banglanewspaper

চীন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যত বিজয়ী হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। কারণ, দেশটিতে গত চারদিনে স্থানীয়ভাবে মাত্র একজন আক্রান্ত হয়েছে। দেশটি যে পদ্ধতিতে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তা বাকি বিশ্বকে আশা দেখাচ্ছে বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে চীনের নেওয়া কৌশল অন্য দেশগুলোয় ব্যবহার করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর বেলায়।

 

বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানায়, চীনে গত চার দিন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত মাত্র একজন রোগী পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটির হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেখানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

 

যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ চীনের আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার তথ্য নিয়ে সন্দেহ করেছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়াসুস চীনের সফলতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের সফলতা বাকি বিশ্বের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

 

তবে চীনে এমন সফলতার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, তা অন্যান্য দেশ প্রয়োগ করতে পারবে কি না, তাও ভাবনার বিষয়। মূলত চীন কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশ, যেখানে যেকোনো ইস্যুতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ, লোকবলে রাতারাতি পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। চীনের যেসব বিষয় আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিক অবরুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, মাস্ক পরিধান, গণকোয়ারেন্টিন, সংহতি ইত্যাদি।

 

গত জানুয়ারি মাসে চীন উহান শহরকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়। শহরটির ১ কোটি ১১ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। এই প্রক্রিয়া পরে অনুসরণ করা হয় পুরো হুবেই প্রদেশের জন্যই। পাঁচ কোটি মানুষকে গণ–আইসোলেশনে পাঠায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে কঠোরভাবে বাড়িতে থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়।

 

পিকিং ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ হুবেই প্রদেশে কমপক্ষে ৪২ হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠায়। এ সময় ৩ হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হন এবং ১৩ জন মারা যান।

 

বিপুলসংখ্যক মানুষের ভাইরাসটি বহনের আশঙ্কার মধ্যে ব্যাপক হারে মাস্ক ব্যবহার ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। ফলে শহরগুলোতে ব্যাপকভাবে মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

ওই সময় চীন প্রতিদিন ১৬ লাখ মাস্ক উৎপাদন করেছে।

 

উচ্চপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশটিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের জন্য ফোনে কিউআর কোড দেখানোর ব্যবস্থা করে। যেটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতির ভিত্তিতে তাদের ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ এবং ‘লাল’ চিহ্ন দেখায়। এর মাধ্যমে নাগরিকদের দেখানো হয়, তাঁরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাচ্ছেন কি না।

 

এদিকে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৬০৩ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৬ জনের। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬১। চীনের বাইরে মারা গেছে ১১ হাজার ৩৫৫ জন। 

 

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৮০২ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৬৩৬ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৪ জন। 

 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৬ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১০ হাজার ৬৪০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

 

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। 

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 

ট্যাগ: bdnewshour24