banglanewspaper

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় শাহিন মিয়া (৩৭) নামে কবিরাজ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। থানায় মামলার দায়েরর পর পুলিশ শনিবার জেলার মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে প্রতারক শাহীন।

সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামের  মোঃ হাবিবুল্লাহ’র স্ত্রী অসুস্থ্য হলে গত ২৫ ডিসেম্বর রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের সহিলাটি গ্রামের আব্দুল হালিম কবিরাজের বাড়িতে যায় হাবিবুল্লাহ। কিছুদিন ঔষধ সেবনের পর সুস্থ্য না হওয়ায় আব্দুল হালিম কবিরাজের পরামর্শে তার বড় হুজুর শাহীন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গত ২ জানুয়ারী হাবিবুল্লাহ বাড়িতে আসেন শাহীন মিয়ার। রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রতারক শাহীন মিয়া কিছু ঔষধ সেবন করতে দেন এবং পরবর্তীতের রোগীর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি কবিরাজকে জানানোর পরামর্শ দেন। ঔষধ সেবন করার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলে কোন কাজ না হওয়ায় প্রতারক কবিরাজ শাহীনকে জানানো হলে স্বর্ণ মন্ত্র করাতে হবে এজন্য কিছু অলংকার একত্রিত করে খবর দিতে বলে শহীন। শাহীনের কথামত ৫ জোড়া স্বর্ণে কানের দোল,দু’টি স্বর্ণে চেইন ও একটি স্বর্ণে আংটি প্রায় ১লাখ ৯০ হাজার টাকার স্বর্ণ একত্রে করে প্রতারক শাহীনকে খবর দেওয়া হলে গত ৭ জানুয়ারী হাবিবুল্লাহ’র বাড়িতে আসে এবং তার কথামত স্বর্ণগুলো তার হাতে দেয়া হয়।

কিছুক্ষণ পরে একটি কাপড়ের পুটলা হাবিবুল্লার হাতে দিয়ে প্রতারক শাহীন বলে এই স্বর্ণগুলো মন্ত্রপাঠ করে দেয়া হয়েছে এগুলো নিরাপদ জায়গা রেখে দেন এবং ৭দিন পর বাহির করে আপনার স্ত্রীর গায়ে পরাইয়ে দিবেন বলে সে চলিয়া যায়। শাহীনের কথামত ৭দিন পর পুটলাটি খুলে দেখেন ওই পুটলার ভেতরে ২ ও ৫ টাকার কয়েকটি কয়েন পয়সা।

বিষয়টি দ্রুত তাকে মুঠোফোনে জানালে প্রতারক শাহীন জানায়, তার পোষা জ্বীন স্বর্ণগুলো নিয়ে কয়েনগুলো রেখে গেছে এখন তাদেরকে মাংস খাওয়াতে হবে এজন্য ২ হাজার টাকা লাগবে। প্রতারক শাহীনের কথামত বিকাশে টাকা পাঠানো কিছুক্ষণ পর তার মুটোফোনটি বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে প্রতারক কবিরাজ আব্দুল হালিম ও শাহীন মিয়াকে আসামী করে  কেন্দুয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকা থেকে গেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোর্পদ করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নোমান সাদেকীন জানান,মামলার আসামী শাহীনকে গেপ্তারের তার প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে এবং ওই স্বর্ণ-অলংকার বিক্রিয়কৃত অর্থ হতে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, শাহীন প্রতারণা করে স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং অপর আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 কেন্দুয়া