banglanewspaper

চলমান করোনাভাইরাসের দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা পেতে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসায় থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আর সেকারণেই একসঙ্গে যাতে দুজন চলাচল না করে-এই নির্দেশনা মানাতে আজ বুধবার সকাল থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন সেনারা। [ads]

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। সেখানে জানানো হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে চারটি ক্যাম্প ও ১৭টি সাব ক্যাম্পের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে সশস্ত্র বাহিনী।

উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কাজ করবে নৌবাহিনী। জরুরি ওষুধ সরবরাহ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে বিমানবাহিনী। আর শহরগুলোতে সার্বিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না সাধারণ মানুষ। এখনো তেমন কারও মধ্যে আসেনি সচেতনতা। স্বাভাবিক সময়ের মতোই সবাই রাস্তায় চলাচল করছে। বিদেশফেরত কেউই মানছে না হোম কোয়ারেন্টাইন। ইচ্ছে মতো করছে ঘোরাফেরা।

এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারাদেশে মাঠ পর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। [ads]

জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো শতভাগ সফল করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইন প্রতিষ্ঠিত করতে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের গণজমায়েত বন্ধে বিভিন্ন জনসচেতনতা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বাজারে নিত্যপণ্য ও খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসকে সাহায্য করবে সেনাবাহিনী। বাজার, ওষুধের দোকান, মুদি দোকান, হোটেল ছাড়া সব কিছু বন্ধ থাকবে। বিনা প্রয়োজনে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না। বের হলে অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বুধবার থেকে গণজমায়েতের কোনো সুযোগ নেয়। কেউ কারো সংস্পর্কে আসতে পারবে না। কেউ কারো কাছে আসবে না। এটা দূর করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে কেউ যেন বাসা থেকে বের না হয়। তবে অনেকের চিকিৎসা, বাজার বা ওষুধ লাগতে পারে। কিন্তু শুধু শুধু চায়ের দোকানে বসে থাকবো, গল্প করব এটা করতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা ছাড়াও বাইরের জেলা শহরের বাইরেও এসব নির্দেশনা মানাতে বৈঠক করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা। [ads]

এদিকে, সোমবার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি ঘোষণা পর থেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে নৌ-পরিবহন, ট্রেন, বাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রাণসংহারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ভাইরাস নিয়ে কাউকে আতঙ্কিত না হতেও অনুরোধ জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24

জাতীয়
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ফলে দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে আর কেউ থামাতে পারবে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আধুনিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানভিত্তিক জাতি হিসেবে দেশকে গড়ে তোলাই তার সরকারের লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার সকালে রংপুর বিভাগীয় সদরদপ্তর কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বিভাগীয় কমপ্লেক্স মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ এবং আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে হবে, এ লক্ষ্যে আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ২০১০ থেকে ২০২০ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেছি। আজকে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্য ২০২১ থেকে ২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি সেটাও বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা আর কেউ ভবিষ্যতে থামাতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গঠন করে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে চাই, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজকে সারবিশ্বে উন্নয়নের একটা রোল মডেল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ক্ষয়ক্ষমতা বেড়েছে। মানুষ অনেক সচ্ছল হবার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আমরা চাই আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে জাতির পিতা এদেশকে নিয়ে এ দেশের মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন- ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন, আমাদের লক্ষ্য আমরা সেটাই গড়তে চাই।

এদেশে আর কখনো যেন মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ দেখা না দেয় এবং এ দেশের মানুষ যেন আর কোনো কষ্ট না পায়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসার উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। সেখান থেকে ৩০ পদের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটি গ্রামকে সরকার আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলবে। যাতে গ্রামের মানুষ গামে বসবাস করলেও সবধরনের নাগরিক সুবিধা পেতে পারে। মানুষকে আর কোথাও ছুটোছুটি করতে হবে না, গ্রামেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সেজন্য ‘আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচি’ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার রংপুর এবং আশপাশের জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করছে এবং যমুনার ওপর পৃথক রেল সেতু নির্মাণ করছে। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত রেলের ব্যবস্থা করছি, চারলেনের ঢাকা রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনের করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগীয় সড়ককে আমরা চারলেনের করে দিচ্ছি আর হাইওয়ে ছয় লেনের করে দিচ্ছি। রংপুরসহ সকল বিভাগে ফুপ টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সরকারি সবগুলো দপ্তর যেন এক জায়গা থেকে মানুষকে সেবা দিতে পারে সেজন্য আজকে রংপুরে অত্যাধুনিক বিভাগীয় কমপ্লেক্স করে দেওয়া হলো।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ট্যাগ:

