banglanewspaper

নেপালের প্রথম করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন ৩২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। যিনি চীনের উহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা করছিলেন। সম্পূর্ণ সুস্থ এ ব্যক্তির অন্য কোনো বড় অসুখে ভোগার কোনো পূর্ব ইতিহাসও নেই।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি প্রথম তার শরীরে কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। এর ছয়দিন পর নিজ দেশে ফিরেন ওই শিক্ষার্থী। ১৩ জানুয়ারি কাঠমান্ডুর সুকরারাজ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ হসপিটালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। সে সময় তার দেহের তাপমাত্রা খুব একটা বেশিও ছিল না। ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। আর সাথে ছিল শুকনো কাশি। 

এছাড়া আর কোনো লক্ষণের উপস্থিতি ছিল না। উহানের ওয়েটমার্কেটের সঙ্গেও তার কোনো সংস্রব পাওয়া যায়নি। এর পরও সন্দেহ হওয়ায় তার গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে হংকংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। সেখানে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর অ্যাসে পরীক্ষা করানোর পর ধরা পড়ে ওই শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত।

পরে দ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশকিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয় তার। ভর্তির ৬ ঘণ্টা পর তার মধ্যে মৃদু শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কমে যায় অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা। ভর্তির সময়ে করানো বুকের রেডিওগ্রাফি চিত্রে দেখা যায়, ফুসফুসের বাম দিকের ওপরের অংশ মারাত্মকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। পরদিন ১৪ জানুয়ারি তার দেহের তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। ১৫ জানুয়ারি একেবারে শ্বাস গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। ওইদিনই ফুসফুসের ডান দিকের নিচের অংশে ঘড়ঘড়ে ভাব চলে আসে (ক্রেপিটেশন) তার। 

পরে ১৬ জানুয়ারি থেকে তার পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সে সময় তার দেহে আর জ্বরের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরি টেস্টে আর কোনো অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া না যাওয়ায় পরদিনই স্বেচ্ছা ঘরবন্দিত্বের উপদেশ দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর ২৯ ও ৩১ জানুয়ারি ফলোআপ পরীক্ষা চালিয়ে তার শরীরে করোনা পাওয়া যায়নি।

নেপালের প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর সংক্রমণ খুব একটা মারাত্মক কিছু ছিল না। পূর্ণ পরিচর্যা ও যথোপযুক্ত চিকিৎসার পরও তাকে সুস্থ করতে সময় লেগেছে ১৩ দিন।

ওই শিক্ষার্থীর পর নেপালে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মাত্র তিনজন। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মোট রোগী পাওয়া গেছে সাকুল্যে চারজন।

বিষয়টি অনেকটা আশ্চর্যজনক। কারণ যেখানে উহানে প্রথম সংক্রমণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নেপালে প্রথম কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, সেখানে পরের দুই মাসে আর মাত্র তিনজন শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা।

অনেকেই দাবি করে থাকেন, নেপালিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক বেশি। তার পরও করোনা সংক্রমণের এ তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে খোদ দেশটির অভ্যন্তরেই। এ নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল ডিভিশনের সাবেক পরিচালক বাবুরাম মারাসিনির বলেন, কভিড-১৯-এর ঘটনা কম থাকার বিষয়ে গোটা বিশ্বই এখন নেপাল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর আগেও চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া দুই মহামারী—২০০২ সালের সার্স এবং এইচ১এন১ (এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা) সংক্রমণের সময়েও নেপালে মৃত্যুর তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছিল মাত্র তিনজনের নাম। 

মারাসিনি জানান, আমার ধারণা, যদি এখানে কার্যকর একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু থাকত তাহলে কভিড-১৯-এর আরো ঘটনা সামনে আসত।স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এরই মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে নেপালি হাসপাতালগুলোয় ভর্তি রোগীদের পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

বাবুরাম মারাসিনি বলেন, যদি গত বছরের এ ধরনের রোগীর সংখ্যার সঙ্গে এ বছরের তথ্য তুলনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে এবার এ সংখ্যা বেড়েছে। করোনা ভাইরাস যে নেপালে বিদ্যমান, এটিই হলো তার পরোক্ষ প্রমাণ।

