banglanewspaper

মোবাইল কোর্টের ‘ক্ষমতা অপব্যবহার’ করে বরিশালের আইনজীবী রবিউল ইসলাম রিপনকে দেয়া ৭ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ নির্বাহী আদেশে স্থগিত করে শিগগিরই মুক্তি প্রদান এবং মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) ই-মেইল ও কুরিয়ারের মাধ্যমে দুই মন্ত্রীকে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

নোটিশ বলা হয়েছে, বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৭ দিনের সাজা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে অসম্মানজনকভাবে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। 

গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা গেছে, বরিশালে টিসিবি’র পণ্য বিক্রিতে বাধা প্রদান ও ট্যাগ অফিসারকে লাঞ্ছিত করায় এক আইনজীবীকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমূল হুদা গতকাল শনিবার (২ মে) বিকেলে নগরীর ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম দণ্ডাদেশ দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বলেছেন, টিসিবি’র এক পণ্য বিক্রয়কারী ডিলার ট্রাকে ডেফুলিয়া এলাকায় ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করছিলো। এ সময় রবিউল ইসলাম রিপন নামে নামে এক ব্যক্তি সেখানে যেতে টিসিবি’র বিরুদ্ধে অকারণে নানা অভিযোগ করে। বিষয়টি উপস্থিত ট্যাগ অফিসার সুবোধ মজুমদার মুঠোফোনে টিসিবি কর্মকর্তাকে জানাচ্ছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন অভিযুক্ত রিপন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাজির হয়ে সরকারি কাজে বাধাদান এবং সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে রবিউল ইসলাম রিপনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

নোটিশে দাবি করা হয়, মোবাইল কোর্ট আইনের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথ আইনের বিধান মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপনকে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপনাদের নির্বাহী ক্ষমতা বলে দেশের একজন আইনজীবীর মানবাধিকার রক্ষায়, ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল হুদা কর্তৃক গত ২ মে তারিখে প্রদত্ত ৭ দিনের বিনাশ্রম মোবাইল কোর্টের সাজা অবিলম্বে স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও অতিমাত্রায় মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা অপপ্রয়োগের বিষয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষমতার অপপ্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করার আবেদন জানান ওই আইনজীবী।

ট্যাগ: bdnewshour24