banglanewspaper

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারে অবস্থিত সেবা ক্লিনিকে ভূঁয়া ডাক্তার হিসাবে বৃহস্পতিবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধরা খেলেন ক্লিনিকের  মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ অভিজ্ঞ ডা. এস এম মাহফুজ হোসেন। ডাক্তারী কোন নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সেবা ক্লিনিকে রুগি দেখছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঠিক এমনি একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ঐ ডাক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি খোরশেদ আলম চৌধূরী বলেন, অভিযানকালে দেখা যায় ডা. এসএম মাহফুজ হোসেন বিএম এ্যান্ড ডিসি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান করছেন মর্মে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আটক করার পর দেখানোর শর্তে রাত ১১টায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে বৃহস্পতিবার কাগজপত্র ঢাকা থেকে যাচাই বাছাই হয়ে আসে এবং বিকালে দেখা যায় তিনি ভারতের সুরাবালা মেডিকেল কলেজ থেকে ৫ বছর মেয়াদী এমবিবিএস কোর্স করেছেন কিন্তু তার কোন উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেন নাই। মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ অনুযায়ী একজন মেডিকেল চিকিৎসক নিবন্ধন ছাড়া এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করতে পারবেন না।

নিবন্ধন ছাড়া মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ অভিজ্ঞ হিসেবে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান করায় এসএম মাহফুজ হোসেনকে মেডিকেল এবং ডেন্টাল আইন ২০১০ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয় এবং বিএম এ্যান্ড ডিসির নিবন্ধনের পূর্বে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ধরণের কার্যক্রম থেকে নিজেকে বিরত রাখবো মর্মে অঙ্গীকার নামা নেওয়া হয়। সব ধরণের অনিয়ম দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃঞ্চনগর গ্রামের বাসিন্দা এই এসএম মাহফুজ হোসেন। ঝিনাইদহে প্রথমে একটি এনজিওতে চাকরী করার সুবাদে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হওয়ায় সে বাড়ি আসে।

পরে ২০০৭ সালে নাভারণে এসে সেবা ক্লিনিকে আলট্রাসনোর কাজ করতেন। এসময় তিনি ডাক্তার পরিচয়ে রিপোর্ট দেন। এক সময় তিনি হয়ে ওঠেন এমবিবিএস ডা. এসএম মাহফুজ হোসেন 

এখন তিনি একাধারে এমবিবিএস, পিজিটি (শিশু), পিজিটি (মেডিসিন), ডিপ্লোমা ইন আল্ট্রাসাউন্ড (ঢাকা), সনোলজিষ্ট ডিগ্রীর অধিকারী। এছাড়াও মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগে অভিজ্ঞ।

ট্যাগ: bdnewshour24 শার্শা