banglanewspaper

রাজশাহী রেলস্টেশনে ট্রেনের ট্রাঙ্ক লরি থেকে প্রায় ৯ হাজার লিটার তেল চুরি করার সময় ৩ জন চোরকে হাতে নাতে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকালে একদিকে করোনা ভাইরাসের কারনে চলমান এই পরিস্থিতি এবং অন্যদিকে রেলের সংরক্ষিত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই এ চুরির ঘটনা ঘটে। 

সেই সাথে যমুনা ওয়েল কোম্পানির চুরি করা তেলভর্তি ০১-০০০৩ নং ট্রাকসহ তের চুরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তবে রেলের এই তেল চুরি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এমন কি খোদ রেলের লোকজনও দ্বিধাদ্বন্দে বলছেন আসল চোরকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা দরকার।

তেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে আটককৃতরা হচ্ছে যমুনা ওয়েল কোম্পানির রাজশাহী ডিপো ইনচার্জ আমজাদ হোসেন, লরির হেলপার ইলিয়াস হোসেন, যমুনা অয়েলের কর্মচারী মুকুল আলী। তেল গুলো রেলের বৈদ্যিতিক বিভাগের হওয়ায় এর ইনচার্জ রেলের সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ট্রেন লাইটিং শাখা) আবুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুত বিভাগের লোকজন বলছেন, তেল ভর্তি রেলের ট্যঙ্কলরি (বিটি), ইয়াডে আসার পর তেল খালাস বা আনলোড করা হয়। করোনার কারণে লোকবলের স্বল্পতায় ২২ এপ্রিল লরিটি সিলগলা করে নিরাপত্তা বাহিনীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তেল চুরি কিভাবে হচ্ছিলো সেটা নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন বলতে পারবে। কারণ তারা রেলের মালামাল পাহারায় ছিলো। 

নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট মোর্সেদ জানান, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি, রেলওয়ের যমুনা ডিপো থেকে সরকারি তেল যমুনা ওয়েল কোম্পানিতে চুরি করেছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে যমুনা ওয়েল কোম্পানির তিনজন কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তেল বহনকারী ট্র্যাঙ্ক লরিটিও জব্দ করা হয়’।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (জিএম) মিহির কান্তি গুহ জানান, তেল চুরির বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের এস.এস.এ.ই/ইলেক আবুল হাসান এই তেলের ইনচার্জ তাই তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের ট্রেনের জন্য বরাদ্দ তেল চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24