banglanewspaper

জাহিদ হাসান, বাকৃবি: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রীদের আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আবাসিক হলগুলোতে গণরুমেও সংকুলান না হওয়ায় হলের ডাইনিং, টিভিরুম, গ্রন্থাগার কক্ষ, এমনকি নামায কক্ষে থাকতে হচ্ছে ছাত্রীদের। তারপরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষেধক শাখার বেশ কয়েকটি কক্ষে রাখা হয়েছে প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোর আবাসন সংকটের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ছাত্রীদের সংখ্যা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এ মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসিক ১৩ হলের মাত্র ৪টি হল ছাত্রীদের জন্য। সময়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য আসন সংখ্যা বাড়েনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিষয়ক শাখার গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ হাজার ৯২৩ জন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ১১০৮ জন, তন্মধ্যে ৬০৩ জন ছাত্রী। আর ১৩টি হলের ছাত্র-ছাত্রী মিলিয়ে মোট আসন আছে মাত্র ৫ হাজার ৮৭৬টি। প্রায় ৪ হাজার ছাত্রীর জন্য তাদের ৪টি হলের আসনসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০।

বিশ্ববিদ্যালয় এর সুলতানা রাজিয়া হলের আবাসিক দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের গণরুমে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে আমাদের। এতে কোনো রকমে রাত কাটানো সম্ভব হচ্ছে বলা যায়। কিন্তু সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় পড়াশুনা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত নতুন হল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেগম রোকেয়া হলের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জানান, আবাসন-সংকটের কারণে একক আসন পেতে প্রায় ২-৩ বছর চলে যায়। গণরুমে থাকলে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজন মতো শৌচাগার না থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই ।

বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে অবস্থান করা এক ছাত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকায় আমাদের জন্য ডাইনিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। প্রতি বেলায়ই বাহিরের খাবার হোটেল থেকে খাবার আনতে হয়। পাশাপাশি খাবার পানি, ওয়াশরুম ও সীমিত জায়গায় গাদাগাদি করে থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। চিকিৎসাকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমারেখা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।

তবে ছাত্রীদের জন্য নতুন হল নির্মাণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে জানিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ছাত্রীহলের আবাসন সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সুলতানা রাজিয়া হলের একপাশের ব্লক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চতুর্থ তলার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। চলতি বছরের মে-জুন মাসের মধ্যেই মেয়েদের জন্য নতুন দুইটি হলের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এতে ছাত্রীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

***************
মো. জাহিদ হাসান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
০১৯৬৭৪৩২০৭৮
 

ট্যাগ: bdnewshour24 বাকৃবি আবাসন সংকট