banglanewspaper

শিশির কুমার সরকার, বেনাপোল : দীর্ঘ ৮ মাস যাবত নষ্ট থাকার পর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নতুন থার্মাল স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করে বুধবার সকাল থেকে বেনাপোল আর্ন্তজাতিক চেকপোস্টে স্বাস্থ্য বিভাগ তা পুনরায় সচল করলেন।

ভারত ভ্রমণ শেষে যেসব দেশী-বিদেশী পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন তাদেরকে অতিদ্রুত থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা যাবে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন কাস্টমসে আগমণী শাখায় বসানো থার্মাল স্ক্যানারের মনিটরটি দীর্ঘদিন নষ্ট থাকায় গত ১৭ জানুয়ারী থেকে করোনা সহ অন্যান্য ভাইরাস সনাক্তের জন্য হ্যান্ড থার্মাল দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছিলো। 

জানা যায়, থার্মাল স্ক্যানারটি অত্যন্ত আধুনিক মানের, এটা বাইরে থেকে প্রতিটি যাত্রীর তাপমাত্রা অটোমেটিক পদ্ধতিতে নির্ণয় করতে পারে। এছাড়াও যার তাপমাত্রা যত বেশী সেখানে তার শরীরের উপর হাই লেখা দেখায়।

বুধবার সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন এর আগমনী শাখায় যেয়ে দেখা যায় নতুন এই মেশিনটি সকল যাত্রীদের তাপমাত্রা অটোমেটিক নির্ণয় করছে।
দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর এবং আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট বেনাপোল দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত থাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ হাজার। এছাড়া পাসপোর্ট বাদেও এ পথ দিয়ে আসে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপাররা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন মেডিকেল টিমের ইনচার্জ হাসানুজ্জামান বলেন, এই মেশিন বাংলাদেশের মধ্যে শাহাজালাল বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল ইমিগ্রেশনে মাত্র স্থাপন করা হয়েছে। যার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রীর উপর তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আজিম উদ্দিন এর নিকট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আজিম উদ্দিন বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমসের স্বাস্থ্য বিভাগের থার্মাল স্ক্যানারের মনিটরটি দীর্ঘদিন নষ্ট থাকায় হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়েই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকালে একটি নতুন থার্মাল স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করায় বুধবার সকাল থেকে নতুন স্ক্যানার দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এছাড়া আমদানী রফতানি পণ্য বহণকারী ভারতীয় ট্রাকচালক, হেলপার ও রেলওয়ে ষ্টেশনে বন্ধন ট্রেনের পাসপোর্ট যাত্রীদের হ্যান্ড থার্মাল দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। 

উল্লেখ্য দেশের এই বৃহত্তম স্থল বন্দরে প্রতিদিন আমদানি পণ্য নিয়ে ভারত থেকে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ শত ট্রাক আসে এবং প্রতিটি ট্রাকের সাথে একজন চালক ও দুইজন হেলপার থাকে। এরাও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পণ্য নিয়ে এই বন্দরে প্রবেশ করে।

এ ছাড়াও সরাসরি ঢাকা-কোলকাতা কয়েকটি পরিবহন, বন্ধন এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন ও পণ্যবাহী ওয়াগান ট্রেনও আসে ভারত থেকে। তাই সচেতন মহল এসব গাড়ির চালকদের এবং যাত্রীদের পরীক্ষার ব্যাপারে জোর দাবি করে আসছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইমিগ্রেশনে থার্মাল স্ক্যানার চালু