banglanewspaper

ধৈর্য আর ছাগল চরানো শব্দটি সমপূরক। একজন ধৈর্যশীল ব্যক্তি ছাড়া ছাগল পালন-পালন করতে পারেন না।  কারণ ছাগল পালন ধৈর্যশীলদের জন্যই।  আপনি কি জানেন পৃথিবীতে কাদের সবচেয়ে বৈশি ধৈর্য ছিল? উত্তরে আসবে নবীদের।  আর আল্লাহ তায়ালা নবীদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ রাখার, ধৈর্য ধারণ করার জন্য প্রত্যেক নবী রাসুলকে দিয়ে ছাগল চরিয়েছেন।

সুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুধমা হালিমার ঘরে অবস্থানকালে দুধভাইদের সঙ্গে ছাগল চরাতেন। অনুরূপভাবে তিনি যৌবনেও ছাগল চরিয়েছেন। 

এ সম্পর্কে হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে।  তিনি বলেন, ‘জাহরান নামক স্থানে আমি রসুলুল্লাহর সঙ্গে ছিলাম। আমি সেখানে পিলু ফল ছিঁড়ছিলাম।  তিনি দেখে বললেন কালো কালো দেখে ছিঁড়, এগুলো সুস্বাদু হয়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রসুলুল্লাহ! আপনি কি ছাগল চরাতেন (যে কারণে আপনি এটা জেনেছেন)? তিনি বললেন হ্যাঁ, এমন কোনো নবী নেই, যিনি ছাগল চরাতেন না।’ বুখারি। 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন কোনো নবী নেই যিনি ছাগল চরাতেন না। সাহাবিরা আরজ করলেন, আপনিও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমিও কয়েক কিরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছি।’ বুখারি। 

সব নবী-রাসুলের কোনো না কোনো পেশা ছিল, তাঁরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতেন না।  বরং স্বীয় হস্তে অর্জিত জিনিস ভক্ষণ করাকে পছন্দ করতেন।  মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজ করা এবং সৎ ব্যবসা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হালাল রুজি অর্জন করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।

উরওয়াহ আল-বারিকী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, উরওয়াহ আল-বারিকী (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীসরূপে বর্ণিত।  নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, উট তার মালিকের জন্য গৌরবের ধন, ছাগল-ভেড়া হলো বরকতপূর্ণ সম্পত্তি এবং কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ যুক্ত রয়েছে। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৩০৫। 

ট্যাগ: bdnewshour24 নবী