অন্যদিকে দেশটির সেন্টার ফর মলিকিউলার ডায়নামিকসের কর্মকর্তা সমীর দীক্ষিত জানান, তিনি এরই মধ্যে এ দুই বছরের সংখ্যা তুলনা করে দেখেছেন। এবং এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল ডিভিশনের তথ্যেও ফ্লু-জাতীয় রোগীর সংখ্যা বাড়েনি। 

প্রসঙ্গত, দেশটির ২০-২৫টি সরকারি, বেসরকারি ও কমিউনিটি হাসপাতাল প্রাক-সতর্কতা ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়ার আওতায় এপিডেমিওলজি অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল ডিভিশনে এ ধরনের রোগীর তথ্য সরবরাহ করে থাকে। [ads]

অন্যদিকে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা সামনে তুলে ধরে সমীর দীক্ষিত বলেন, কভিড-১৯-এ যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে মারাত্মক পরিস্থিতিতে গেছেন মাত্র ১০-১৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত কমসংখ্যক পরীক্ষা করানোর বিষয়টি একটি বড় ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু আপনারা কি মনে করেন না, যদি এটি সেভাবে ছড়িয়েই পড়ত; তাহলে বয়স্কদের মধ্যে মারাত্মক অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ভয়াবহ হারে বেড়ে যেত? কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় আমিও ভেবে অবাক হই, কেন হচ্ছে না? এবং এটি আমাকে ভাবিয়েই মারছে।

ইমিউনোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির পোস্টগ্র্যাজুয়েট সমীর দীক্ষিতের বিশ্বাস, মানুষ ভয়াবহ পর্যায়ে আক্রান্ত না হওয়ার কারণ হচ্ছে, নেপালে ভাইরাসটির স্ট্রেইন তুলনামূলক দুর্বল এবং/অথবা নেপালিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, পরীক্ষা না করানোটাও আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়ার একটি বড় কারণ হতে পারে। আমি মনে করি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নয়নশীল দেশগুলোয় একটি বড় ভূমিকা রাখছে। আমি জানি এটি শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, অনেকে শুনে হাসতেও পারেন, কিন্তু এ নিয়ে এক ধরনের হাইজিন হাইপোথিসিস (পরিচ্ছন্নতার তত্ত্ব) রয়েছে।

এ তত্ত্ব বলছে, যারা তুলনামূলক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক বেশি হয়। তবে ভাইরাসজনিত মহামারীর ক্ষেত্রে এ ধরনের তত্ত্বের সত্যতা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি এখনো বলে জানালেন সমীর দীক্ষিত। তবে এর স্বপক্ষে আগেকার কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন তিনি।

এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এইচ১এন১ মহামারীর সময়ে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ৭০ থেকে ১৪০ কোটি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে দেড় লাখ থেকে ছয় লাখ মানুষের। অন্যদিকে নেপালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৭৩ জন। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

এর আগে ২০০৩ সালের সার্স মহামারীর সময়েও নেপালে এ রোগে কেউ আক্রান্ত হওয়ার বা মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে নেপালিদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার তত্ত্বকে সরাসরি বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির পাতান হাসপাতালের চিকিত্সক বুদ্ধ বাসনিয়াত। তার মতে, আমরা যে কোনোভাবে রোগ প্রতিরোধী, তা এ মুহূর্তে ভাবাটাই বোকামি। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আমি মনে করি, এটি এক ধরনের অনুমাননির্ভর ভিত্তিহীন ধারণা। [ads]

তিনি বলেন, আশা করি এখানে মহামারীর প্রকোপ দেখা দেবে না। আমি আশা করি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে এসব তত্ত্ব সত্যি প্রমাণ হোক। কিন্তু এটি কোনো একবার প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে চলে যাওয়া ভাইরাস নয় বলে আমার আশঙ্কা। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমনিতেই বেশ দুর্বল। আমি মনে করি, আমাদের এখন দুর্যোগ মোকাবেলার পরিকল্পনা করা উচিত।

ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত হলেও গণহারে করোনা পরীক্ষা করানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করছেন না সমীর দীক্ষিত। তিনি বলেন, নেপালের মতো উন্নয়নশীল দেশের পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য সীমিত। ৮০-৮৫ শতাংশের মতো লোক, যাদের মধ্যে মৃদু লক্ষণ দেখা দেবে; তাদের সবাইকে পরীক্ষা করানোর সম্ভাব্যতা ধোপে টেকানো মুশকিল। এদের আমরা খুঁজে পাব কীভাবে। এক্ষেত্রে একটা কাজ করা যায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করানো, কিন্তু সেটা কতটা বাস্তবসম্মত। আমাদের জীবন বাঁচানো প্রয়োজন। গোয়েন্দাগিরি নয়।

সমীর দীক্ষিতের পরামর্শ, এ মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ১০-১৫ শতাংশকে শনাক্ত করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়া কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির পর ভুলবশত ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ এ-তে আক্রান্ত রোগী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। [ads]

হিমালয়কন্যা নেপালে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী সেভাবে শনাক্ত না হলেও, এ-সংক্রান্ত কিট, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি দিয়ে দেশটিকে সহায়তা করছে তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে বিষয়টি। এক্ষেত্রে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে দেশটিকে কাছে টানার কৌশলই মুখ্য ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর ল্যানসেট, নেপালি টাইমস।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ২৭২ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ হাজার ৩৪০ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৯২। চীনের বাইরে মারা গেছে ২৪ হাজার ৪৮ জন। [ads] 
 
বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজার ৪৮৬ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭২৩ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৫ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৩৪০ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৩ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ১৬ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ১২ হাজার ৪৯৩ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৩ হাজার ৫২৩ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেয়াসুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। 

ট্যাগ: bdnewshour24

আন্তর্জাতিক
করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ উদ্বেগের: ডব্লিউএইচও

banglanewspaper

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। যার নাম রাখা হয়েছে ‘ওমিক্রন’। প্রাথমিকভাবে এটির নাম দেওয়া হয়েছিল বি.১.১.৫২৯ । ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্থানীয় সময় শুক্রবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে ইউরোপের দেশগুলোতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই শনাক্ত হলো ওমিক্রন। 

নতুন শনাক্ত হওয়া ধরনটিকে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলা করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহামারির শুরুর দিকে তুলনামূলক দুর্বল আলফা, বেটা ও গামা ধরনও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

ডব্লিউএইচও বিবৃতিতে বলা হয়, সামনে আসা নানা প্রমাণ করোনা মহামারি ক্ষতিকর দিকে মোড় নেওয়ার আভাস দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন। 

প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন শনাক্ত হওয়া ধরনটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ধরনটির সংক্রমণের ক্ষমতা এবং শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এনেছে কিনা তা এ সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি করোনার প্রচলিত চিকিৎসা ও টিকার ওপর কোনো প্রভাব আসবে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ধরনটি।

এদিকে ওমিক্রন শনাক্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন করে ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচলের ওপর জরুরিভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো। এর পরপরই একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। আফ্রিকার ছয়টি দেশ থেকে বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্যও।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন' : নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

banglanewspaper

করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন'-এর সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর এ জরুরি অবস্থা শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।

নিউইয়র্ক গভর্নরের আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোছুল বলেছেন, 'ওমিক্রন এখনো নিউইয়র্কে শনাক্ত হয়নি। তবে হাসপাতালে জরুরি প্রয়োজন নয় এমন এবং কম জরুরি পদ্ধতিগুলো সীমিত করতে একটি জরুরি নির্বাহী আদেশে সই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে স্বল্পসময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরবরাহের বিষয়টিও থাকছে।'

করোনার নতুন ধরন প্রথম শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বি.১.১.৫২৯ নামে ডাকা হচ্ছিল। ধরনটিকে 'উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে 'ওমিক্রন'। প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
এক ডোজ টিকা নিয়েই সৌদি আরব যাওয়া যাবে

banglanewspaper

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সৌদি আরবে ভ্রমণসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা সামনে এনেছে দেশটির সরকার। করোনার টিকার কমপক্ষে একটি ডোজ নেওয়া থাকলে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া যাবে। আগামী শনিবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। খবর রয়টার্স।

