banglanewspaper

প্রতিদিনই দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। জনজীবন স্তব্ধ, বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাত। অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থা হুমকির মুখে। এমন সময় ব্যাপক ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন আম্পান। করোনা ভাইরাসের কারণে আম্পান মোকাবেলাও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও চিন্তায় ফেলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আজ বুধবার (২০ মে দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গতিতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর কারণে উপকূল প্লাবিত হতে পারে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশ উপকূলের ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসায় ইতিমধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ সংকেত’ দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে অতি প্রবল এ ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তখন এর বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার বা তার বেশি।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরকে আগের মতই ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত মানে হল ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমকালে বন্দর ঝড়ের তীব্রতার কবলে পড়তে পারে। বন্দরের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়েই ঝড় উপকূল অতিক্রম করবে।

আম্পান ধেয়ে আসায় ভারত ও বাংলাদেশে মঙ্গলবার থেকে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। বাংলাদেশে ২২ লাখ মানুষকে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

১৬ মে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া আম্পান ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনের রূপ পায়। তবে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার পথে কিছুটা শক্তি হারিয়ে এটি এখন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে রয়েছে।

আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্পান উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বুধবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের উপকূল অনেক বছর পর এমন সুপার সাইক্লোনের ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বণিক বার্তাকে বলেন, দ্রুতগতির কারণে সুপার সাইক্লোন আম্পানের ধরন আলাদা। প্রবল গতির কারণে বড় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে আসা ঝড়গুলো অনেক সময় আঘাত হানার আগে দুর্বলও হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, তবে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে আম্পান মোকাবেলাও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি খুব গুরুত্বসহ দেখতে হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এজন্য উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর মহাবিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপত্সংকেতের আওতায় থাকবে। এসব অঞ্চলে ৫-১০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। 

এদিকে আম্পান মোকাবেলায় সারা দেশে ব্যাপক হারে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মোহসীন। তিনি বলেন, সারা দেশে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণত এর আগের কোনো দুর্যোগে এত কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়নি। এখন করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনেক বেশি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে  বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে এরই মধ্যে মানুষদের নিয়ে আসা হচ্ছে। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। এজন্য আজকে আমরা ছয় থেকে সাত নম্বর বিপত্সংকেত দিয়েছি। আজ এর গতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তখন প্রয়োজন অনুযায়ী বিপত্সংকেত বাড়িয়ে ৮ থেকে ১০ নম্বরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে (ইতিমধ্যে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে)। সব মিলিয়ে বলব, আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভালো। প্রতিবেশী পার্শ্ববর্তী দেশের পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতিও অনেক ভালো।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের ২৫টি জেলায় ফসলের বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে ১১টি বিশেষ কৃষি আবহাওয়াবিষয়ক পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এতে পরিপক্ব বোরো ধান, সবজি ও ফল দ্রুত ঘরে তুলতে বলা হয়েছে। 
ডিএইর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ২৫টি জেলার ফল ও ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জেলাগুলো হচ্ছে বাগেরহাট, বান্দরবান, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নড়াইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, রাঙ্গামাটি, সাতক্ষীরা ও শরীয়তপুর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এ ২৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া এবং হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দণ্ডায়মান ফসলের ওপর ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারি বৃষ্টিপাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে তিন লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রবল শক্তিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাগুলোয় ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে সরকার। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জন মানুষকে আশ্রয় দেয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আশ্রয়কেন্দ্রে সবাইকে নিরাপদে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসবেন, তাদের সবাইকে মাস্ক পরে আসতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কাজ শুরু করেছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24

জাতীয়
বৈদেশিক বিনিয়োগে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈদেশিক বিনিয়োগে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, তাই অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ সময়, ২০২৫ সালের মধ্যে আইটি খাত থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে হোটেল রেডিসনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সামিটের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাজার তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এই সম্মেলনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানাই। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাজার তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আইটি পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করেছি। করোনায় এক লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ মার্কিন ডলার।

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ  করে শেখ হাসিনা বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে নামেন জাতির পিতা। দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে দেশকে উন্নত করাই ছিল তার লক্ষ্য। তিনি তার এ আশা পূরণ করতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এসে বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বড় বড় প্রজেক্ট বেসরকারি খাতে দিয়েছি। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড ব্যবস্থা অটোমেশন করেছি। অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রধান্য দিচ্ছি। বিভিন্ন বাণিজ্য জোটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

