banglanewspaper

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রাম থেকে এক যুবকের গলাকাটা গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলাকেটে হত্যার পর ১ মাস পুতে রাখা গলিত মরদেহটি গতকাল রাত্রে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম পিকুল বিশ্বাসি ( ৩৬) সে শ্রীপুর চরমহেশপুর উকিল বিশ্বাসের পুত্র।
হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ একই উপজেলার চরমহেশপুর গ্রামের প্রবাসী মোশারোফ হোসেন ও রাজিয়া সুলতানা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের ১ মাস পর যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার বিবরনে মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, নিহত পিকুল বিশ্বাস গত ২ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রাম থেকে গাজীপুরে কাশিমপুরে তার বোনের বাড়িতে বেড়ান যান। পরদিন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

৭  মার্চ তার নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে থানায় জিডি করা হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। “তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়- ৩ মার্চ পিকুল শ্রীপুর এলাকায় আসেন এবং পিকুলের সাথে একই এলাকার রাজিয়া সুলতানা নামে এক মহিলার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হয়।”

পুলিশ এই মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে রাজিয়া সুলতানা ও তার প্রবাসী স্বামী কাজী মোশারোফ হোসেনকে শুক্রবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে  ‘৩ মার্চ পিকুলকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন । তারা জানান  রাত্রে পিকুল যাবার পর দুধের সাথে একাধিক ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাওয়ানোর পর পিকুল অচেতন হয়ে পড়লে তার গলা কেটে হত্যা করেন তারা। পরে বাড়ির পাশের একটি পানির কলপাড়ে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটি চাপা দিয়ে দেন তারা।

পুলিশ সুপার আরও জানান ,“মূলত প্রবাসী কাজী মোশারোফ হোসেন বিদেশে থাকাকালীন তার  স্ত্রীর রাজিয়া সুলতানার সাথে পিকুলের পরকীয়া প্রেমের ঘটনার জের ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে পিকুলকে হত্যা করে লাশটি মাটি চাপা দিয়ে গুম করা হয়।”

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোশারোফ হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার চরমহেশপুর গ্রামের বাড়ির কলপাড়ের পাশ থেকে হত্যার ১ মাস পর পিকুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার দায়েরের  প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24