banglanewspaper

থমকে গেছে বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গন। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও স্থবির। সব রকম খেলাধুলা আপাতত স্থগিত করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর আর আয়ারল্যান্ড সফর ঝুলে গেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগও অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ক্রিকেটাররাও তাই গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু, এর মধ্যেও তো ধরে রাখতে হবে ফিটনেস। ফরমে মরচে ধরতে দেওয়া যাবে না। তাহলে উপায় কি? ঘরে বসেই কীভাবে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া যায়?

উপায়টা বাতলে দিলেন শাহরিয়ার নাফিস। জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় জানালেন, এই সময়ে নিজেকে ক্রিকেটে ব্যস্ত রাখার সবচেয়ে ভালো কৌশল হতে পারে ‘শ্যাডো প্র্যাকটিস’।

তিনি বলেন, ‘ছোটোবেলায় ক্রিকেট কোচিংয়ে ওয়াহিদ স্যার (ওয়াহিদুল গনি) বারবার বলতেন শ্যাডো প্র্যাকটিসের কথা। স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তখন কথাটা ভালো লাগতো না, বারবার একই কাজ করতে ইচ্ছাও করতো না। গত কয়েক দিনে আমি এটা করে চেষ্টা করছি নিজের সমস্যাগুলো শুধরে নিতে।’

জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার জানালেন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শ্যাডো অনুশীলনের কথা। তিনি বলেন, ‘সবার বাসাতেই আয়না আছে। প্রতিদিন যদি আমরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটা শট খেলার অনুশীলন করতে পারি তাহলে আমাদের ইমপ্রুভ হতে পারে। কতদিন বাসায় থাকতে হবে তা তো আর আমরা জানি না। এই প্রক্রিয়াতে আমরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একই শট বারবার খেলব আর নিজেদের শরীরের অবস্থানটা বুঝব। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন করাটা খুবই অ্যানালগ একটা প্রক্রিয়া, কিন্তু এখনকার অবস্থার জন্য খুবই কার্যকর হতে পারে এই প্রক্রিয়া।’

জাতীয় দলের হয়ে ১৪টি টেস্ট, ৭৫টি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলা নাফিস মনে করেন, শ্যাডো ব্যাটিং তরুণ ক্রিকেটারদের ব্যাটিং টেকনিকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, ‘ছোটোবেলায় স্যারদের এই পরামর্শ আরো ভালোভাবে মানলে হয়তো এখন টেকনিক্যালি আরো ভালো ব্যাটসম্যান হতে পারতাম। আমি মনে করি এখনো তরুণদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন নাফিস। এখনো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। শোনা যাচ্ছে, তাকে নির্বাচক প্যানেলে রাখার কথা ভাবছে বিসিবি।

ট্যাগ: bdnewshour24