banglanewspaper

আক ২৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ঢাবিতে চলা সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। ঢাবিসহ অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ইউজিসি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এরই পরিপেক্ষিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ হতে যাচ্ছে। 

এছাড়াও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। 

চলতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির ২৬২তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে প্রণীত পৃথক প্রশ্নপত্রে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তিনটি শাখার বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও এ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।

সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। কেন্দ্রীয় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার আলোকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সভায় প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত লিখিত উত্তর বিশিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রস্তাব করা হয়।

রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে উপস্থিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্তে একমত হন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সান্ধ্যকালীন (ইভনিং) কোর্সের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে তা বাতিলের অনুরোধ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর দুদিন পর এই কোর্স বাতিলে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এত বেশি সেশনজট ছিল যে কারণে দুই শিফটে পড়ানো বা সান্ধ্যকালীন কোর্সে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় করছি, কলেজ করছি, শিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছি। এটা ঠিক যে, একটা হিসাব নিয়েছিলাম, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে যতটা না আন্তরিক বেসরকারি কোথাও ক্লাস নিতে বেশি আন্তরিক হয়ে পড়ে। তাতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। সেগুলো আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যাকালীন কোর্স বন্ধ করতে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের সই করা চিঠিতে বলা হয়, সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য করে। এতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়। সে কারণে এসব কোর্স বন্ধ হওয়া দরকার।

চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্যরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রতিপালন করে যাচ্ছেন। তবুও নানা কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি অনুসরণে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, যা কাম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খোলা এবং নতুন পদ তৈরি বা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ইউজিসি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে যে দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে, যা বাঞ্ছনীয় নয়।

ইউজিসির তথ্য অনুসারে, সান্ধ্যকালীন ও অন্যান্য কোর্স পরিচালনাকারী নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 ঢাবি