banglanewspaper

করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে প্রায় ১২৪টি কারখানা খোলা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) তিনটি ইপিজেড এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমই এসব কারখানা চালু করেছে। এতে প্রায় ১ লাখ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড রয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অধীনে। এছাড়া আনোয়ারায় রয়েছে ইয়ংওয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন কোরিয়ান ইপিজেড। এ তিনটি ইপিজেডে ২২১ বিভিন্ন পণ্য উৎপদনকারী কারখানা রয়েছে। শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৩ লাখের অধিক।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানা রয়েছে ১৫৮টি। দুই লাখের মতো শ্রমিক এখানে কাজ করেন। ৪১টি কারখানা আছে কর্ণফুলী ইপিজেডে। এতে শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার। আনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেডে ২২টি কারখানার মধ্যে শ্রমিকের আছে প্রায় ২৫ হাজার। এসব কারখানায় পোশাক, তাঁবু, ইলেক্ট্রনিক্স, ফেব্রিক্স ও জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের জিএম খুরশিদ আলম জানান, এখানে ৫৫টি কারখানা খোলা হয়েছে। প্রত্যেক কারখানায় কাজ করছেন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শ্রমিক। এখানে দুই লাখ শ্রমিকের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কাজে যোগদান করেছে। শ্রমিকদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই কারখানা চালু করতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

কর্ণফুলী ইপিজেডের ২০টির মতো কারখানা আংশিকভাবে খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের জিএম মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ। ওই সব কারখানায় স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে জানান তিনি।

আনোয়ারা কোরিয়ান ইপিজেড়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে সব কারখানা খোলা হয়েছে। এখানে কর্মরত ৯৩ শতাংশ শ্রমিক স্থানীয়। এখানে থার্মাল স্ক্যানার রয়েছে। মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

এছাড়া রোববার কাট্টলী, কর্ণফুলী নদীর পাড়, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকা, নন্দীর হাট, বারিক বিল্ডিংসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় ২৭টি কারখানা খুলেছে বলে বিকেএমইএ সূত্রে জানা গেছে।

কারখানাগুলোতে নিয়মিত চেকআপের ব্যবস্থা রাখা উচিত বলে মত দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে কারখানা খোলা হলে তা হবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানতে হবে।

এদিকে করোনাভাইরাসের মধ্যে পোশাক কারখানাগুলো চালু রাখতে খসড়া প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এ নিয়ে একটি খসড়া নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। করোনায় পোশাক কারখানাগুলো চালু রাখার ক্ষেত্রে সেসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে নিজেদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।

ট্যাগ: bdnewshour24