banglanewspaper

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধ পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রাষ্ট্রচিন্তা নামক সংগঠনের ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এই আদেশ দেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজাম উদ্দিন।

তিনি বলেন, আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামশেদুল ইসলাম আসামিদের হাজির করে ৭ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। 

শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের রিমান্ড শুনানি আদালত খোলার পরে দিন নির্ধারণ হবে জানিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই দুজনকে আটকের পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রমনা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার কার্টুনিস্ট কিশোরকে কাকরাইল ও লেখক মুশতাককে লালমাটিয়ার বাসা থেকে আটক করে র‌্যাবের একটি দল। এরপর তাদের রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার র‌্যাব-৩ সিপিসি-১ এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক বাদী ১১ জনের নামে রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর, ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদ, রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ইসলাম, মিনহাজ মান্নান ইমন, প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ সমাচার, স্বপন ওয়াহিদ, শাহেদ আলম ও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন।

মামলার এজাহারে আরও জানা যায়, আসামিরা ‘আই এম বাংলাদেশি’ নামে ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছে। যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। ওই পেজের অ্যাডমিন শায়ের জুলকারনাইন এবং আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ সমাচার, স্বপন ওয়াহিদ, মোস্তাক আহম্মেদ নামীয় ফেসবুক আইডিসহ পাঁচজন এডিটর পরস্পর যোগসাজসে ফেসবুক পেজটি দীর্ঘদিন পরিচালনা করছে।

এজাহারে বলা হয়, আসামি আহমেদ কবীর কিশোর, তাসনিম খলিল, জুলকারনাইন, শাহেদ আলম ও আসিফ মহিউদ্দিনের মধ্যে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিং’ এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোনে ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। 

আলামত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা ভাইরাস, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তাসনিম খলিল, শায়ের জুলকারনাইন, শাহেদ আলম, আসিফ মহিউদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগ: b