banglanewspaper

করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩১১ জনে। সংখ্যার দিক থেকে স্পেন ইতালি ও চীনের পর অর্থাৎ ৩য় অবস্থানে রয়েছে। 

এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৩৬৮ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৫৫ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। দেশটিতে বর্তমানে ২৯ হাজার ৪৭০ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ১১৫ জনের অবস্থা সাধারণ। ২ হাজার ৩৫৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা সবাই আইসিউতে রয়েছেন। 

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির পরই স্পেনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদ্রিদের একটি হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে শত শত মানুষ বারান্দায়, ব্যালকনিতে কিংবা হাসপাতাল কক্ষের সামনে শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হাঁচি-কাশি দিচ্ছেন, অনেকেই অক্সিজেন নিচ্ছেন।

এছাড়া আরও শত শত মানুষকে হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যারা চিকিৎসা নেয়ার জন্য মাদ্রিদের ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে স্পেন। হাসপাতাল কর্মীদের সংগঠন জেনারেল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কারের নেতা জাভিয়ার গার্সিয়া স্থানীয় দৈনিক এল মুন্ডকে বলেন, হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝেতে অথবা প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছেন।

একদিন আগে রবিবার দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯১ জন মারা যান এবং নতুন করে আক্রান্ত হন কমপক্ষে ৩ হাজার ২৭২ জন। 

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৬৮ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই ৬০১ জন। 
 
এ নিয়ে করোনায় সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৫০৯ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৭৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৩ হাজার ২৩২ জন। 
 
এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৩৪০ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৬৪ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৫৮ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৬ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৪ জনের অবস্থা সাধারণ। ১২ হাজার ৬৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা সবাই আইসিউতে রয়েছেন। 
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।  
 
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
 

ট্যাগ: bdnewshour24