banglanewspaper

চীনের স্বশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানের কাছে ১৮ কোটি মার্কিন ডলারের হেভিওয়েট টর্পেডো বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২০ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে এই বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমন সময় এই অনুমোদন দেওয়া হলো, যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে চীন-মার্কিন বিরোধ চরম অবস্থায় রয়েছে।

স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্নতাকামী অংশ বলেই মনে করে চীন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বুধবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়েছেন চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রার্থী সাই ইং ওয়েন। এরপরই তাইওয়ানকে নিজেদের অখণ্ড অংশ মনে করা চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্বশাসিত অঞ্চলটির বিচ্ছিন্নতা কখনো সহ্য করবে না বেইজিং। আর তারপরেই তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। এই অস্ত্র পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাইওয়ানের নিরাপত্তার উন্নয়ন হবে, এছাড়া এটা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামরিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এমকে-৪৮ এমওডি অ্যাডভান্সড টেকনোলোজির হেভিওয়েট টর্পেডোগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর মজুদ থেকে সরবরাহ করা হবে। এই টর্পেডো সাবমেরিন থেকেও নিক্ষেপ করা যায়।

বুধবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন চীনবিরোধী নেতা সাই ইং ওয়েন। 

এরপরই চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ম্যা জিয়াওগুয়াং বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পর্যাপ্ত সক্ষমতা চীনের রয়েছে। বেইজিং কখনোই কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম বা চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।

ম্যা জিয়াওগুয়াং আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের জন্য চীন সবসময়ই বিপুল সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছে। কিন্তু তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের জন্য কোনও জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে না।

হংকং এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অধীনে তাইওয়ানকেও শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

মূলত চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময়ে চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও জে দংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে চীনের সমুদ্রবেষ্টিত তাইওয়ান যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। 

প্রাথমিকভাবে ওই সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। তাইওয়ানভিত্তিক সরকার দাবি করে, চীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়েছে। আর বেইজিংভিত্তিক চীন সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বর্তমানে তাইওয়ানকে চীনের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এছাড়া তাইওয়ান জাতিসংঘের স্বীকৃতপ্রাপ্তও নয়। মাত্র ১০/১২টি দেশের সাথে তাদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24