banglanewspaper

শুরুর দিকে সংক্রমণের হার কমই ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু সম্প্রতি যে হারে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের রোগী তাতে আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। 

সংক্রমণের এই হার অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশই হয়ে যেতে পারে ‘এশিয়ার হটস্পট’। সংক্রমণের হারে ইতোমধ্যেই ভারত-পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে। জনতত্ত্ব-ঘনবসতি ও আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট।

কিছুদিন আগেও এশিয়ার হটস্পট ছিল পাকিস্তান। গত কয়েকদিনে পাকিস্তাকে টপকে এক লাফে শীর্ষে উঠে যায় ভারত। আর এখন প্রতিবেশী সবাইকে পেছনে ফেলে সামনে বাংলাদেশ। 

আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো একইসঙ্গে তিনজন কোভিড আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। তার ঠিক দুইমাস অর্থাৎ ৬০ দিনের মাথায় গত ৬ মে শনাক্ত হন ৭৯০ জন আর মারা যান তিনজন। সেদিন পর্যন্ত এটাই ছিল দেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হওয়া রোগী সংখ্যা। সেদিন পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হন ১১ হাজার ৭২৯ জন, মারা যান ১৮৬ জন। এবং সুস্থ হন এক হাজার ৪০২ জন। যদিও সেটা অবশ্য মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ৬০ দিনের হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য সর্বাধিক সংক্রমিত দেশের তুলনাতে বেশি।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চে। তারপর থেকে প্রতিদিনই আক্রান্তের নতুন রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে এশিয়ার পরবর্তী হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। করোনা শনাক্তের দুই মাস পর সেই চিত্র আরও পরিষ্কার হচ্ছে।

সোমবার দেশে প্রথমবারের মতো করোনা সংক্রমণের সংখ্যা হাজার (১,০৩৪ জন) ছাড়িয়েছে। এই হিসাবেও এশিয়ার অন্যান্য দেশ ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি।

আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেন ও রোমানিয়াকে পেছনে ফেলে সংক্রমণে এখন এশিয়ায় দশম অবস্থানে বাংলাদেশ।

আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ।

ভারতে সোমবার পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৮ জনের। তাদের মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ২৫৯ জন। সংক্রমণের (করোনা পজিটিভ) হার ৪ দশমিক শূন্য এক শতাংশ।

পাকিস্তানে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৪ জনের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৩০ হাজার ৯৪১ জনের। সংক্রমণের হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। 

বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত এক লাখ ২৯ হাজার ৮৬৫ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৯১ জন। সংক্রমণের হার ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৭৫ হাজার ৬০৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮২২ জনের। সংক্রমণের হার ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় এক লাখ ৬১ হাজার ৩৫১ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ২৬৫ জনের। সংক্রমণের হার ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ফিলিপাইনে এক লাখ ৭৩ হাজার ১৪৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৬ জনের। সংক্রমণের হার ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। এশিয়ায় করোনা সংক্রমণের শীর্ষে ছিল চীন। দেশটিতে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এছাড়া, সৌদি আরবে ৩৯ হাজার ৪৮, কাতারে ২২ হাজার ৫২০, আরব আমিরাতে ১৮ হাজার ১৯৮, ইসরাইলে ১৬ হাজার ৪৯২ ও জাপানে ১৫ হাজার ৭৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সবগুলো দেশেই বাংলাদেশের তুলনায় করোনা পরীক্ষার হার তিনগুণের বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারে গত কয়েক সপ্তাহে কোনো মৃত্যু নেই। এসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যাও হাতে গোনা, এক হাজারের কম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের তুলনায় সংক্রমণ বাড়লেও করোনা পরীক্ষার হার এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ‘পিক আওয়ারেই’ লকডাউন শিথিলে ভয় আরও বাড়ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24