banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান রবীন, মাগুরা প্রতিনিধি: যেতে হবেনা জেলে, থাকবেন বাড়িতে, পড়বেন মুক্তিযুদ্ধের বই, দেখবেন সিনেমা, সদাচরন ও সংশোধনের জন্য সহায়ক এমনি অভিনব এক রায় দিয়েছেন মাগুরার বিচারিক আদালত। মাগুরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো. মোস্তফা পারভেজ মাদকের একটি মামলার অভিনব এ রায়ে দন্ডপ্রাপ্ত নয় জনকে কারাগারে না দিয়ে বাড়িতে থেকে মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া, সিনামা দেখা, গাছ লাগানোসহ সদাচরন ও সংশোধনের জন্য সহায়ক ৬ মাসের ব্যতিক্রমী এ রায় ঘোষনা করেন। কম বয়সী সাজাপ্রাপ্ত এ সকল অপরাধীদের জন্য কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর যেতে হবে না, নিজেদের বাড়িতেই সাজা খাটবেন তারা। এ জন্য মানতে হবে আদালতের আরোপিত বিশেষ কয়েকটি শর্ত।

সোমবার (৯মার্চ) বিকালে মাগুরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে বিচারক চাঞ্চল্যকর এই রায়টি দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রবেশন অফিসার মেহেতাজ আরা সালমার হেফাজতে তুলে দেন। 

ব্যতিক্রমী রায়ে দন্ডপ্রাপ্তদের ৬ মাসের এই প্রভেশনকালীন সময়ে বিচারক তাদেরকে ৭টি শর্ত পূরণের শর্ত দিয়েছেন।

সেগুলো হলো-  প্রবেশনকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত আসামি কোনরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন না বা একই ধরণের অপরাধ আর করবেন না, সর্বস্তরে শান্তি বজায় রাখবেন এবং ভাল ব্যবহার করবেন, আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন, কোনরূপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না, খারাপ কোন সঙ্গীর সঙ্গে মিশবেন না সেই সাথে প্রভেশনকালীন সময়ে আসামি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর বই জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলো, শাহরিয়ার কবিরের একাত্তরের যিশু, ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ, ডঃ আনিসুল হকের মা এই ৪টি বইসহ ইসলাম ও নৈতিকতার ওপর বই পড়বেন এবং চাষী নজরুল ইসলামের হাঙর নদী গ্রেনেড আর ওরা ১১জন সিনেমা দুইটি দেখবেন। প্রবেশনকালীন সময় আসামিরা চারপাশের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসাবে ২টি বনজ ও ৩টি ফলজসহ মোট ৫টি গাছ রোপণ করবেন। এই শর্ত ভঙ্গ করলে বা আচারন সন্তোষজনক না হলে প্রভেশন বাতিল করে ৩ মাসের কারাভোগ বরন করতে হবে। ব্যাতিক্রমী এই রায় সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাগুরা শহরের নতুন বাজার এলাকার অমি, অনিক সরকার, সৌরভ ঘোষ এবং সদর উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের মিলন, সোহেল, উজির বিশ্বাস, তুহিন, রাশেদ ও সুজন বিশ্বাস। এরা সবাই শিক্ষার্থী বয়স ২০ বছরের কম। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোনতাছের বিল্লাহ টুটুল জানান, ২০১৬ সালে ১২ ডিসেম্বরে মাগুরা পৌর এলাকার বাটিকাডাংগা গ্রামের একটি বাশঝাড় থেকে মাদক (গাজা) সেবন ও বিক্রির ঘটনায় সদর থানা পুলিশ নয় জনকে আসামি করে মাদকের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সাক্ষ্য প্রমান শেষে তারা দোষী প্রমানিত হলেও তাদের বয়স কম ও শিক্ষার্থী হওয়ায় ভবিষ্যৎ জীবনে সংশোধনের জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পরিবর্তে সংশোধনের জন্য দন্ডবিধির পরিবর্তে প্রভেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ৬ মাস সময়কালের জন্য ৭টি শর্তে প্রভেশন মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ বিচারক। প্রবেশনার কর্মকর্তা প্রতি দুইমাস অন্তর শর্ত প্রতিপালন ও অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট দাখিল করবেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ইফফাত আরা টুম্পা, এ রায় সমাজিকভাবে সুফল বয়ে আনবে এমন আশাবাদ ব্যাক্ত করে সন্তষ্টি প্রকাশ করে বলেন, এমন রায়ের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে চিহ্নিত অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থেকে আদালতের দেওয়া শর্ত মেনে নিজেকে সংশোধন করে জীবনের স্রোতে ফিরে যেতে সহযোগিতা করবে । কারাগারে পাঠানো হলে সংশোধন হওয়ার পরিবর্তে অভ্যাসগত অপরাধীদের সঙ্গে মিশে পুরাদস্তুর অপরাধী হওয়ার আশঙ্কা থাকত।এ রায় সমাজে ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলেই মনে করেন তিনি। 

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভেশন অফিসার মেহেতাজ আরা সালমা বলেন, এদের বয়স অল্প, সবায় পড়াশোনা করছে। আশা করছি তারা বিচারকের আরোপিত সব শর্তই পালন করবে। নিজেও তাদের সেই সহায়তা দেবেন বলে জানালেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২রা মার্চ সোমবার তারিখে পারিবারিক সহিংসতার একটি মামলায় ইব্রাহিম (২০) নামে এক যুবককে সদাচারনের জন্য সহায়ক অনুরূপ ৬ মাসের প্রভেশনে প্রেরনের সাজা ঘোষনা করেন মাগুরার মুখ্য বিচারিক আদালতের বিজ্ঞ হাকিম মোঃ জিয়াউর রহমান।
 

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা