banglanewspaper

বইমেলায় বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে। শনিবার পর্দা নামবে মাসব্যাসী ধরে চলা বইমেলার। প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবারের সকালটা শিশুদের জন্য বরাদ্দ করেছিল বাংলা একাডেমি।

আজ শনিবার সেই হিসাবে ছিল এবারের বইমেলার শেষ শিশুপ্রহর। তাই শেষ শিশুপ্রহরে অভিভাবকদের সঙ্গে এসে সে আয়োজন উপভোগ করে উচ্ছ্বসিত ছিল শিশুরা। বিদায় বেলার শিশুপ্রহরে শিশুদের ভিড়ে ঠাঁই ছিল না শিশু চত্বরে।

শেষ দিনে সকাল ১১টা থেকেই কোলাহলমুখর ছিল শিশু চত্বর। শিশুরা সিসিমপুরের হালুম টুকটুকিদের সাথে এবারের মতো আনন্দ ভাগাভাগি করে। তবে আনন্দ করার চেয়ে সবাই ব্যস্ত ছিল বই কেনায়। কারণ আজকের পর অপেক্ষা করতে হবে পুরো বছর।

ছোট্ট প্রিয়তি বাবার সঙ্গে এসেছে মেলায়। সেখান থেকেই নির্বাচন করছে কোন বইটি তার দরকার। প্রিয়তি বলল, আমি অনেক হেঁটেছি। এখন বাবা বই কিনে দিবে। একটা রাক্ষসের বই কিনব আমি।

স্কুলে না পড়লেও স্কুল ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে ছোট্ট অয়ন। অয়ন বলল, আমিও স্কুলে যাব। তাই বইগুলো জমিয়ে রাখছি। একটা বর্ণমালা আর একটা পরীর গল্পের বই কিনেছি।'

পুরান ঢাকা থেকে শৈলীকে নিয়ে এসেছেন তার মা রাশিদা খানম। রাশিদা খানম বলল, ‘নানা কাজের চাপে এত দিন আসা হয়নি। তাই যতটুকু পারছি বই কিনে নিচ্ছি এবছরের মত।’

শেষবারের মতো বই কেনায় ব্যস্ত রকিব হায়দার। একাই এসেছেন শিশু চত্বরে। তার সন্তান অসুস্থ। রকিব হায়দার বলেন, বাচ্চাটা কয়েকদিন ধরে বেশ অসুস্থ। ঘুমানোর সময় গল্পের বই পড়ে ঘুমাতে চায়। আমারও সময় হচ্ছিল না তাই আসতে পারিনি এতদিন। ছুটি নিয়ে এলাম বই কিনতে।'

বই মেলা ছাড়া বই কিনতে ভালো লাগেনা সুমাইয়া আক্তারের। সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘বইমেলায় বই কিনতে এলে উৎসব এর মত লাগে। যেটা অনলাইনে পাওয়া যায় না। তাই অনলাইনে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বই কিনতে তেমন একটা ইচ্ছে করে না।'

ছোটদের বই নিয়ে এসেছে শিশু প্রকাশ। স্টলের বিক্রয়কর্মী ফারহান বলেন, এবার ভূতের বইয়ের চেয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বই বেশি বিক্রি হয়েছে। শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা থাকে সে অনুযায়ী ছড়ার বই বর্ণমালাসহ অন্যান্য বইও বিক্রি হয়েছে।

স্কুল শিক্ষার্থী শিশুদের পাশাপাশি কিশোররাও ভিড় জমিয়েছে শিশু চত্বরে। কেউ নিজের জন্য কিনছেন কিভাবে ছোট ভাই বোনের জন্য। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শিশুপ্রহরের বই কেনা।

ট্যাগ: bdnewshour24 বইমেলা