banglanewspaper

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙ্গন থেকে রক্ষার্থে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। নতুন ভবনেও ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, উজানে পারুলিয়া থেকে তিস্তার একটি ছরা বের হয়ে তিস্তার পানি বিদ্যালয়ে এসে সরাসরি আঘাত করে। এ অবস্থায় গত দুই দিনের ভাঙ্গনে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের প্রায় অর্ধেক অংশ ধসে যায়। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  অনুমতি সাপেক্ষে সোমবার বিদ্যালয়টি সরানোর কাজ শুরু করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে নতুন ভবনের উত্তরপার্শ্বে দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।

জানা যায়, অনগ্রসরচরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়টি  ১৯৮৫ সালে স্থাপন করা হয়। সেই থেকে বিদ্যালয়টি চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষার উন্নয়ন করলেও পিছু ছাড়েনি তিস্তার ভাঙন। পাঁচবার ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান পঞ্চম। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ভবনটির প্রায় ২০ ফুট অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। লোকজন বেড়া ও টিন সরিয়ে নিচ্ছে। 
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, পুরাতন ভবনটি সরিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তাছাড়া গত দুইদিন নতুন ভবনটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন ভবনটি উত্তর পাশে ফাটল ধরেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পুরাতন ভবনটি সরানো হচ্ছে। 
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহবার হোসেন রাজ বলেন, বিদ্যালয়টি আর রক্ষা করা গেল না। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু ভবনের কিছু অংশ ভেঙে গেছে সেহেতু এ ভবনটি সরানোর জন্য  প্রধান শিক্ষককে লিখিত ভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, যেহেতু নদীর ভাঙন বিদ্যালয়ের একদম কাছে। সেহেতু এই মুহূর্তে সেখানে কাজ করা সম্ভব না। তিনি আরো বলেন, কাজ করতে যে ব্যয় হবে তার চেয়ে সহজে বিদ্যালয়টি সরানো যাবে।

ট্যাগ: bdnewshour24