banglanewspaper

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার কয়েকটি অংশে প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার বিকালের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় ঝড় মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সাম্প্রতিক ইতিহাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী। খবর আনন্দবাজার, এনডিটিভি।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই তিন জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে চার থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের হতে পারে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের।  

ইতিমধ্যে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এলাকা থেকে গত দুই দিনে ৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণসহ তাদের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলকাতার আলীপুর আবহাওয়া দফতরের উপমহাপরিচালক (পূর্বাঞ্চল ) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানান, আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে আম্পান পশ্চিমবঙ্গে  আছড়ে পড়তে পারে। এর গতিবেগ সর্বাধিক হতে পারে ১৮৫ কিলোমিটার। একই সঙ্গে এটি ভারতের ওডিশা রাজ্য ও বাংলাদেশে আঘাত হানবে।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা রাজ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এনডিআরএফ প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মহাপরিচালক এসএন প্রধান বলেন, এই দুই রাজ্যে ৩৭ টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল গঠন করা হয়েছে।

সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিকেলের দিকে আম্পান পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপূরের দীঘা ও বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মাঝে সুন্দরবন অঞ্চলে প্রচণ্ড আঘাত হানতে পারে। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সমুদ্র উপকূলে ৪ থেকে ৬ মিটার এবং পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ৩ থেকে ৫ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। 

তিনি আরও বলেন, বিকেলে ৩টা বেজে ২০ মিনিটের দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমুদ্রে জোয়ার আসবে। তখন আছড়ে পড়ার সময় আম্পানের শক্তি কিছুটা কমে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এসময় এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। যা বেড়ে পরবর্তী সময়ে সর্বাধিক ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন, বুলবুল, আয়লা ও ফণীর চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে এই আম্পান ।

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টায় আম্পানের অবস্থান কলকাতা থেকে ৩১৫ কিলোমিটার, দিঘা থেকে ১৭৭ কিলোমিটার ও পারাদ্বীপ থেকে ১২৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। এর আগের ছয় ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ২২ কিলোমিটার বেগে উত্তর ও উত্তরপূর্ব অভিমুখে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে এসেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াবিদদের অনুমান, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ হয়ে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে স্থলে উঠে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বুধবার সকালে উড়িষ্যার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রবল ঝড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে। উপকূলের নিকটবর্তী বৃহত্তম শহর কলকাতা সতর্কাবস্থায় আছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘোর দুর্যোগ আসছে। রাজ্য সরকার মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ রাতে তিনি রাজ্যসচিবালয় নবান্নে রাত কাটাবেন। পর্যবেক্ষণ করবেন আম্পানকে। কাঁচাবাড়ি, পুরনো বাড়ি, টালি বা টিনের ছাউনি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের নিকটবর্তী পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে যেসব এলাকা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে সেগুলোকে ‘রেড প্লাস জোন’ ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার পুরো রাত কন্ট্রোল রুমে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুর্যোগ কেটে যাওয়ার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।

মমতা বলেছেন, “ঘূর্ণিঝড়ের লেজের শেষ অংশটিতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাই দুর্যোগ কেটে যাওয়ার ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত লোকজনের বাড়ির বাইরে আসা উচিত নয়।” এ প্রসঙ্গে গত বছর আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণীর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়টি চলে যাওয়ার সময়ই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল স্মরণ করে সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি।

ভারতীয় নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশটির পূর্ব উপকূলে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে ‘উচ্চ সতর্কাবস্থায়’ আছে।   

মঙ্গলবার আম্পান উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার পথে কিছুটা শক্তি হারিয়ে ‘সুপার সাইক্লোন’ থেকে এখন ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের’ রূপ নিয়েছে। আম্পান রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ভারত মহাসাগর থেকে উৎপত্তি হওয়া দ্বিতীয় ‘সুপার সাইক্লোন’।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ‘আম্পান’ এর উচ্চারণ হবে ‘উম-পুন’, থাই ভাষার এই শব্দের অর্থ আকাশ। ২০০৪ সালে থাইল্যান্ড এ নামটি প্রস্তাব করেছিল।

ট্যাগ: bdnewshour24