banglanewspaper

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির ফয়সালের নতুন দরবারে তারই এক আত্মীয় মুরিদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ফয়সাল দরবারের বাসভবনেই ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

নিহত আমানুল্লাহ (৬৫) সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। সামাদ সম্পর্কে ফয়সালের মামাত ভাই। দরবারের লোকজন হার্ট অ্যাটাকে আমানুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও তার স্বজনরা ঘটনাটিকে হত্যা বলে অভিযোগ তুলেছেন। 

এ নিয়ে গত বুধবার রাতেই পীরের এক আত্মীয় ওবায়দুল্লাহ ও চুন্নু নামে এক মুরিদকে আটক করে পুলিশে দেন নিহতের স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে আমানুল্লাহর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

শনিবার দুপুরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আটক ওবায়দুল্লাহ ও চুন্নুকে বাদী পক্ষের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে সদর উপজেলার বারঘরিয়া গ্রামে মোস্তফা আমির ফয়সালের নানির কবর পাকা করতে যান মুরিদরা। কিন্তু ওই কবরের খাদেম আমান তা করতে দেননি। এ নিয়ে তখন দুই পক্ষের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়। চার-পাঁচদিন আগে ফয়সাল পাকুড়িয়া নতুন দরবারে এলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমানুল্লাহ সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমানুল্লাহ দরবারে এলে আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন নানির কবরের কাজ না করতে দেয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ওইসময় আমানকে কিছুটা অসুস্থ মনে হলে তাকে পাশে থাকা চেয়ারে বসতে দেয়া হয়। আমানের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে এক পর্যায়ে দরবারে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর একই অ্যাম্বুলেন্সে আমানুল্লাহর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পাকুড়িয়া দরবারে। পরে মোস্তফা আমির ফয়সাল নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আমানুল্লার লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর আমানুল্লাহর স্বজনরা ওই মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আমানের ভাই আহসানউল্লাহ, রুহুল আমিন ও মেয়ের জামাই সোহেল মিয়ার অভিযোগ, আমানুল্লাহকে ডেকে নিয়ে আঘাত ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আর ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পীরের মুরিদ আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন।

ট্যাগ: bdnewshour24 আমীর ফয়সাল