banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে লকডাউনের নামে বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং এলাকায় বাঁশ, খুঁটি ও গাছের খন্ড ফেলে গ্রামের প্রধান রাস্তা এবং পাড়ার প্রধান রাস্তা আটকে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা।

লক ডাউন এর প্রয়োজন ও অর্থ না বুঝেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাতে গোনা কয়েকজন মিলে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিচ্ছেন এই গ্রামেটি সেচ্ছায় লক ডাউন করা হল।

যে সকল লোকজন এমন ছবি দিচ্ছেন তারই সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে, ব্যক্তি সুরক্ষায় মাস্ক, হান্ড গ্লাভস, চশমা না পড়েই মিডিয়া কাভারেজ  পেতে মরিয়া হয়ে লক ডাউন ঘোষণার স্টাটাস দিচ্ছেন বলেও প্রমান পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্য থেকে। এসব লক ডাউনকৃত গ্রামের লোকজনদের প্রতিদিন অপ্রয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতেও দেখা যায়।

এতে করে একদিকে সরকারের করোনা মোকাবিলার উদ্যোগ বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে অন্যদিকে পুরো উপজেলার জনসাধারণের জীবন পড়ছে করোনা হুমকিতে।

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় নামতে নিষেধ করেছেন সরকার। এমনকি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থাগ্রহণ সহ জেলা থেকে শুরু করে গ্রাম ভিত্তিক সরকার লকডাউন ঘোষণা করছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ, সাংবাদিক, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, নার্স, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িসহ অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ, খাদ্য ও কাঁচামালবহনকারী গাড়িগুলোকে রাখা হয়েছে লকডাউনের আওতা মুক্ত, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়।

কিন্তু লকডাউন না মেনে রাস্তায় বেরিকেট তৈরী করে নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে অনেকেই। টাঙ্গাইল শহরের একটি বাড়িতে আগুন লেগে গেলে, রাস্তার প্রতিবন্ধকতায় ঘটনা স্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লেগে যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

এমন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ও গাছের ডালপালা গুড়ি ফেলে গ্রামের রাস্তাগুলো বন্ধ করে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে মনে করেন অনেকে। এ নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের পেশাগত দায়িত্বপালনে বাঁধার মুখে পড়ছেন। এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা-নেওয়াও কষ্ট সাধ্য।

জানা যায়, উপজেলার সলিমাবাদ, গয়হাটা, সহবতপুর, ধুবড়িয়া, বেকড়া, ভাদ্রা ইউনিয়নসহ আশেপাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রবেশ মুখে বাঁশ খুঁটি, ঝাটা ফেলে ব্যক্তি উদ্দ্যোগে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে। এক গ্রামের মানুষ অন্যগ্রাম বা এক পাড়ার মানুষ অন্য পাড়ায় চলাচল যাতে না করতে পারে তার জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়নের ধুবড়িয়া পূর্ব পাড়া গ্রামের ভুক্তভোগীরা জানান, ঢাকা থেকে আগত ব্যক্তির একটি বাড়ি লকডাউন করায় এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তি উদ্দ্যোগে বেরিকেট দিলে এলাকার সকলেই তার প্রতিবাদ জানান। এমন ব্যক্তি উদ্দ্যোগে সরকারের কোন নির্দেশ নেই। এতে করে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আনা-নেওয়াসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলার ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, গ্রাম বা পাড়ায় করোনা প্রতিরোধ মুলক এমন ব্যবস্থায় রাস্তায় বেরিকেট তৈরীতে নিজেরাই ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আমার গাড়িটিও ঢোকতে দেওয়া হয়নি এবং এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এ নিয়ে সমস্যার সৃষ্টিও হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রামেই নিজ  উদ্দ্যোগে এমন লকডাউন বেরিকেট তৈরী করেছেন গ্রামবাসী বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা কিংবা নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন আগতদের জন্য বিশেষ নজরদারি চলছে। গ্রাম বা পাড়ায় রাস্তা আটকিয়ে জনভোগান্তিমুলক অভিযোগ এখনো পাইনি। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক জরুরী সেবার গাড়ি চলাচলের জন্য স্বেচ্ছায় লকডাউনের এলাকাগুলো স্বাভাবিক আছে।

ট্যাগ: bdnewshour24