জাতীয়
কোনো গোষ্ঠী যেন স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে পারে: রাষ্ট্রপতি

banglanewspaper

গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে দল, মত, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে আপামর জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ধর্মের নামে কোনো গোষ্ঠী যেন দেশের চলমান স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারেও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

রবিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন এবং ২০২২ সালের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তাদের সকল প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু জাতীয় সংসদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল মহান স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তেও সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি এ মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সবাইর পবিত্র কর্তব্য।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে সরকারের বিগত দিনের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী এ ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে এর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অন্যান্য অধিবেশনের মতো চলতি অধিবেশনও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় চার নেতা এবং অমর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আবদুল হামিদ বলেন, তাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সাল ছিল বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক অবিস্মরণীয় বছর। এ বছরেই জাতি উদ্যাপন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি সহকারে স্ব-স্ব ধর্ম চর্চা করতে পারে সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবসমূহ নির্বিঘ্নে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হচ্ছে। তথাপিও ধর্মের নামে কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে সে দিকে সবাইর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে তারই যোগ্য উত্তরসুরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আজ বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানসহ বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রশিক্ষণ কারিক্যুলাম প্রস্তুত, বিদ্যমান কারিক্যুলাম যুগোপযোগীকরণ এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সার্টিফায়েড দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

তিনি বিগত দেড় দশকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি সকল সরকারি অর্থের অপচয় রোধপূর্বক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার তাগিদ দেন।

তিনি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন শতভাগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি (মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন),পরিবেশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, নারী ও শিশু উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কর্মকাণ্ড ও অর্জনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদের সুপরিকল্পিত দিকনির্দেশনায় দেশ বহির্বিশ্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসাবে সুপরিচিত। বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর মাধ্যমে সকল সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। বর্তমানে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


আবদুল হামিদ বলেন, যদিও করোনা মহামারির কারণে উৎসব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। তারপরও সাড়ম্বরে দেশে ও দেশের বাইরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে বন্ধু দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ অংশগ্রহণ, অনেক বন্ধু দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে অনুষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি ও আনন্দ-উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের নবম দেশ হিসাবে ১২ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে বাংলাদেশ ৫-জি নেটওয়ার্ক যুগে প্রবেশ করেছে। ৫-জি সহজলভ্যতার কারণে প্রচলিত অনলাইনভিত্তিক সকল কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল হবে। স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বিশাল অর্জন।

হামিদ বলেন, করোনাকালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভা-বৈঠক, আদালতের কার্যক্রম, অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভ্যাকসিন কার্যক্রমসহ প্রায় সবকিছুই চলমান রাখা সম্ভব হয়েছে। দেশের ১৮ হাজার ৫০০ সরকারি অফিস ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে এবং দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আট হাজার ১৭৭টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৬০ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ তথ্য সেবা দেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ই-নথির মাধ্যমে ১১ হাজার ৩৭০টি সরকারি অফিসে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাই-টেক পার্ক, আইটি পার্ক এবং শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেণ্টারে মোট ১০৩টি অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি অবকাঠামোতে ইতিমধ্যে ১২০টি প্রতিষ্ঠান ৫৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এবং এ পর্যন্ত ২০ লক্ষ মানুষের প্রযুক্তি-নির্ভর কর্মসংস্থান হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, অনলাইন ভূমি-উন্নয়ন কর, ই-নামজারি, ডিজিটাল রেকর্ডরুম, হটলাইন-সেবা, ই-রেজিস্ট্রেশন-মিউটেশন সংযোগ, সায়রাত ও অধিগ্রহণকৃত জমির ডেটাবেজ, রাজস্ব আদালতে অনলাইন শুনানি, সিভিল স্যুট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং এনআইডি ভেরিফিকেশন ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে।

আবদুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের কারণে বিগত দুবছর জনসাধারণের জীবন-জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়। করোনার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্ব, অনুপ্রেরণা ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোনা এবং এর অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। তবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন যাতে বাংলাদেশে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে সেজন্য সরকারকে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে নানামুখী আর্থসামাজিক ও বিনিয়োগধর্মী প্রকল্প, কর্মসূচি এবং কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ইতিমধ্যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জিডিপির ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির তুলনায় সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক চার-তিন শতাংশে, যা আশাব্যঞ্জক।