ট্যাগ:

জাতীয়
করোনার আফ্রিকান ধরন নিয়ে স্বাস্থ্যের সতর্কবার্তা

banglanewspaper

করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরসহস দেশের সব পোর্ট অফ এন্ট্রিতে সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একইসাথে সবাইকে নিয়মিত মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব কথা জানানো হয়। দেশের সার্বিক করোনার পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ বার্তা দেন সংস্থাটির মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া একটি নতুন ভ্যারিয়েন্টকে আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের সকল পোর্ট অব এন্ট্রিতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কারিগরি কমিটি, ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন টেকনিক্যাল কমিটিসহ (নাইট্যাগ) স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সভা করছেন। তারা বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। সেই সভা থেকেই আমরা সবার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যে সমস্ত কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হয়, সেগুলো আমরা নেব। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে মোকাবিলা করতে চাই, করোনা মোকাবিলা করতে চাই।

ট্যাগ:

জাতীয়
চোখ রাঙাচ্ছে ‘ওমিক্রন’ ভাইরাস, কোন পথে দেশ?

banglanewspaper

ইউরোপ আমেরিকা ছাড়া অন্যান্য দেশ যখন করোনা ঝুঁকি সামলে স্বাভাবিক হচ্ছে ঠিক তখনই নতুন করে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে সামনে এসেছে ওমিক্রন। আর তখনই ওমিক্রন নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। কি এই ওমিক্রন? এই ভ্যারিয়েন্ট কেনো এতো ভয়ংকর? করোনা টিকা এই ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর? এই ভ্যারিয়েন্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী? এসব বিষয় নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। ওমিক্রনকে ঘিরে এমন নানান প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকের আয়োজন-

কি এই ওমিক্রন?

করোন ভাইরাসের নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’। এটি দক্ষিন আফ্রিকায় প্রথম সনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরনের নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’। গ্রিক বর্ণমালা দিয়ে এর আগে যেমন আলফা ও ডেলটার নামকরণ করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই এ ধরনের এমন নাম দেওয়া হয়েছে। নতুন নাম দিয়ে সংস্থাটি ওমিক্রনকে করোনাভাইরাসের ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক টুলিও ডি অলিভেরা বলেছেন, ওমিক্রন বহুবার ‘অস্বাভাবিকভাবে রূপ বদল’ করেছে। এ পর্যন্ত ছড়ানো ধরনগুলোর চেয়ে এটা ‘অনেকটাই আলাদা’। তিনি আরও বলেন, ‘ধরনটি আমাদের খুব অবাক করেছে, বিবর্তিত হওয়ার জন্য বড় বড় ধাপ পার হয়েছে এবং ধারণা অনুযায়ী অনেকবার জিনগত রূপ বদলেছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে অলিভেরা আরও বলেন, ওমিক্রন এখন পর্যন্ত ৫০ বার রূপ বদল করেছে এবং স্পাইক প্রোটিনের বদল ঘটেছে ৩০ বারের বেশি। দেহকোষে ঢুকে পড়ার জন্য যেকোনো ভাইরাস মূলত এ স্পাইক প্রোটিনকে ব্যবহার করে এবং স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করেই বেশির ভাগ টিকা তৈরি করা হয়। সর্বশেষ ‌এই ভ্যারিয়েন্টটি কোভিড জীবাণুর সবচেয়ে বেশি মিউটেট হওয়া সংস্করণ।

এই ভ্যারিয়েন্ট কেনো এতো ভয়ংকর?

