banglanewspaper

টেলিভিশন ছেড়ে ব্যক্তি নিজের নাম শুনলেন। শুনলেন তিনি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ৩০ জানুয়ারি ভারতে এক নারীর ভাগ্যে ঘটল এ ঘটনা।

ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে ওই নারী জানান, ‘হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে তার বন্ধু বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত টিভি ছেড়ে খবর দেখতে বলেন। বন্ধুর কথামতো টিভি ছেড়ে তিনি সংবাদপাঠকের মুখে তার নাম শুনতে পান।’ 

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহানের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় উহান ছেড়ে ভারতে চলে আসি। উহানেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হই। কিন্তু ভাইরাসের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি তখনও।’

চীন থেকে ফেরার পর তিনিসহ আরও চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেই বলে সবাইকে ছেড়েও দেয়া হয়।

এর দুদিন পরই টিভিতে তিনি শুনতে পান সংবাদপাঠক বলছেন, চীনের উহান শহর থেকে আগত মেডিকেলের এক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

তাৎক্ষণিক তিনি বুঝে যান, রিপোর্টটি তাকে নিয়েই।

তবে এমন খবরে আতঙ্কিত হননি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম করোনাভাইরাসে বয়স্ক লোকজন আক্রান্ত হলে তারা মৃত্যুমুখে পড়েন। বিশেষ করে যাদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা আছে তারা। আমি নিজেকে শান্ত রেখেছিলাম। কারণ আমার এমন কোনো সমস্যা ছিল না। তাই আমার চিন্তাভাবনা বেশ ইতিবাচক ছিল। মনোবল চাঙ্গা ছিল।’

তিনি জানান, ‘ওই সংবাদের এক ঘণ্টার মধ্যেই তার বাসায় চিকিৎসক এসে হাজির হয়। তাকে দ্রুত কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে রেখে দেয়া হয় তাকে।’

শুধু তাকেই নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

কীভাবে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বিবিসিকে তার ইতিহাস তুলে ধরেন এই ভুক্তভোগী। 

তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে চীনের উহানে মেডিসিন বিষয়ে পড়ছিলাম। চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের ক্লাস ছিল। সেই সময় সেমিস্টার পরীক্ষা চলছিল। আমরা সবাই কয়েক সপ্তাহের ছুটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ঠিক এ সময়ে চারদিক থেকে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। মাসের মাঝামাঝি গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেল। একই সঙ্গে গুজবও ছড়িয়ে পড়ছিল।’

তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারি রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া শুরু করে। তখন উহান ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই আমি এবং বিমানের টিকিট বুক করি। ভারতীয়দের উদ্ধার করার জন্য পাঠানের ভারত সরকারের বিমানে আসিনি আমি। ওই ঘটনার আগেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামি। সেখান থেকে আরেকটি বিমানে করে আসেন দক্ষিণের কোচিন শহরে আসি।’

তিনি জানান, ‘ভারতের ওই দুই বিমানবন্দরে কিছুই ধরা পড়েনি তার। তাকে কেউ বাধাও দেননি। কারণ কলকাতা ও কোচিনের দুই বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়ার পরও তার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো উপসর্গই ছিল না তখন।’

বিবিসি জানায়, বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সব সদস্যকে একটি বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তাদের সুচিকিৎসা চলছে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।

বিশ্ব করোনাভাইরাসের থাবা থেকে মুক্ত হলে ফের উহানে ফিরে পড়াশোনায় মনোযোগী হবেন তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 করোনা