আবদুল হামিদ বলেন, রেমিটেন্স প্রেরণে নগদ প্রণোদনা এবং পদ্ধতি সহজীকরণের সুফল হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক সাত-আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ দশমিক দুই-ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিংঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণে সময়োপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগের ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে নিট সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল দুই হাজার ৫০৭ দশমিক তিন-এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ২৮-২৯ নভেম্বর ২০২১ মেয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ২৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

তিনি দেশে ব্যাপক শিল্পায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য মোট ১৯৩টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সরকার মোট সাত হাজার ৩২৫ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিনিয়োগের ফলে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানব-উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক আট বছর, অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর এবং অনূর্ধ্ব এক বছর বয়সী শিশু মৃত্যুহার হ্রাস পেয়ে প্রতি হাজারে যথাক্রমে ২৮ জনে এবং ১৫ জনে নেমে এসেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলন, প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের রাষ্ট্রীয় সফর এবং বিদেশে নানাবিধ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক-সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, রূপকল্প ২০২১-এর সফল বাস্তবায়ন শেষে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত পরিবর্তন বিবেচনা করে প্রণীত বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর আওতায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০৩১ সালে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে চাই আমরা।

আবদুল হামিদ বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগাতে হলে জনমিতির সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে। সূত্র: বাসস

ট্যাগ:

জাতীয়
এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি শনাক্ত, মৃত্যু ৮

banglanewspaper

দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। গত এক দিনে শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ হাজার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২২২ জন, যাতে শনাক্তের হার সতেরোর ওপরে উঠেছে। আর গত এক দিনে মারা গেছেন ৮ জন।

রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত এক দিনে ২৯ হাজার ৩০৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হন ৫ হাজার ২২২ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৭.৮২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত ১৬ লাখ ১৭ হাজার ১৭৭ জন, যাতে মোট শনাক্তের হার ১৩.৬৪ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ২৯৩ জন। এনিয়ে মোট সুস্থ ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত এক দিনে করোনা মারা গেছেন ৮ জন। এদের ৫ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ১৪৪ জনের।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। এরপর থেকে মাঝখানে দুই দিন কেটেছে মৃত্যুহীন। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত চরম আকার ধারণ করলেও সেপ্টেম্বর থেকে তা কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অব্যাহতভাবে বাড়ছে সংক্রমণ।

ইতিমধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন দেশেও শনাক্ত হয়েছে। ১০ জনের শরীরে নতুন এই ভেরিয়েন্টটি ধরা পড়েছে। অতি দ্রুত সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভেরিয়েন্টটি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইতোমধ্যে নানান বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।

ট্যাগ:

জাতীয়
দল, নেত্রী ও নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ: আইভী

banglanewspaper

বিপুল ভোটের ব্যবধানে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজ দল ও নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

রবিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। আমি আমার দল আওয়ামী লীগ, দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সর্বোপরি নারায়ণগঞ্জের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ।’

আইভী বলেন, ‘অনেক ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।’

মেয়র পদে হ্যাটট্রিক করা আইভী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, যতই গর্জন হোক, ভোটের দিন নারায়ণগঞ্জের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে। আর সেটাই হয়েছে।’

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আমার এই জয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারও খুশি হবেন। কারণ, চুনকার (আলী আহম্মদ চুনকা, আইভীর বাবা) মেয়ের বিজয় মানে তৈমূরের বিজয়। যতদিন বেঁচে আছি আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থাকবো এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করে যাবো।’

১৯২টি কেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতীকে আইভী পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট। ৬৯ হাজার ১০২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

এর আগে ২০১১ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আইভী। ২০১৬ সালে এই সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে তিনি পরাজিত করেন।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়ে আইভী নারায়ণগঞ্জে নিজেকে নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। সিটি করপোরেশন হওয়ার আগে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী মেয়র হিসেবে চমক সৃষ্টি করেছিলেন আইভী।

ট্যাগ:

জাতীয়
করোনায় আক্রান্ত পানিসম্পদ উপমন্ত্রী শামীম

banglanewspaper

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

রবিবার উপমন্ত্রী শামীম করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন।

করোনা পজিটিভ এলেও এনামুল হক শামীম শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম। বর্তমানে বাসায় আইসোলেশনে আছেন উপমন্ত্রী।

এনামুল হক শামীমের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার ভাই আশ্রাফুল হক সিয়াম।

ট্যাগ: