banglanewspaper

মাগুরায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৮১ জনকে হোম কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। তবে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেনটাইনে রাখতে রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্তু জেলায় চার উপজেলা বিদেশ থেকে আসা ৮১ জনকে হোম কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্ত্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে হোম কোয়ারেইটাইনে থাকা বিদেশ ফেরৎ ব্যাক্তিদের কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

তবে শহরের স্টেডিয়ামপাড়া, বরুনাতৈলসহ বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব, ইটালী ও বাহারাইন থেকে আসা একাধিক বিদেশ ফেরৎ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে হোম কোয়ারেনটাইন না মানার আভিযোগ উঠেছে। তারা যত্রতত্র বাসা থেকে বের হয়ে ঘুরছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, বরুনাতৈল ও স্টেডিয়াম পাড়ায় বিদেশ থেকে আসা একাধিক ব্যাক্তি হোম কোয়ারেনটাই না মেনে পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশা ও বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন, বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা । এ সকল অভিযোগরে ভিক্তিতে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের টিমসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। হোম কোয়ারেনটাইন অমন্যকারী ব্যাক্তি ও তাদের পবিরারের সদস্যদের এ বিষয়ে শর্তক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এর বাত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে অবহিত করেছেন ওই সব পরিবারকে। 

মাগুরা বরুনাতৈল এলাকায় সরেজমিনে সৌদি ফেরত হাসিবুল নামের এক ব্যেক্তির বাড়িতে গিয়ে জানা যায় প্রায় ১২ দিন আগে সৌদি প্রবাসী হাসিবুল ছুটিতে বাড়ি এসেছে। দুই সন্তানের জনক হাসিবুল সুস্থ স্বাভাবিক থাকায় বাইরে অবাদে চলাচল করছিলেন তিনি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন অফিসারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের টিম বাড়িতে এসে হাসিবুলকে হোম কোরায়েন্টিনে থাকার কঠোর নির্দেশনা প্রদানের পর থেকে সে ঘরে অবস্থান করছে বলে জানান হাসিবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, কয়দিন আগে হাসিবুল দেশে ফেরার পর থেকেই তার উন্মুক্ত চলাফেরায় শংকিত তারা। এ বিষয়ে  সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির দাবী জানান এলাকাবাসী।

শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদের পুত্র সম্প্রতি বিদেশ ফেরৎ প্রবাসী পরাগ আহামেদের বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যসহ তার  মা জানালেন, ১২ মার্চ দেশে ফিরেছে ছেলে পরাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে মাগুরা সিভিল সার্জন অন্তত ২৬ মার্চ পর্যন্তু হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাকে পরিবারের সকলের থেকে আলাদাভাবে থাকার জন্য সতর্ক করে কঠোর হুশিয়ারির পর থেকে ঘরেই আছে পরাগ। 

অপর দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১লা মার্চ হতে ১৮ মার্চ পর্যন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে মাগুরায় এসেছেন ২ হাজার ৩৪৮ জন। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৯১১ জন ভারত থেকে আর অন্যান্যরা  বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ বিদেশ ফেরৎ ব্যেক্তি তালিকার বাহিরে রয়েছেন। তবে ইমিগ্রেশন পুলিশের দেয়া তালিকা প্রাপ্তির পর তা স্থানীয় প্রশাসনসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে যাচাই বাছাই করে ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদিপ কুমার সাহা।

তবে করোনা প্রতিরোধে মাগুরায় একটি ও তিন উপজেলা তিনটি কোয়ারেনটাইন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ২০ বেডের ও তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ৫ শয্যার আইসলুশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।  

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মাগুরায় সকল প্রকার গনজমায়েত বন্ধের নির্দেশ দিয়ে গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন মাগুরা জেলা প্রশাসক ডক্টর মোঃ আশরাফুল আলম। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষে জেলা প্রশাসনসহ  সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে  একযোগে কাজ শুরু করেছেন তারা।  তিনি বলেন যে কোন মুল্যে বিদেশ ফেরৎদের হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় থাকা নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি জানান তিনি।  

ট্যাগ: bdnewshour24 করোনা করোনা ভাইরাস