banglanewspaper

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে করোনা সন্দেহে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে আসা যুবক আল আমিন (২২) মারা গেছেন। শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

করোনা আক্রান্তে না যুবক আল আমিন মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। রবিবার সকাল ১১ টার দিকে নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহত যুবক আল আমিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের অলঙ্কারদীঘি গ্রামের কৃষক মকলেছুর রহমানের ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ করোনা ভাইরাস সন্দেহে তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন যুবক আল আমিন। 

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন বাড়িতে ভারি ভার্জন কোন কাজ করতে পারতো না। তার বাবা একজন কৃষক। পেটের তাগিদে প্রায় ৩-৪ বছর আগে থেকে ঢাকার নারায়নগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসাবে কাজ করতেন তিনি। গত কয়েক দিন আগে থেকেই আল আমিন জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ ছিলেন।

শনিবার সাকালে তিনি প্রচন্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা নারায়নগঞ্জ থেকে রাণীনগরে আসেন। এ সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের কর্তিপয় কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। চিকিৎসার জন্য তাকে নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন। এরপর আবারও তাকে নিয়ে এসে নিজ গ্রামের পাশের্^ ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় রাখা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বিষয়টি জানতে পেরে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় যুবক আল আমিনকে চিকিৎসার জন্য রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তার অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠান। অবশেষে তিন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহতের বাবা কৃষক মকলেছুর রহমানের জানান, তার ছেলে আগে থেকেই এই রকম রোগে ভুগছে। সে ঢাকার নারায়নগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে থাকে। ওখানে কাজ করে যা বেতন পায় তাই দিয়ে নিজের চিকিৎসা করে আর সে নিজে চলে। বাড়িতে কোন টাকা পয়সা দিতে পাড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নারায়নগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করে আল আমিন। শুক্রবার রাতে আল আমিন গায়ে জ্বর আর কাশি নিয়ে খুব অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁতে এসে পৌঁছে।

এরপর শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে আসার সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামের কর্তিপয় লোকজন গ্রামে উঠতে দেয়নি। ছেলেকে তিনটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসা না পেয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন। এরপর শনিবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও ছেলের শরীরের জ্বর কোনো ভাবেই কমছিলো না। এরপর থেকে কোনো চিকিৎসক আমার ছেলের আশে পাশে আর আসেনি। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে অবশেষে ছেলে শনিবার অনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছে। 

কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। চিকিৎসক তার মৃত্যু সনদে নিশ্চিত করে দিয়েছেন। নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ছেলেটা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এমনটি খবর পাবার পর তার পরিবারকে বলেছি মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে গ্রামে আসেন। যদি করোনা ভাইরাস না থাকে তাহলে সমস্যা নেই। আর যদি ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে চিকিৎসা করান। গ্রামে আসা যাবেনা। গ্রামের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাঁধা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, তার শরীরে প্রচন্ড জ্বর ছিলো। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন, ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সনদে চিকিৎসক তা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত না হয়ে ছেলেটাকে গ্রামে উঠতে না দেয়া এটা অমানবিক কাজ করেছে।

ট্যাগ: bdnewshour24