banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করার পরেও সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। জনগণকে ঘরে থাকার লক্ষ্যে দেশের বেশির ভাগ জেলায় 'লকডাউন' ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এসব 'লকডাউন' এ জনগণ ঘরের চেয়ে বাহিরেই বেশি চলাচল করছে এমন চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এর পর করোনাভাইরাসের 'হটস্পট' হিসেবে গাজীপুর জেলাকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এর আগেই গাজীপুর জেলাকে 'লকডাউন' ঘোষণা করে গাজীপুর জেলা প্রশাসন।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাতে গত কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরইমধ্যে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন, চাপাইর ইউনিয়ন, সূত্রাপুর ইউনিয়ন, কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের।

তবে হতাশার কথা হলো-কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা স্বত্তেও জনগণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রয়োজনে দিনে রাতে যেখানে সেখানে বের হচ্ছে। জনগণকে ঘরে রাখতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করেও জনগণকে ঘরে রাখতে পারছে না।

কালিয়াকৈর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না কোন 'সামাজিক দূরত্ব'। ফলে বাজারগুলোকে কেন্দ্র করেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী। উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার, সফিপুর বাজার, এছাড়া প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একাধিক বাজার রয়েছে যেখানে প্রতিদিন অনেক লোকসমাগম হয়। তাছাড়া বিকেল হলেই কালিয়াকৈর উপজেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলোতে থাকে মানুষের সরব উপস্থিতি।

সরেজমিনে, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউপির বাড়ইপাড়া-জালশুকা-গোসাত্রা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি অলিগলিতে মানুষের সরব উপস্থিতি। বেশিরভাগ দোকানপাট খোলা। হিজলহাটি, সাউদার্ন, খোলাপাড়া, জালশুকা (প্রকাশ), জালশুকা বাজার, চৌধুরীটেক মোড়, গোসাত্রা মোড়ে সব সময় মানুষের আনাগোনা থাকে।

এর মধ্যে জালশুকা বাজারের অবস্থা সবচেয়ে করুন। সকালে এই বাজারে বিভিন্ন এলাকা হতে প্রতিদিন হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। বাজারে নেই কোন সামাজিক দূরত্ব। ফলে এই বাজারে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। এছাড়া জালশুকা থেকে দড়বারিয়া যাওয়ার রাস্তায় প্রতিদিন বিকেলে চলে নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ। পাশেই ইটের ভাটায় চলে ক্রিকেট খেলার আয়োজন। যেখানে মিলিত হয় আশপাশের কয়েকটি এলাকার যুবকেরা।

সব মিলিয়ে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এর সংক্রমণ রোধে গাজীপুর জেলা প্রশাসন যে 'লকডাউন' ঘোষণা করেছে তা কোনভাবেই মানছে না সাধারণ জনগণ। ফলে দিন দিন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ট্যাগ: bdnewshour24