banglanewspaper

বান্দরবান পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে যেকোন মুহূর্তে এসব এলাকায় প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো ঝুকিপূর্ণস্থানে বসবাসকারীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসন অভিযানে মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি পৌর এলাকাসহ সাত উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা শহরের আশে-পাশে এবং পৌর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বুধবার (১৭ জুন) বিকালে শহরে মাইকিং করা হয়।

এদিকে টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের ফলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিচু এলাকা মার্মাপাড়া বাজরসহ বাইশারি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইশারী, দক্ষিণ নারিচ বুনিয়া, পশ্চিম বাইশারী, গুদাম পাড়া, মধ্যম বাইশারী,করলিয়ামুরা,উত্তর বাইশারীর অধিকাংশ বাড়ীঘরে পানি নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে  যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মুরগী, গরু ছাগল, আসবাবপত্র এবং বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্ইশারি ইউনিয়নে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম জানান, ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪শতাধিক মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত বিদ্যালয় গুলোতে থাকার ও ব্যবস্থা রয়েছে।

অপরদিকে প্রবল বর্ষণে উপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লামা পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী নদী, বিভিন্ন খাল ও পাহাড়ী ঝিরি সমুহের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ের পাদদেশ ও নিম্নাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা অব্যাহত রয়েছে। যেই কোন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সকল ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24