banglanewspaper

আগামী দুই বছর স্বর্ণযুগ আখ্যা দিয়ে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বেশ কয়েকটি চ্যালেজ্ঞ দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। চ্যালেজ্ঞগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা, ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু, ২০২৪ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বের হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়গুলোকে প্রধান হিসেবে মনে করছেন মন্ত্রী। তবে চ্যালেজ্ঞগুলো ওয়াকিফহাল থাকায় সেই অনুযায়ী কাজ করে সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ কূটনীতি: এক দশকে বিশ্বে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান’শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমাদের জন্য স্বর্ণযুগ। কারণ আমাদের জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী এই সময়ের মধ্যে। আমরা এই দুই বছর আমাদের ব্র্যান্ডিং করব। এতে আমরা অর্থনৈতিভাবে উপকৃত হব। তবে এই সময়ে আমাদের বেশ কয়েকটি চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলা করতে হবে।’

 সমস্যাগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষগুলোর কথা উঠে আসে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা এখনো আশাবাদী। আমরা যাদের সঙ্গে ডিল করছি তারা কিন্তু সহজ জিনিস না। এটা নিয়ে যে চ্যালেজ্ঞ সেটা আমরা ওয়াকিফহাল। সেই অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি।’

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক সোনালি অধ্যায় মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে চাই। আমরা ভারতকে বলেছি, এমন কিছু করবেন না যাতে জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়, যেহেতু আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত।’

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রাখার জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখাও একটা চ্যালেজ্ঞ মনে করেন মোমেন। বলেন, ‘আমাদের মেজর (গুরত্বপূর্ণ) দিক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চায়না এদের খুশি রাখা। চায়নাকে খুশি রাখতে হবে আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে। আর আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারততো আছেই।’

পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোকে সঙ্গে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

বলেন, ‘আমরা জনকূটনীতি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ঢাকা ডায়লগের আয়োজন করেছি। প্রবাসীদের ইনভবল করার চেষ্টা করছি, তাদের আমরা সম্পৃক্ত করতে চাই।’

২০২৪ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বের হলে অর্থনৈতিক কিছু ক্ষতি হতে পারে বলেও মনে করেন মোমেন।

ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সভাপতিত্বে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে মাসুদ বিন মোনেম বলেন, একটি দেশের কূটনৈতিক সাফল্য সংখ্যাগত দিক থেকে পরিমাপ করা কঠিন। এর সঠিক কোনো সূত্র বা যন্ত্রও নেই। ওই দেশের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে সেই দেশ সম্পর্কে যে ছবি ভেসে ওঠে কূটনৈতিক সাফল্যের বিচারে সেটাই বড় বিষয়। স্বাধীনতার পর দরিদ্র জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনত। এখন চেনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, মেট্রো রেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। তাছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয় বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বহির্বিশ্বে আমাদের কূটনীতি এখন শক্তিশালী অবস্থানেই আছে। চীনের সঙ্গে ব্যাপ্তি এবং ভারতের সঙ্গে ব্যালেন্স কূটনীতি। তবে আমাদের কাজ হবে জনকূটনীতি শক্তিশালী করা। এটাতে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আরও তৎপর হওয়া।’ 

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতি যেভাবে এগোনোর দরকার সেভাবে এগোচ্ছে। ১০ বছরে আমরা অনেক এগিয়েছি। আমাদের পাবলিক ডিপলোমেসিসহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেসব সমস্যা রয়ে গেছে সেগুলো সমাধান করায় মনযোগী হতে হবে।’

সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সফরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতে গেলে সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে শ্রিংলাকে অভিহত করেন বন্ধুত্বে হত্যাক্যাণ্ড ঠিক নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতকে এমন জবাবকে স্বাগত জানান সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের কিছু উদ্বেগের ইস্যু থেকেই গেল। তারা কিন্তু তাদের সমস্যা সমাধান করে নিয়েছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাবেক এই সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা যে চুক্তি করেছি সেটা ভালো হয়নি। এতদিন আমরা দ্বিপক্ষীয়তায় আটকে ছিলাম, সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছি। চীন, ভারত রাশিয়াকে আমরা পাশে পাইনি। তারা আমাদের সঙ্গে নেই। আমাদের কাজ হবে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা।’ 

সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে অনেক দূর এগোলেও আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সন্ত্রাসবাদ ও নারী নির্যাতনে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 পররাষ্ট্রমন্ত্রী