banglanewspaper

সম্প্রতি কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে পুলিশের বর্বরোচিত নিপীড়নে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রতিবাদে দিনকে দিন উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভে সামিল হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দমনে দেশটির প্রায় ২২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত পৌনে ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে। 

এরইমধ্যে বিক্ষোভ চলাকালে ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে চোখ হারিয়েছেন লিন্ডা টিরাদো নামে এক সাংবাদিক। 

তিনি নিজেই জানিয়েছেন, বিক্ষোভ কাভার করতে গত শুক্রবার ন্যাশভিল থেকে মিনিয়াপলিসে যান তিনি। বিক্ষোভের নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছিলেন লিন্ডা। এসময় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়তে থাকে। হঠাৎ রাবার বুলেট তার চোখে আঘাত হানে। তাতে চিরদিনের মতোই সে তার বাঁ চোখের দৃষ্টি হারান।

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের ছবি পোস্ট করে লিন্ডা লিখেন- ‘ওই মুহূর্তে মনে হয়েছিল আমার মুখ বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। অস্ত্রোপচার করে চোখ থেকে গুলি বের করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই চোখে ভবিষ্যতে আর দেখতে পাবো না। আরও দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হবে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, রাবার বুলেটে লিন্ডার চোখ হারানো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওইদিন আরও অনেক সাংবাদিককেই পুলিশের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পরও ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে পথে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে চার পুলিশ সদস্য। 

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গারাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে বিক্ষোভ। এর আঁচ লেগেছে হোয়াইট হাউসেও। শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউস এলাকায় একত্রিত হয় বিক্ষোভকারীরা। এদিন পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়।

এদিকে রবিবার রাতে হোয়াইট হাউসের সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়া ছবিতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে কোথাও গ্রাফিতি আঁকছেন, কোথাও আতশবাজি হচ্ছে। 

ওইসময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক টুইট করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। এসময় তিনি বর্ণবৈষম্যকে ইস্যু করে দেশে প্রগতিশীল বামপন্থি শক্তিগুলো নৈরাজ্য চালাচ্ছে বলেও টুইটে অভিযোগ করেন।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য ডেরেক চাওভিন। ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। 

ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে ওই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। তিনি আর্তচিৎকার করছিলেন। পুলিশকে অনুরোধ করে বলছিলেন- ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, প্লিজ’। 

এই ভিডিও প্রচার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসের ৪ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। 

কিন্তু বর্ণবিদ্বেষের শিকার জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে গোটা যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভ দানা বাঁধে। হাজার হাজার মানুষ এই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। 

ট্যাগ: bdnewshour24