banglanewspaper

শেবাচিম হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৯ই এপ্রিল মারা যান বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সুলতানিয়া এলাকার আবদুল সরদারের ২৫ বছর বয়সী ছেলে লিটন সরদার।

মৃত্যুর আগে বাবা মাসহ আত্বীয় স্বজন সবাই ছিলো লিটনের সঙ্গে। কিন্তু মৃত্যুর পর পরই হাসপাতাল থেকে করোনা সন্দেহ করা হলে তাৎক্ষণিক আস্তে আস্তে লাশের পাশ থেকে পালিয়ে যান স্বজনরা। মৃত্যুর এতোদিন পরও মৃতদেহ পরিবার না নেওয়ায় বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপায়ন্ত না পেয়ে খবর দেয়া হলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে। কোন দ্বিধা না করে মানবতার সহায়তা নিয়ে হাসপাতালে পৌছে যায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক একটি টিম। মরদেহ পরিবহন থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

জানা গেছে দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে কোন রোগী মারা গেলেই তাদের পাশে স্বজন বেশে হাজির হচ্ছেন বরিশাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। কোন বিনিময় বা প্রাপ্তি ছাড়াই এসব মরদেহ পরিবহন দাফনসহ সব কিছু করছেন অনায়াসে। শুধু লাশ দাফনের কাজই নয়, করোনা রোগীকে হাসপাতালে পৌছে দেয়া, এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসায় কোন ঘাটতি হলে তাও পূরন করছেন মানবতার এই সংগঠন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও গাইড লাইন নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফনের কাজ। 

প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল শাখার পরিচালক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ২০০৭ সালে বরিশালে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। বরিশালে তাদের ৩০ জন সদস্য রয়েছে। যারা নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক কাজ করে আসছেন। 

তিনি বলেন, করোনা বা অপঘাতে মৃত্যুর পর তার প্রাপ্য মর্যাদা বা সম্মানটুকু তো তাকে দিতে হবে। এমন মানবিকতা থেকেই আমাদের প্রতিষ্ঠান এ কাজে নেমে পড়ে। শুরুতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন ও বেসরকারি দু একটি সংস্থা তাদের এ কাজে কিছু সহযোগিতা করেছে। এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১০ জন করোনা আক্রান্ত ও সন্দেভাজন মৃত ব্যক্তির দাফন করেছে এই সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্ত হয়ে বা করোনা সন্দেহভাজন কারো মৃত্যু ঘটলে প্রশাসন থেকেই সৎকার ও দাফন কাফনের জন্য তাদের খবর দেয়া হয়। তারপরও প্রয়োজন হলে বরিশাল জর্ডান রোডের বরিশাল শাখায় টেলিফোন ০৪৩১৬৪১৩৫ এবং মোবাইল ০১৮৪৮৩৭৩৫৩৫ ও ০১৮৪৮৩৭৩৫৩৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

ট্যাগ: bdnewshour24