banglanewspaper

পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এমন সব ভয়াবহতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষ ১৫টি রাজ্যের কমপক্ষে ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধান কেন্দ্র মিনিয়াপোলিস সহ সেইন্ট পল, আটলান্টা, লস অ্যানজেলেস, ফিলাডেলফিয়া, পোর্টল্যান্ড, লুইসভিলে, বেভারলি হিলস, ডেনভার, মিয়ামি, শিকাগো, রোচেস্টার, সিনসিনাতি, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস, ডেটন, টোলেডো, পিটসবার্গ, চার্লস্টোন, কলাম্বিয়া, নাশভিলে, সল্ট লেক সিটি, সিয়াটল ও মিলওয়াউকি। খবর সিএনএন, বিবিসি। 

খবরে বলা হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে সব শ্রেণির মানুষ করোনা মহামারির ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে নামানো হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ, ন্যাশনাল গার্ড। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ছে ছত্রভঙ্গ করার জন্য। কিন্তু থামছে না বিক্ষুব্ধ জনতা। এই সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লুটেরা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের দায়ী করেছেন।

সোমবার (২৫ মে) মিনিয়াপোলিসে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক জর্জ ফ্লয়েড পুলিশি নির্যাতনে মারা যান। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে (৪৪) গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে সোমবার (১ জুন) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। 

নির্যাতনের ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বেশ কয়েক মিনিট জর্জ ফ্লয়েডের কাঁধে হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকতে দেখা যায় পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে। এ সময় তার অন্য দু’জন সহযোগি একই কাজ করে। পাশে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করে আরো এক পুলিশ সদস্য। 
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসায় বাঁচার কাঁকুতি জানাতে থাকেন জর্জ ফ্লয়েড। তার শেষ আর্তি ছিল ‘আই ক্যান্ট ব্রেদ আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’। এরপর তাকে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৩০ টি শহরে। ফ্লয়েডকে নির্যাতনে যুক্ত চার পুলিশের বিরুদ্ধেই বিচার চায় বিক্ষোভকারীরা।

শিকাগোতে বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছুড়েছে। জবাবে পুলিশ তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। সেখান শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে। লস অ্যানজেলেসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। জবাবে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। 
এছাড়া দ্বিতীয় দিনের মতো হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ করেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। আটলান্টা, জর্জিয়ায় শুক্রবার বেশ কিছু ভবনে ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে জানমালের নিরাপত্তা দিতে কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিস, নিউ ইয়র্ক, মিয়ামি, আটলান্টা ও ফিলাডেলফিয়াতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে।

এসব শহরে কারফিউ দিলেও তা ভঙ্গ করে অনেক মানুষ বিক্ষোভ করছেন। ব্যাপকহারে চলছে লুটপাট। শুক্রবার দিনশেষে মিনেসোটায় মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক শত ন্যাশনাল গার্ড। এটি একটি রিজার্ভ বাহিনী। তাদেরকে শুধু মোতায়েন করার আহ্বান জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট অথবা রাজ্যের গভর্নররা। 

শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মিস্টার ফ্লয়েডের মৃত্যু আমেরিকানদের ভয়াবহতা, ক্ষোভ আর বেদনায় ভরিয়ে দিয়েছে। একজন বন্ধু হিসেবে আমি আপনাদের পাশে আছি। সব আমেরিকান শান্তি চান। তাদের মিত্র হিসেবে পাশে আছি। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ইলোন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি থেকে নাসার দু’জন নভোচারীকে মহাশূন্যে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লুটপাট ও নৈরাজ্যের নিন্দা জানান। বলেন, এর মধ্য দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি অসম্মান দেখানো হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, এ সময় যা দরকার ছিল তা হলো ক্ষতকে সারিয়ে তোলা, ঘৃণা নয়। প্রয়োজন হলো ন্যায়বিচার, বিশৃংখলা নয়। তাই আমি দাঙ্গা চলতে দিতে পারি না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সময় মিনিয়াপোলিসের মেয়রকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেছেন, যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে। 

অন্যদিকে একগুঁয়েমি করে বিক্ষোভে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলের জো বাইডেন। তিনি দাবি তুলেছেন, যারা ফ্লয়েড হত্যায় দায়ী তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24