banglanewspaper

সাম্প্রতিক বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ আতংকের নাম নভেল করোনা ভাইরাস। এটির উৎপত্তি স্থান চিন হলেও, বর্তমানে সেদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আশে-পাশের প্রায় ৬৮টি দেশ ও অঞ্চলে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এর তাণ্ডবের শিকার প্রায় ৮৯০০৬+ জন মানুষ এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩০৪৪ জন। এ পরিসংখ্যান দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর কোনো ভ্যাকসিন বা নিরাময়দায়ি ওষুধ এখন পর্যন্ত বের হয় নি। কিংবা বের হলেও এখনো সহজলভ্য হয়ে ওঠে নি। প্রতিরোধ ব্যবস্থাই এখন একমাত্র পথ। তবে শত প্রতিরোধ ব্যবস্থা সত্ত্বেও আমাদের বাংলাদেশ একশো ভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। সেজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পরিচ্ছন্নতা, সাবধানতা কিংবা মাস্ক ও ইউনিফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি, হোমিও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এ-রোগের সংক্রমণ ঠেকানো ও নিরাময় সম্ভব। 

রোগটি বায়ুবাহিত হওয়ায় প্রথমে ফুসফুসে আক্রমণ করে। হাঁচি, কাশি, জ্বর, মাথাব্যাথা, শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা, বমি, রক্তবমি, মৃত্যুভয় প্রভৃতি লক্ষণ মারাত্মক আকারে প্রকাশ করে। আর এসব  লক্ষণসাদৃশ্যপূর্ণ সবচেয়ে উপযুক্ত হোমিও ওষুধ হচ্ছে Arsenicum alb. এ ছাড়াও লক্ষণ-সদৃশ আরোও ওষুধ রয়েছে।

যেমন: Aconite nap., Belladona, Baptisia, Bryonia প্রভৃতি। এসব ওষুধ রোগীর লক্ষণ ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য অনুযায়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেগুলো মানব শরীরে উক্ত লক্ষণগুলোর প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। হোমিওপ্যাথি লক্ষণ-সদৃশ চিকিৎসা ব্যবস্থা হওয়ার কারণে ওষুধকে সূক্ষ্মমাত্রায় প্রয়োগে, জীবনীশক্তিকে অপেক্ষাকৃত উজ্জীবিত করবে। আর জীবনীশক্তির অতিদূর্বলতা বশত রোগাক্রান্ত হয়ে গেলেও, একই ওষুধ উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগে রোগটি দূরীভূত হবে। যার ফলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করলেও তা প্রভাব বিস্তার কিংবা বংশবিস্তারে ব্যর্থ হবে।

ওষুধ সেবনের মাত্রা ও নিয়ম:
সংক্রমণ রোধের ক্ষেত্রে প্রথমে ওষুধটির নিম্নশক্তি 30/200 সেবন করা যেতে পারে। তবে সংক্রামিত হয়ে গেলে ক্রমান্বয়ে উচ্চ শক্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রয়োগ করে যেতে হবে, যতক্ষণ না রোগ-লক্ষণের উন্নতি হচ্ছে। অবশ্যই  কোনো ভালো হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকান থেকে জার্মানির অরিজিনাল ওষুধটি সংগ্রহ করে নিতে হবে। ৩০নং বড়িতে,  ৩০, ২০০, ১০০০, ১০০০০ প্রভৃতি শক্তির কয়েক ড্রাম ওষুধ সংগ্রহ  করে নিন। যারা পান-জর্দা কিংবা ধুমপান জাতীয় বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সেবনে অভ্যস্থ, তারা রাতের ঘুমোতে যাওয়ার আগে টুথপেস্ট দিয়ে ভালো করে দাঁত ও মুখ পরিস্কার করে নিবেন। পরদিন সকালে কুলি করে খালিপেটে ওষুধ খাবেন। 

১. সুস্থ অবস্থায়:

দিনে একবার। ওষুধের নিম্নশক্তির ৪ বড়ি চুষে খেয়ে আধাঘন্টা পর একগ্লাস পানি খাবেন। একঘন্টা পর নাশতা খাবেন। এভাবে পরপর তিনদিন।

বিশ/ত্রিশ দিন অন্তর একই নিয়মে আবার খেতে পারেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবন নিষিদ্ধ। অপ্রাপ্ত কিংবা প্রাপ্ত উভয় বয়সের লোকেরা একই নিয়মে, একই মাত্রায় খেতে পারেন।

২. অসুস্থ অবস্থায়:

প্রথমে ৩০ শক্তির ৪ বড়ি করে ১/২ ঘন্টা পরপর কয়েকবার সেবন করুন। ১/২ দিন অপেক্ষা করুন। রোগযন্ত্রণার পরিবর্তন না হলে ক্রমশো উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করে অপেক্ষা করুন। উন্নতি বোঝা গেলে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দিন। অল্প দিনের মধ্যেই লক্ষণগুলো দূরীভূত হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ্! 

উল্লেখ্য যে, হোমিও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল বিধায় একজন রেজিস্টারড ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়াটা নিরাপদ হবে। সবাই সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন। করোনার আক্রমণ থেকে নিজেকে আগলে রাখুন। 

ডা. মো. আব্দুর রউফ খোকন
(রব নেওয়াজ খোকন)
ডিএইচএমএস, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
ফোন- ০১৭১৬৫৫৯২১১। 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 করোনা