গতকাল শনিবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনাটি জারি করা হয়। এর আগের দিনই করোনার নতুন ধরনটি নিয়ে শঙ্কার মুখে আফ্রিকার সাতটি দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে সৌদি সরকার। তবে নতুন নির্দেশনায় ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

গতকালের নির্দেশনায় সৌদি মন্ত্রণালয় জানায়, করোনার টিকার একটি ডোজ নেওয়া থাকলেই আগামী শনিবার থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সৌদি আরবে ঢোকার অনুমতি মিলবে। তবে দেশটিতে ঢোকার পর তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সবশেষ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালিতে নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ডব্লিউএইচও বলছে, করোনার ওমিক্রন ধরনের অনেক বেশি মিউটেশন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু উদ্বেগজনক। করোনার নতুন ধরনের খবর মেলার পর আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোয় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা ও নানা বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করবে না তালেবান

banglanewspaper

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেছেন, তার সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। গতকাল শনিবার হাসান আখুন্দ এ প্রতিশ্রুতি দেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা হাসান আখুন্দের অডিও বক্তব্য গতকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। কাতারের দোহায় আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ বৈঠক সামনে রেখে হাসান আখুন্দ ভাষণ দিলেন।

গত মধ্য আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। পরের মাসে তারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। তালেবানের সরকার গঠনের পর এই প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন হাসান আখুন্দ।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩০ মিনিট ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘সব দেশকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। আমরা তাদের সঙ্গে ভালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।’

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর আফগান জনগণের সংকট আরও বেড়েছে। তালেবান সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ জাতির উদ্দেশে ভাষণ না দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছিল।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমস্যায় নিমজ্জিত। আমরা আল্লাহর সাহায্যে আমাদের জনগণকে দুঃখকষ্ট-কষ্ট থেকে বের করে আনার শক্তি অর্জনের চেষ্টা করছি।’

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে সহায়তা প্রদান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাসান আখুন্দ।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাকে তাদের সাহায্য বন্ধ না করার জন্য বলছি। আমাদের ক্ষয়প্রাপ্ত জাতিকে সাহায্য করার জন্য বলছি, যাতে জনগণের সমস্যার সমাধান করা যায়।

হাসান আখুন্দ জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তান যেসব সমস্যার সম্মুখীন, তা দেশটির বিগত সরকারগুলোর কর্মফল।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
এবার মেঘালয়ে মমতার তৃণমূলের ম্যাজিক!

banglanewspaper

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবার মেঘালয় রাজ্যে বড় ম্যাজিক দেখালো। এক লাফে সেখানকার প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেল তৃণমূল। কারণ কংগ্রেসের ১২ জন বিধায়ক একসঙ্গে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। ফলে রাতারাতি কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে সামনের সারিতে উঠে এলো মমতার দল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যায় মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এক ডজন বিধায়কের দলবদলের ফলে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ছয়জনে।

২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল। বর্তমানে তিনি ওই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। কিন্তু মুকুল হঠাৎ কেন কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? সূত্রের খবর, মাস-দেড়েক আগেই তার বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা লোকসভার সাংসদ ভিনসেন্ট পালাকে মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছে। তাতে ক্ষুব্ধ হন তিনি। এমনকি কিছুদিন ধরে কংগ্রেসের অন্দরে মুকুল কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর।

এদিকে তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মুকুলের ভালো সম্পর্ক‌। সেই সূত্রে মুকুলকে ঘুঁটি করে ১২ বিধায়ক পকেটে পুরে নেওয়ার কাজ করেছেন পিকে। কিছুদিন আগে কলকাতাও ঘুরে গিয়েছেন মুকুল। সেই সময় তৃণমূলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছিল।

২০২৪ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট রাজ্যগুলোতে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানো টার্গেট নিয়েছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। সেখানেও প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

ট্যাগ: