banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকার যে কোন সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন; তা যেন কোন ভাবেই মানতে নারাজ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউপির জালশুকা ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বসবাসরত জনগণ।

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এর সংক্রমণ রোধে গাজীপুর জেলা 'লকডাউন' ঘোষণা করেছে প্রশাসন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের 'জালশুকা বাজার' এ সকাল-সন্ধ্যা থাকে মানুষের ভীড়। দেখে বুঝার উপায় নেই যে দেশ এখন ক্রান্তিকাল পার করছে; প্রতিদিনই এখানে ঈদের বাজারের মত লোকসমাগম হয়। আশপাশের কয়েকটি এলাকার প্রায় শত শত মানুষ এই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে আসে।

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতাকে পাত্তা না দিয়ে 'জালশুকা বাজার' এ প্রতিদিন সকালে কোন প্রকার দূরত্ব বজায় না রেখেই চলে বাজারের কার্যক্রম। গা ঘেঁষে চলে পণ্যসামগ্রী কেনা-বেচা। খোলা থাকে খাবারের দোকান থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, নাপিতের দোকান, ইলেকট্রনিক দোকানসহ বাজারের প্রায় সকল প্রকারের দোকানপাট। প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত চলে এই বাজার। তবে সারাদিনই থাকে বাজারে মানুষের সরব উপস্থিতি।

করোনাভাইরাসের আঘাত থেকে রেহাই পেতে বিভিন্ন সচেতনতামুলক দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সঙ্গরোধ নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি শেষমেশ মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।

এরপরও সামাজিক দূরত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে কালিয়াকৈরের আটাবহ ইউপির বাড়ইপাড়া থেকে শুরু করে হিজলহাটি ফার্ম বাজার, জালশুকা (প্রকাশ), জালশুকা বাজার, গোসাত্রা এলাকায় অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ।

সোমবার সকালে সরেজমিনে কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ সব্জি, মাছ, মাংস সহ নানা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে এসেছেন। এক জনের গায়ের উপর আরেক জন যেন লেগে রয়েছে। আর সঙ্গরোধের কোন বালাই নেই এখানে।সামাজিক দূরত্ব না মেনেই বাজার করছেন লোকজন। অন্য সব দিনের মতই যে যার মত করে গিঞ্জি অবস্থায় বাজার করছেন। বাজার যেন ঈদ বাজারে পরিণত হয়েছে। 

জালশুকা বাজারে সব্জি কিনতে আসা শরিফুল নামের একজনের সাথে কথা হয়, তিনি জানান, সামাজিক দূরত্ব কি তা সে জানেন না। প্রতিদিন তিনি এখানে সব্জি, আর মাঝে মধ্যে দুধ কিনতে আসেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে বলেছেন সেটা তিনি জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব  কি এই বিষয়টি এখানকার অধিকাংশ মানুষ জানেন না,আর আমিত জানিই না। তবে এ ব্যাপারে তাকে অবহিত করলে তিনি এরপর থেকে তা মেনে চলবেন বলে জানিয়ে দ্রুত চলে যান। 

বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাজার করতে আসা সাইফুল নামের একজন জানান, কি করব ভাই,  খেতে ত হবে, তাই বাধ্য হয়েই বাজারে আসতে হয়। এখানে দামও তুলনামূলক ভাবে কম। তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে বাজার বসানো উচিত।  কিন্তু এই বাজারে তা মানা হচ্ছে না।

এছাড়া, শুধু হাট-বাজার নয়, রাস্তা ঘাটে মানুষের অবাধ চলাফেরা, চায়ের দোকানে আড্ডা সেই আগের মতই রয়েছে। পুলিশ আসলে সব বন্ধ হয়ে যায় পুলিশ চলে গেলে আবার সেই আগের মত সব চালু হয়ে যায়।

স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী জানান, করোনাভাইরাস রোধে প্রথমেই সঙ্গরোধ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে সচেতনামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24