banglanewspaper

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত‌্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আব্দুল মাজেদকে গ্রেফাতার করে বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম।

 

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল মাজেদকে কারাগারে নিয়ে আসার পরপরই যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। পরে তাকে কয়েদির ড্রেস পরিয়ে সরাসরি ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে, এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এখন মাজেদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার জন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই রায় কার্যকর করা হবে।

 

মিরপুর এলাকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ায় ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া আবদুল মজিদের মাধ্যমে কারাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে কি-না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

 

আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, আবদুল মজিদ কারাগারে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্ন আমার কাছেও এসেছে। তিনি ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত একজন আসামি। আর ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিতদের সলিডারি কনফাইনমেন্টে রাখা হয়। তাকেও সলিডারি কনফাইনমেন্ট রাখা হবে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও সেভাবে থাকবে না।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরখাস্ত হওয়া ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় আসেন।

 

সোমবার (০৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩ টায়রাজধানীর মিরপুর থেকে আব্দুল মাজেদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

 

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার শুনানির ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় খুনি মাজেদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

 

বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর ছয় আসামির একজন ছিলেন আব্দুল মাজেদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে খুন হন। এখন বঙ্গবন্ধুর পাঁচ দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন।

 

এরমধ্যে রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় ও নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থায় করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে। এছাড়া শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ, মুসলেহউদ্দীন রিসালদার পালাতক রয়েছেন।

 

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে সন্দেহজনকভাবে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদ আরও স্বীকার করেন, গ্রেফতার এড়ানোর জন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ ক্যাপ্টেন মাজেদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান।

 

আবদুল মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আরও কয়েকজন খুনির সঙ্গে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া চলে যান। এরপর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগালের দূতাবাসে বদলি করেন।

 

১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসার পর মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন জিয়া। সে সময় উপসচিব পদমর্যাদায় তিনি চাকরি করেন। আর সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। পরে তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে পরিচালক পদে যোগদান করেন।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু করে। সে সময় আত্মগোপনে চলে যান মাজেদ। তার স্ত্রী ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। মাজেদের চার কন্যা ও এক ছেলে রয়েছে। তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24