banglanewspaper

ইরাকের মসূল শহরের ঐতিহাসিক বিখ্যাত আন নুর মসজিদ। এই মসজিদের মূল নাম হল জামেয়া আন নুর মসজিদ। ৮৫২ বছরের পুরনো এই মসজিদটি ১১৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এটি প্রতিষ্ঠা করেন ইতিহাস বিখ্যাত ক্রুসেড বিরোধী যুদ্ধের নেতৃত্ব দান কারী নুর উদ্দীন জঙ্গি (রহঃ)। তার পুরো নাম ছিল নুর উদ্দীন আবুল কাশেম মুহাম্মদ ইবনে ইমাম উদ্দীন জঙ্গি। 

এই নির্মাণ করার সময় কাশেম মুহাম্মদ ইবনে ইমাম উদ্দীন জঙ্গি তৎকালীন দামেস্কের (বর্তমান সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলের গভর্নর ছিলেন। তিনি মৃত্যুর ২ বছর পূর্বে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে এই মসজিদটির অন্যতম সৌন্দর্য হল ৪৫ মিটার (১৪৮ ফুট) লম্বা একটি মিনার ছিল। আর এই মিনারটির নাম ছিল আল হাদবা মিনার। আন নুর মসজিদের কয়েকটি ঐতিহাসিক ছবি দেখুন।

ইরাকের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মসজিদ হল আন নুর মসজিদ। ইসলামিক ইস্টেট মসূল শহর দখল করার পর ২০১৪ সালের জুন মাসে (পবিত্র রমজান মাসে) খিলাফত ঘোষণা করে এবং শুক্রবার ইসলামিক ইস্টেট এর প্রধান খলিফা আবু বকর আল বাগদাদী প্রকাশ্যে এসে ভাষন দেন। আর এটাই তার একমাত্র প্রকাশ্য ভাষন। তাই সাড়া বিশ্বে ইসলামিক ইস্টেট এর অনুসারী দের নিকট এই মসজিদের একটা গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়াও ঐতিহাসিকদের ও গবেষকদের নিকটেও এই মসজিদটির গুরুত্ব রয়েছে।

ইসলামিক ইস্টেট থেকে মসূল শহর পুনরুদ্ধার করার জন্য আমরিকান নেতৃত্বাধীন জোট ও ইরাকী সেনাবাহিনী ১,২৫,০০০ এর বিশাল সৈন্য বাহিনী ২০১৬ - ১৭ সালে ৯ মাস ধরে যুদ্ধ করে। কিন্তু পশ্চিম মসূল শহরের যুদ্ধ যখন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল। ঐ সময়ে আমরিকার নেতৃত্বাধীন বিমান বাহিনী ও ইরাকী বিমান বাহিনী মসূল শহরে ২০০০০ বারের বেশি বিমান হামলা চালিয়েছিল। তখন পশ্চিম মসূলের বেশিরভাগ বাড়ি ঘর ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। এমনকি সেখান থেকে শিয়াদের দ্বারা এখনও সুন্নি মুসলিমদের মৃত কঙ্কাল উদ্ধার করছে মানবাধিকার সংগঠন গুলো। সর্বমোট  মসূল যুদ্ধে ৪০,০০০ লোক নিকট নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শিয়া মিলিশিয়া ও আমরিকান নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।

এ মসজিদ সম্পর্কে হাদিসের আশ্চর্য ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে। হযরত আবু আব্দুল্লাহ (হযরত জাফর সাদিক রহঃ) তিনি হযরত হোসাইন ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন, তিনি বলেন, ‘যখন কুফা (মসূল) শহরের মসজিদের দেয়াল ধ্বংস হবে। তারপর মানুষেরা তাদের ধন সম্পদ হারাবে, অধিকারী (মাহদী) এর উত্থান হবে। তখন মাহদী বের হবে।’

মুহাম্মদ ইবনে সিনান তিনি হোসাইন ইবনে আল মুখতার তিনি হযরত জাফর সাদিক (রহঃ) থেকে বর্ননা করেন, তিনি বলেন, "যখন কুফা (মসূল) শহরের মসজিদের দেয়াল এবং তার পার্শ্ববর্তী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর বাড়ি ধ্বংস হবে। ঐই সময়ে নেতৃত্ব দেয়ার ব্যাক্তির উত্থান হবে এবং তিনি বের হবেন"।

"আমি তাকে বললাম, কখন তিনি (ইমাম মাহদী) আবির্ভূত হবেন? উত্তরে তিনি বললেন, যখন তুমি ইরাকের আনবার, ফোরাত নদীর উপকূল, দাজলা নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা, সিরাজ নামক শহর থেকে সৈন্য বাহিনীকে আসতে দেখবে। এবং কুফা (মসূল) শহরের (আন নুর মসজিদের) মিনার ধ্বংস হতে দেখবে, এবং কুফা (মসূল) শহরের কিছু বাড়ি ঘর আগুনে জ্বলতে দেখবে। তখনই আল্লাহ তায়ালা তার ইচ্ছা অনুযায়ী (বিশেষ) কিছু ঘটাবেন। অর্থাৎ তখনই সত্যিকার অর্থে ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে"। কেউ আল্লাহর নির্দেশকে আটকাতে পারবে না, কেউ আল্লাহর বিচারের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। (ফালাইস সায়েল, পৃষ্ঠা - ১৯৯, আল মিসবাহ, পৃষ্ঠা - ৫১, আল বালাদুল আমিন, পৃষ্ঠা - ৩৫)।

ট্যাগ: bdnewshour24