ভারতে সনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের পরে এটিকেই করোন ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বা সক্ষমতা অন্য যেকোনো ভ্যারিয়েন্ট থেকে বেশি। ইতিমধ্যে জনসন এন্ড জনসন, ফাইজার-বায়োএনটেকি এর ভ্যাকসিনেটেড ব্যক্তিও এই ভাইরাস দ্ধারা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ধারনা করা যাচ্ছে এই ভ্যারিয়েন্টর তীব্রতা।

এদিকে ওমিক্রনকে হু ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বলে চিহ্নিত করেছে ইতিমধ্যেই। তবে এর প্রভাব নিয়ে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা এখনও হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, ‘কোভিডের এই রূপ ডেল্টার থেকেও বেশি সংক্রামক হতে পারে। তবে এই রূপের প্রভাব কতটা পড়বে চূড়ান্তভাবে কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। ওমিক্রনের প্রকৃতি বুঝতে গেলে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।’

করোনার অন্য ধরনের সঙ্গে ওমিক্রনের তুলনার প্রশ্নে সৌম্য স্বামীনাথন বলেন, ‘নতুন ধরনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমাদের আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।’

সবশেষ ভারতে শনাক্ত হওয়া অতি সংক্রামক ডেলটা ধরন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। 


কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবি গুপ্ত বলছেন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ফাঁকি দেওয়া ছাড়া বেটা আর কিছুই করতে পারত না। ডেলটার সংক্রমণের ক্ষমতা ছিল বেশি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকেও মোটামুটি ফাঁকি দিতে পারত। কিন্তু নতুন ধরন ওমিক্রন দুদিক থেকেই সমানভাবে পারদর্শী।

ওমিক্রন নিয়ে গবেষণা থেকে হয়তো ধরনটি সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণাও পাওয়া যাবে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে কীভাবে এ ধরন ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দ্রুত বাস্তব চিত্রটা বোঝা যাবে। এ ধরন নিয়ে এখনই উপসংহারে পোঁছানো না গেলেও যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

করোনা টিকা এই ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর?

করোন টিকা কতটা কার্যকর সেটা এখনো ঠিকঠাক বলতে পারছেন না গবেষকরা। যদিও ইতিমধ্যে জনসন অ্যান্ড জনসন, ফাইজার-বায়োএনটেকি এর মতো শক্তিশালী ভ্যাকসিনেটেড ব্যক্তিও এই ভাইরাস দ্ধারা আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও এর কোভিড-১৯ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ডেভিড নাবারো বলেছেন, ‘সাউথ আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ কেননা, টিকার কারণে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি সবাই মিলে এতদিনে গড়ে তুলতে পেরেছিল সেটি ভেঙে ফেলার ক্ষমতা এই ভাইরাসটির আছে বলে তার কাছে মনে হচ্ছে৷’

তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হলো চীনের উহানে প্রথম যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছিল, ওমিক্রন তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এর মানে হলো করোনার মূল ধরনকে মাথায় রেখে তৈরি করা বিদ্যমান কোভিড টিকাগুলো নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে অতটা কার্যকর নাও হতে পারে।

এই ভ্যারিয়েন্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথনে মনে করেন, ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল প্রণয়ন জরুরি। টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোকে এখনো অগ্রাধিকার দিতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য ওমিক্রন একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।

করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার খুব জরুরি বলে মনে করেন স্বামীনাথন। তিনি বলেন, মাস্ককে ‘পকেটে বহনযোগ্য প্রতিষেধক’ নামে ডাকা হয় এবং এটি খুব কার্যকর। বিশেষ করে কোনো আবদ্ধ কক্ষে গেলে মাস্ক ব্যবহার জরুরি। এ ছাড়া সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়া, গণজমায়েত এড়িয়ে চলা, নতুন ধরনের জিনোম উন্মোচন করা এবং এবং অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে সেদিকে নজর রাখার কাজগুলোও চালিয়ে যেতে হবে।

নতুন ধরন শনাক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে কার্যকর সমাধান বলে মনে করছেন না স্বামীনাথন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পূর্ববর্তী সময়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে করোনা ঠেকিয়ে রাখা যায়নি।’ তিনি মনে করেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সাময়িক সময়ের জন্য হওয়া উচিত। নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ওপরও জোর দিয়েছেন এ বিজ্ঞানী।

ট্যাগ:

জাতীয়
প্রাণহানি ছাড়াই তৃতীয় ধাপের ‘মডেল নির্বাচন’

banglanewspaper

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ‘সহিংসতাহীন নির্বাচনের মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। রবিবার (২৮ নভেম্বর) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

