banglanewspaper

মাহে রমজান আত্মগঠনের মাস। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিনপার্থিব ও অপার্থিব জীবনের জন্য অর্জন করে পাথেয়। যা মুমিনের জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সাহয্য করে। পবিত্র রমজান মুমিনের জীবনে যে ঐশ্বর্য দান করে তার কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো।

এক. তাকওয়া : তাকওয়া  বা আল্লাহভীতি মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আল্লাহ তায়লা কোরআনুল কারিমের অসংখ্য জায়গায় তাকওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজাকে তাকওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেন তোমরা মুত্তাকি (আল্লাহভীরু) হতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩) 
 
মুলত একজন বান্দা  দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে সে আল্লাহর আনুগত্যের অনুশীলন করে। এ জন্য বিজ্ঞ আলেমরা বলেন, সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণা, অশ্লীলতা, অন্যের অধিকার নষ্ট করা, গিবত ও পরচর্চার মতো গুনাহর কাজগুলো পরিহার না করলে বান্দার রোজা পূর্ণতা লাভ করে না। আর গুনাহ ত্যাগই তাকওয়ার মূল উদ্দেশ্য।

দুই. গুনাহমুক্ত হওয়া : রমজানের অন্যতম সুযোগ হলো গুনাহ মাফ। রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ তার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপমুক্ত করবে। জন্যই মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি রোজা রাখো, তোমার কান, চোখ ও জিহ্বাও যেন রোজা রাখে মিথ্যা ও পাপ থেকে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস ৮৮৮০)

তিনি. শারীরিক মাসর্থ্য বৃদ্ধি : পবিত্র এ রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক মামর্থ্য বৃদ্ধি করে। যা অনেকাংশে প্রচলিত চিকিৎসা ও ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর। উপকারিতাগুলো হলো—হার্ট ভালো থাকা, মস্তিষ্কের কার্যক্রম বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কিডনি ভালো থাকা, লিভার ভালো থাকা, ধূমপান ত্যাগের সুযোগ, পরিপাকপ্রক্রিয়া কার্যকর হওয়া, অন্যান্য শারীরিক জটিলতা এড়ানো। 

চার. মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয় : সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের কষ্ট বুঝতে পারে—যা তাকে মানবিক হতে সাহায্য করে। দীর্ঘ এক মাস পানাহার থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে মূলত মানুষ অভাবগ্রস্ত ও অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারে। এর ফলে উচ্চদৃষ্টি, অমুখাপেক্ষিতা, দয়া ও অনুগ্রহ, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, শক্তি ও কঠোরতার মতো উচ্চগুণ অর্জন করা যায়। রোজার মাধ্যমে মানুষ এসব গুণ অর্জনের সুযোগ পায়।’ 

পাঁচ প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ : রোজার মাধ্যমে মানুষের প্রবৃত্তির তাড়না দুর্বল হয়। ফলে সে নৈতিক স্খলন থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা পালন করে। কেননা সাওম যৌনক্ষমতা দমন করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৬৫)

তবে এই কল্যাণ লাভের শর্ত হলো, যথাযথভাবে রোজা রাখা এবং রমজানে পানাহারসহ সব কিছুতে সংযত জীবন যাপন করা। ইফতার ও সাহিরতে জৌলুসপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ রোজার উদ্দেশ্য ব্যাহত করে অনেকখানি।

ট্যাগ: bdnewshour24