banglanewspaper

আফগানিস্তানে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তালেবানের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে আশা বিশ্লেষকদের।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তালেবান নেতাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই হয়। খবর আল-জাজিরা।

তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে ৪টি মূল ক্যাটাগরি রয়েছে। 

ঐতিহাসিক এ চুক্তিতে যা আছে

১. আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা সরিয়ে নেওয়ার টাইমলাইন ঘোষণার নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

২. যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৩. সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হলে তালেবানদের আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। এই আলোচনা হবে ১০ মার্চ ২০২০ থেকে। 

৪. আফগানিস্তানের ভেতরকার দুই পক্ষের আলোচনায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে। দুইপক্ষ যুদ্ধবিরতির তারিখ এবং সে বিষয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে সিদ্ধান্তে আসবে। এছাড়া আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রোডম্যাপ কি হবে তাও ঘোষণা করা হবে দুইপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে।

চুক্তি সই হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগান সরকারের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবানের চুক্তি অনুযায়ী তালেবান যদি তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে অবশিষ্ট সকল সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে যৌথবাহিনী।

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে আফগানিস্তান ভিত্তিক আল-কায়েদা গ্রুপ হামলার পর দেশটিতে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ২ হাজার ৪শ’র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এখনও দেশটিতে প্রায় ১২ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের অবসানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০১১ সাল থেকে আফগানিস্তানে শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে আসা তালেবান নেতাদের আশ্রয় দিয়েছে কাতার। ২০১৩ সালে তালেবানের একটি কার্যালয় চালু করা হয়, তবে পতাকা নিয়ে বিরোধে সেই বছরই সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে তালেবান ঘোষণা করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসবে যাতে শান্তির একটি রোডম্যাপ তৈরি করা যায়। তবে তখন তারা পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারের সঙ্গে সঙ্গে কোন আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে। ওই সরকারকে তারা আমেরিকান পুতুল বলে বর্ণনা করে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ সপ্তাহের মধ্যে ৫৪০০ সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক। কিন্তু কয়েকদিন পরে তালেবানের হামলায় একজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর আলোচনাকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্দার আড়ালে উভয় পক্ষ আবার আলোচনা শুরু করে।

এক সপ্তাহ আগে সহিংসতা কমানোর ব্যাপারে সম্মত হয় তালেবান; যদিও আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যেই তাদের হামলায় ২২জন সৈনিক এবং ১৪জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগান নাগরিকরাও আশা করছেন এই চুক্তির ফলে দেশের ভেতরে আমেরিকার সাথে দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানের পথ তৈরি হবে। কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক টুইট বার্তায় বলেছে, আফগানিস্তানের জন্য স্মরণীয় একটি দিন শনিবার।
  
চুক্তি অনুযায়ী, তালেবানরা চুক্তির সব শর্ত মেনে চললে আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

চুক্তির পর এখন থেকে আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদাকে কোনো তৎপরতাও চালাতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা।

ট্যাগ: bdnewshour24