banglanewspaper

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। মৃত্যুর হার হার থেকে সুস্থ হচ্ছে বেশি। কোনো নিয়ম না মানার কারণে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের নেই কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক। এজন্য প্রয়োজন কিছু কিছু সতর্কমূলক পদক্ষেপ মেনে চলা দরকার।

যেমন জ্বর. কাশি, সর্দি বা ফুসফুসজনিত রোগ হলে তাৎক্ষণিক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাইরে থেকে এসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালভাবে হাত ধুতে হবে। অযথা চোখে মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যাতে ফুসফুসের মধ্যে কোনোভাবেই যেকোনো ভাইরাস যেতে না পারে।

যেহেতু করোনাভাইরাস প্রথমে মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এই ভাইরাস বংশ বিস্তার করে দেহের ফুসফুসের মধ্যে।

তাই আমাদের ফুসফুস আগে থেকেই শক্তিশালী করা দরকার। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখতেই পারেন যা আপনার ফুসফুস সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

আঙ্গুর

আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল এবং ভিটামিন রয়েছে, যা ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এই খাবারটি প্রতিদিনের ডায়েটে রাখতে পারেন। এটি ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপেল

আপেলে ফ্লাভোনয়েড নামে এমন এক ধরনের উপাদান রয়েছে, যেটি শ্বাসনালীর সিস্টেমকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এই খাবারটি ফুসফুসের নানা সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, সপ্তাহে যারা দুটি থেকে পাঁচটি আপেল খায়, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা ৩২ ভাগ কমে যায়।

বেদানা

ফুসফুসের নানা ক্ষতি এড়াতে এই খাবারটির জুড়ি মেলা ভার। কাজেই ফুসফুস ভালো রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

পেস্তা বাদাম

ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পেস্তা বাদামের তুলনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাবারটি ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে পেস্তা বাদাম।

গোলমরিচ

শ্বাসনালীর যে কোন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে গোলমরিচ। কাজেই ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত এই খাবারটি খান।

গাজর

গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিটা ক্যারোটিন শরীরে প্রবেশ করে ভিটামিন ‘এ’তে রূপান্তরিত হয়। আর এটি ফুসফুস পরিশুদ্ধ রাখতেও সহায়তা করে। ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিন গাজরের জুস খেতে পারেন।

টমেটো

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে টমেটো। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ টমেটো কোষ ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। এর মধ্যকার লাইকোপেন শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। ফলে বাতাসে থাকা দূষণ ও ধূলিকণার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তা রেহাই দেয়।

রসুন

রসুনে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার অ্যালিসিন রয়েছে । এগুলো প্রদাহের নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা সমাধানেও রসুন অনেক বেশি কার্যকরী। সেইসঙ্গে এটি ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়।

আদা

অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকায় আদাও ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে । এজন্য নিয়মিত আদা-চা খেতে পারেন। চাইলে এর সঙ্গে লেবুও যোগ করতে পারেন। এগুলো শ্বাসনালীর বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দিতে ভূমিকা রাখে।

হলুদ

রসুন এবং আদার মতো হলুদেও অ্যান্টি-আনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট রয়েছে, যা ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

বাদাম এবং মটরশুঁটি

প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় অ্যাজমা রোগীদের এসব খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের দক্ষতা উন্নত করতেও সাহায্য করে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ এবং সি রয়েছে। এই ভিটামিনগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শুধু তাই নয়, ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এটি।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ফ্রি রেডিক্যালসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। ফুসফুস ভালো রাখতে এ ফলটি খাওয়া যেতেই পারে।

কফি

যারা একেবারেই ক্যাফেইন নেন না তারা জেনে রাখুন, কালো কফি ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে। কারণ কফি পানের পর শ্বাসতন্ত্রের ক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত কফি পান করতে পারেন। তবে ২০০ মিলির বেশি কফি পান না করাই ভালো।

তবে যারা একেবারেই কফি পান করতে ইচ্ছুক নন, তারা প্রতিদিন সবুজ চা পান করতে পারেন। সবুজ চায়ে রয়েছে হালকা ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

তুলসি

ঠাণ্ডা-কাশি দূর করতে বহুকাল আগে থেকেই তুলসির ব্যবহার হয়ে আসছে। দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসকে রক্ষা করে তুলসিপাতা। রোজ তিন চা চামচ তুলসীপাতার রস খেলে শরীরের শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়।

ব্রকলি

ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি ব্রকলি ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়। এতে থাকা বিভিন্ন উপাদান ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ব্রকলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের হাত ফুসফুসকে রক্ষা করতেও ব্রকলি কার্যকরী।

বাঁধাকপি

ব্রকলির মতো বাঁধাকপিও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

মধু

এতে আছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’, ‘অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল’ ও প্রদাহনাশক গুণাবলী। যা ফুসফুস পরিষ্কার করে। প্রাচীনকাল থেকে হাঁপানি, যক্ষ্মা, গলার বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় মধু ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন এক চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে ফুসফুসের জন্য হবে উপকারী।

ট্যাগ: bdnewshour24 ফুসফুস আঙ্গুর