banglanewspaper

নতুন প্রজাতির ফড়িং গোত্রের একটি পোকার সন্ধান পাওয়া গেছে কক্সবাজারে টেকনাফে। এই পোকা বিভিন্ন গাছের পাতা বেশ দ্রুতগতিতে খেয়ে ফেলছে। ভারত ও পাকিস্তানে পঙ্গপালের উপস্থিতিতে তাই শঙ্কা তৈরি হয়, টেকনাফে হাজির হওয়া এই পোকও পঙ্গপাল কি না।

সম্প্রতি টেকনাফে ঘাসফড়িংয়ের মতো যে পোকা দেখা যাচ্ছে সেগুলো নিয়ে আতঙ্কিত না হতে বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, টেকনাফে ঘাসফড়িং সদৃশ পোকা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এসব পোকা মরুভূমি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পঙ্গপালজাতীয় কোনো পোকা নয়।

শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইতিমধ্যে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাসফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন।

এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ঘাসফড়িংসদৃশ এসব পোকা আবারও দেখা দিলে কৃষি মন্ত্রণালয় এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। শুক্রবার সকালেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) থেকেও পৃথক টিম রওনা দিচ্ছে। ঘাসফড়িংসদৃশ লোকাস্ট গোত্রের স্থানীয় এই পোকা শনাক্তকরণসহ আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসে এই টিম কাজ করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই পোকা তেমন ক্ষতিকর নয় মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এসব পোকা মরুভূমি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পঙ্গপালজাতীয় কোনো পোকা নয়। বৃহস্পতিবার কীটনাশক স্প্রে করার পর গাছে থাকা পোকাগুলো মারা যায়। সেখানে আর কোনো জীবিত পোকা নেই। তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24