এ সময় তিনি বলেন, একশ মানুষ একসঙ্গে হলে ধাক্কাধাক্কি হয়। সেখান থেকেই সহিংসতা হয়। এটাই স্বাভাবিক। তৃতীয় ধাপের ভোটে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তাই এটি মডেল নির্বাচন হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, রবিবার ৯৮৬টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ২১ কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৯ হাজার ৮৭৩টি। এর মধ্যে যদি ২১টি বন্ধ করা হয়, যদি আমরা পারসেন্টেজ করি, তাহলে সেটা হয় শূন্য দশমকি ২১ শতাংশ।

তিনি বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৮ শতাংশ পৌরসভায় এবং ইউনিয়ন পরিষদে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট ভোট কাস্ট হবে ৭০ শতাংশেরও বেশি।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশ আমরা টিভির মাধ্যমে মনিটর করেছি। আমাদের যে মনিটরিং সেল আছে, জেলা পর্যায় থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে আমরা দেখেছি উৎসবমুখর পরিবেশে  ৯৮৬টি ইউপি ও ৯টি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, পুরো ইউনিয়ন একটাও বন্ধ হয়নি। আহত হওয়ার বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমরা দেখেছি যে, সেখানে কেন্দ্রের বাইরে ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

লক্ষ্মীপুরে এক টিভি সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে যখনই কোনো ঘটনা ঘটে যায়, হঠাৎ করেই হয়। এটি আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ক্যামেরাটি উদ্ধারের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এছাড়া যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সহিংস ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, ইউপি নির্বাচন একদম তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচন। এটি প্রতিটি ঘরেঘরে, প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় নির্বাচন হয়। আপনারা দেখবেন ১০ জন বা একশ মানুষ একসঙ্গে হলে, ধাক্কাধাক্কি হয়, তাই না? এটা খুবই স্বাভাবিক এবং সেখান থেকেই কিছু সহিংসতা ঘটে থাকে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি প্রত্যাশা করে সহিংসতার একটি ঘটনাও যেন না হয়। আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করছি।

ট্যাগ:

জাতীয়
নটর ডেম ছাত্রের মৃত্যু: গাড়ি চালাচ্ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল

banglanewspaper

নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের চাপা দেওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িটি চালকের কাছ থেকে নিয়ে চালাচ্ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। আর সিটি করপোরেশন থেকে গাড়ির চালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন হারুন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত গাড়ির চালক হারুন। গাড়িটি চালানোর কথা হারুনের, কিন্তু তিনি না চালিয়ে রাসেলকে দিয়ে চালাচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে হারুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি। দ্রুতই তাকে আমরা আইনের আওতায় আনবো। হারুনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কেন তিনি রাসেলকে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

গ্রেপ্তার রাসেলের পরিচয় জানতে চাইলে ডিসি আব্দুল আহাদ বলেন, রাসেল সিটি করপোরেশনের কেউ না। তবে তিনি সিটি করপোরেশনের কিছু কাজ করেন। রাসেল জানিয়েছেন, তার আত্মীয়-স্বজন সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন, সেই সূত্র ধরে তিনি (রাসেল) সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

রাসেল এর আগেও এই গাড়ি চালিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে আব্দুল আহাদ বলেন, রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে তিনি এর আগেও গাড়িটি চালিয়েছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের পর গাড়ি চালানোর কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।

গাড়ির চাবি সিটি করপোরেশনের কেউ দিয়েছিল নাকি হারুন দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কেউ দেয়নি। গাড়ির চাবি হারুনই রাসেলকে দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ার গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে নটরডেম কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাঈম হাসান রাস্তা পার হওয়ার সময় পূর্ব দিক থেকে আসা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক (রেজিঃ নম্বর ঢাকা মেট্রো-শ১১-১২৪৪) চালক রাসেল খান বেপরোয়া গতিতে ময়লা নিয়ে নাঈমকে সজোরে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এতে নাঈমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা জখম হয়। তখন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেয়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় টহল পুলিশ ও পথচারীরা ট্রাকের চালক রাসেল, গাড়ির ভেতরে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী গোলাম রব্বানী ও বেলালকে আওয়ামী লীগের অফিসের পূর্ব প্রান্ত থেকে আটক করা হয়।

ডিসি আব্দুল আহাদ বলেন, ঘটনার পর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহ আলম দেওয়ান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

ট্যাগ: