিএম (সদস্য সেবা) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাহ উল হক, পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহ প্রমুখ।

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু নদীতে ড্রেজিং চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করা হবে এবং মুজিববর্ষের মধ্যেই চর আলোকিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) মাধ্যমে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ কাজ বাস্তবায়ন করছে।’

এজিএম (সদস্য সেবা) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে মানুষ যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয়, দালালের খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। লিফলেট বিতরণ করেছি। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় উঠান বৈঠক ও মাইকিং করেছি। সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে অফিসের নির্ধারিত ফি ৪৫০ টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করার জন্য। এর বাইরে কাউকে কোনো টাকা না দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘শাহজাদপুর গ্রিড থেকে আমরা প্রায় ৩০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছি। যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল যাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এজন্য নদী খনন কাজ চলছে। খনন কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। খনন কাজ শেষ করে তার লিঙ্ক করা, সাবস্টেশন চালু করে চর এলাকার সোয়া ১১ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারবো। আশা করছি আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

পাবনা-২ আসনের সাংসদ আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, ‘চরাঞ্চলের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শন যে পিছিয়ে পড়া সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে নেওয়া, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ একটি উন্নয়নমূলক কাজ। বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ির চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বিশেষ করে কৃষি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। এতে উৎপাদন খরচ কমে চরের মানুষ উৎপাদনে উৎসাহী হবে।’

ট্যাগ: