banglanewspaper

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ॥

গত ২০ নভেম্বর (৯৯) আমাদেরকে তথা সমগ্র জাতিকে শোক সাগরে ভাসিয়ে বেগম সুফিয়া কামাল পরিণত বয়সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। বেগম সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য তাঁর পৈতৃক নিবাস হচ্ছে বৃহত্তর কুমিল্লার শিলাউর গ্রামে। কুমিল্লাবাসী বলেই একটা আঞ্চলিকতা বোধ থেকে ছোটবেলায় তাঁর প্রতি এক প্রবল আকর্ষন বোধ করি। তাঁর ‘বহুদিন পর মনে পড়ে আজি পল্লী মায়ের কোল’ থেকে আমরা শহর ও শহরতলীর লোকেরা হারিয়ে যাওয়া নিভৃত পল্লীকে প্রথম আবিস্কার করি। কুমিল্লা শহরের সাথে তাদের একটা বন্ধন ছিল। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে স্কুলে যাওয়া আসার কালে তাদের বাড়িটি খুঁজেছি আর মনে মনে তাঁকে আপন করে নিয়েছি। সেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে অতি কাছে না হলেও কাছে পেয়েছি।

বেগম সুফিয়া কামাল নজরুল-রবীন্দ্রনাথ, আরজ আলী মাতুব্বর বা দাদাভাই রোকনুজ্জামানের মতো স্বশিক্ষিত ছিলেন। মূলত মা সৈয়দা সাবেরা খাতুনের উৎসাহ ও সহায়তায় এবং বড় মামার বিরাট লাইব্রেরীতে চুপি চুপি পড়াশুনা করেই তিনি শিক্ষিত হতে পেরেছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি খালাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন; এবং ১৯৩২ সালে সৈয়দ নেহাল হোসেন অকাল মৃত্যুবরণ করার ৫ বছর পর বেগম সুফিয়া কামাল ১৯৩৭ সালে পুণরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জনাব কামাল উদ্দিনের সাথে তার দ্বিতীয় বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কামাল সাহেব পরিণত বয়সে তিন কন্যা ও দু’পুত্র রেখে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বেগম সুফিয়া কামালের পৈতৃক ও মাতুল পক্ষ ছিলেন সামন্ত প্রভু কিন্তু জীবনে তাঁর আচরণে সামন্তবাদী প্রকাশ কোনদিন ঘটেনি। অপরদিকে তিনি যে অতি খাঁটি সৈয়দ ছিলেন এবং আরবের বিখ্যাত কোরেশ পরিবারের সাথে তার রক্ত সম্পর্ক ছিল তাও তিনি ধর্মে কর্মে চলনে বলনে, আচরণে, ভদ্রতায় নম্রতায়, দৃঢ়তায় প্রকাশ করে গেছেন।

সুফিয়া কামালের সর্বজনীন পরিচয় বহু নামে তবে তার প্রথম পরিচয়ের সূত্র হচ্ছে কাব্যচর্চা। গল্প লিখে তিনি লেখার জগতে পদার্পন করেন এবং ‘সৈনিক বধু’ গল্প প্রকাশের পরই কবিতায় তার হাতে খড়ি। সওগাত পত্রিকা ও তার সম্পাদক নাসিরুদ্দিনের পৃষ্ঠ-পোষকতা ও সহচার্যে তার কবি জীবনের উম্মেষ ও বিকাশ ঘটে। তার কাব্য প্রতিভার সাধ পূরণের পেছনে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামের অবদানও অনস্বীকার্য। তার প্রথম গল্প সংকলন ‘কেয়ার কাঁটা’ ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩৮ সালে তার কাব্য সংকলন ‘সাঝের মায়া’ প্রকাশিত হয়। এরপর তার কবিতা লেখা অনবরত চলতে থাকে; মাঝে শিশু কিশোরদের জন্য ছড়া ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং আজীবন কবিতা লিখলেও ১৯৮৮ সালে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’ ও স্মৃতিচারণমূলক কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্যে ভরপুর ‘একাত্তরের ডায়েরী’ ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই ‘একাত্তরের ডায়েরী’ পড়লে দালিলিক প্রমাণ মিলে যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেছিলেন। এই বই থেকে পাকিস্তানী নির্যাতন, বাঙালির প্রতিরোধ, মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃসাহসী অভিযান এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নিজস্ব ও পরিবারের ভূমিকার কথা স্পষ্ট হয়ে উঠে। তিনি শুধু নিজ সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠাননি, অন্যদের যুদ্ধে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি গোপনে যোদ্ধাদের জন্যে খাবার ঔষধ ও কাপড়-চোপড়ের ব্যবস্থা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের কালেই তাঁর প্রচন্ড সাহসের প্রকাশ দেখলে অভিভূত হতে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে ক্র্যাকডাউনের পর পাকিস্তান সামরিক জান্তা বেগম সুফিয়া কামালকে তাদের পক্ষে ব্যবহারের জন্যে টেলিভিশনে নিয়ে যায়। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে তাঁর মুখ দিয়ে এমন বাক্য উচ্চারণের কৌশল হিসাবে বিস্তারিত ভূমিকাসহ তাকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক কিনা প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন আমার সন্তানরা এখন বনবাদাড়ে দিন কাটাচ্ছে; এ যদি স্বাভাবিকতা হয়, তাহলে দেশে স্বাভাবিকতা বিরাজ করছে’। তারও বেশ আগে আইয়ুব খানের শাসনামলে একবার আইয়ুব খান তার সামনে বাঙালীকে পশু বলে। জবাবে রাগত স্বরে সুফিয়া কামাল বলেন পশুদের শাসক হিসাবে নিশ্চয়ই আপনি পশুপতি। শুধু প্রতিউত্তর নয় ১৯৬০ সালে প্রাপ্ত তদানিন্তন পাকিস্তান সরকারের তমঘায়ে ইমতিয়াজ খেতাবও তিনি বর্জন করেন ১৯৬৯ সালে। স্পষ্টতঃ এই আচরণটি ছিল কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের অনুরূপ। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ তার ‘নাইট’ খেতাব বর্জন করেছিলেন। এই নিয়ে বেগম সুফিয়া কামালের কোন আফসোস কোনদিন ছিল না। জীবনে তিনি অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা ও সনদ পেয়েছেন। ১৯৫৯ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর পুরস্কার প্রাপ্তি থেকে ১৯৯৭ সালের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি পর্যন্ত কাব্য, সাহিত্য, সমাজকর্ম, ভাষা আন্দোলন, সাংগঠনিক তৎপরতা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এসব পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত তার উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হচ্ছে ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৪ সালে বেগম ক্লাব পুরস্কার, ১৯৭৬ সালে একুশে পদক। তারপর ক্রমানুয়ে নূরুন্নেসা বিদ্যা বিনোদিনী স্বর্ণ পদক, নাসিরুদ্দিন পদক, শেরে বাংলা জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, জাহানারা ইমাম পদক, বেগম রোকেয়া পদকসহ বহু পুরস্কার সনদ ও সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন। বিদেশ থেকে তিনি লেনিন শান্তি পুরস্কার ও চেকোশ্লোভাকিয়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক পুরস্কারসহ চারটি পদক পেয়েছেন। একাধিক বিদেশী ভাষায় তার কবিতাও অনুদিত হয়েছে।

রক্ষণশীল ও ধার্মিক পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি ছিলেন উদার, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক এবং অপরের ধর্মকর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অনুশীলন ও আত্মস্থ সাহস নিয়েই তিনি মানুষের কাছাকাছি আসেন। প্রথম জীবনে তিনি স্বদেশী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন; বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে খাওয়াতীনের কর্মী হিসাবে তিনি বস্তিতে বস্তিতে নারী উন্নতির জন্যে কাজ করেছেন। জীবনের ঝুঁকি ও পারিবারিক বাধা সত্ত্বেও তিনি ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় কলিকাতায় আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনে এমনি কর্ম ও কর্মের প্রেরণা ও মানবিকতা তাঁকে সমাজের সকল মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে কলিকাতা ছেড়ে ঢাকা এসেও তিনি নারীমুক্তি ও বৃহত্তর অর্থে মানব মুক্তির আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তেমনভাবে কোনদিন রাজনীতির সাথে জড়াননি। তবে দেশের সমগ্র প্রগতিশীল ও বামপন্থী আন্দোলন তার স্পর্শে মূর্ত হয়েছে এবং দেশের আনাচে কানাচে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। প্রথম জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ ও কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতি তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সংস্পর্শে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতিও ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মিছিল করেই তিনি থেমে থাকেননি। ভাষা সংস্কৃতির উপর আক্রমনকে সাহস নিয়ে  নিরন্তর রুখে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৫২ সাল থেকে তার পরিচয় কবি নয়; একজন সমাজ সংস্কারক হিসাবে বেশি উচ্চারিত হতে থাকে। কলকাতায় তার যে জীবন অন্যায়, অসুন্দর, অসত্যের ব্রিুদ্ধে লড়াই দিয়ে শুরু হয় তা চলতে থাকে আমৃত্যু। স্বৈরাচারী আইয়ুব থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন নারী জাগরণে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে, শিশুদের প্রতিষ্ঠিত করতে বা রবীন্দ্রনাথকে; কিংবা ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের নির্মূল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এর আন্দোলনে।

১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি থেমে থাকেনি, ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠিত হলে তিনি তার সভানেত্রী নির্বাচিত হন। তিনি আমৃত্যু এই সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। আমৃত্যু জড়িত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে। ৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে আমরা তাকে পুরোভাগে দেখেছি। আমার পরম সৌভাগ্য ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের সুবাদে আমি তার অতি কাছে আসতে পেরেছিলাম এবং তার একজন অতি প্রিয়ভাজন মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। মূলতঃ শেখ হাসিনা ও বেগম সুফিয়া কামালের হস্তক্ষেপেই দু’ধারায় বিভক্ত ঘাতক বিরোধী আন্দোলন এক ধারায় মিলিত হয়েছিল এবং জাহানারা ইমামকে আহবায়ক ও অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে ৪৯ সদস্যের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। এই দশকের সবচেয়ে সাড়া জাগানো ও অতলস্পর্শী আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের কথা তার থাকলেও শারিরীক অসুস্থতার কারনে শেখ হাসিনা সেই দায়িত্ব জাহানারা ইমামকে দিয়েছিলেন। তিনি গণ আদালতের একজন বিচারকও ছিলেন কিন্তু অসুস্থতার কারনে না আসতে পারায় শেষ মূহূর্তে তার নাম বিচারক থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত জাতীয় গণতদন্ত কমিশন এর চেয়ারপারসন ছিলেন। জাহানারা ইমামের জীবদ্দশায় গঠিত এই কমিশন মওলানা আবদুল মান্নান, মতিয়ুর রহমান নিজামীসহ ১৬ জন কুখ্যাত ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীকে চিহ্নিত করেছিল এবং ঘাতক অপরাধীদের বিচারের দাবীতে তিনি অতিশয় তৎপর ছিলেন। ঘাতক বিরোধী আন্দোলনে সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম ও শেখ হাসিনা এক মঞ্চে এক সাথে উপস্থিত হন ৩ মার্চ ১৯৯২ সালে। সর্বশেষ গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আবার তিনজন একসাথে উপস্থিত হন ১৯৯৪ সালের ২৬ মার্চ। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মৃত্যুবরণ করলে অসুস্থতা সত্ত্বেও আমাদের সকলের অনুরোধে বেগম সুফিয়া কামাল ঘাতক দালাল নির্মুল জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহবায়িকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বল্প সময়ের এই দায়িত্ব পালনকালে আমি তাকে চিনেছি একজন মহিয়সী নারী হিসাবে, একজন স্নেহময়ী মা হিসাবে, একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা হিসাবে, গরীব দুঃখীদের আশ্রয় হিসাবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার আধার হিসেবে, কঠোর ও কোমলের সংমিশ্রণ হিসাবে এবং ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের আতংক হিসাবে। মূলতঃ তার জননী সাহসিকা ভূমিকাটি কোনদিন থেমে যায়নি। জীবনের প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ তিনি গড়েছেন অন্যায়, অসুন্দর, অসত্য তথা ধর্মান্ধতা, কূপমন্ডতা, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। তার মতো নির্ভীক, নির্লোভ, নিরহংকার, নির্বিবাদী অথচ দৃঢ়চিত্ত মানুষ আগামীতে দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। প্রকৃতই তার স্থান দীর্ঘকাল শূণ্যই থেকে যাবে আর দীর্ঘকাল জাতি এই সংগ্রামী নারী, স্নেহময়ী খালা, মা, মরমী কবি, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, সমাজ সংস্কারক, বাঙালীর বাতিঘর ও মানুষের বিবেক বেগম সুফিয়া কামালকে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে।

আমার পরম সৌভাগ্য যে অতি ছোটবেলায় তারই প্রতিষ্ঠিত কঁচিকাঁচার সুবাদে তার নৈকট্য পেয়েছিলাম। আর পরিণত বয়সে তাঁকে পেয়েছি আমাদের ঘাতক বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগে। তার স্নেহ ভালোবাসা আমাকে কৃতজ্ঞ করেছে আর তার বহুমাত্রিক অবদান সমগ্র জাতিকে করেছে ততোধিক কৃতজ্ঞ। তার সূচিত প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, অবরোধ আজও শেষ হয়নি কিংবা শেষ হবার লক্ষনও দেখা যাচ্ছে না। আজও সমাজে ঘাতক যুদ্ধাপরাধী বীরদর্পে পদচারণা করছে, ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আমাদের মহান অর্জনগুলোকে বিনষ্ট করে আমাদেরকে অন্ধকার ও পশ্চাতের দিকে ঠেলে দিতে যাচ্ছে, আজও নারী নির্যাতন শিশু নির্যাতন চলছে, অন্ধত্ব ও কুহেলিকা সমাজকে কুঁকড়ে খাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, আন্দোলন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে বেগম সুফিয়া কামাল হচ্ছেন আমাদের অনন্ত প্রেরণা ও সাহসের উৎস। তাঁকে আমাদের স্মৃতিতে ধরে রাখতে বহু বিচিত্র কর্মসূচী নেয়া যাবে এবং নেয়া হচ্ছে। তবে আমি তার তিরোধানের দিবসটিকে বাঙালির জাতীয় প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান জানাচ্ছি। কালে হয়তো একুশে ফেব্রুয়ারির মতো এই দিনটিই আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালিত হবে।


*বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য।

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী