banglanewspaper

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশের লোক যদি ড্রাগ নেয়, পয়সা নেয় বা ব্যবসা করে, তার জন্য জেল নির্ধারিত। ড্রাগের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারবে না।

শনিবার ( ২৭ জুন) দুপুরে রাজধানী উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমপির আঞ্চলিক পুলিশ লাইন্সে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ফোর্সের ব্যারাক উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। 

আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনী ড্রাগ নিজে খাবে না। কাউকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও করবে না। পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো অবৈধ অর্থ নেবে না। জিরো করাপশন হবে আমাদের লক্ষ্য। আর ড্রাগ থেকে পয়সা নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, শরীরে ক্যানসার হলে আমরা সে অংশটাকে একেবারে নির্দয়-নিষ্ঠুরভাবে শরীর থেকে অপসারিত করি। যদি আমাদের কোনো সদস্য ওই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাকে আমরা ক্যানসার মনে করে পুলিশ নামক শরীর থেকে অবশ্যই নিষ্ঠুর ও নির্দয়ভাবে অপসারণ করব।

আইজিপি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবচেয়ে কম ক্যাজুয়ালটি নিয়ে আমরা সবাই মিলে যাতে এ দুর্যোগ (করোনা) অতিক্রান্ত করতে পারি, সে প্রত্যাশা করি। আমাদের দেশের সামাজিক অগ্রগতিকে সামনে নিয়ে যেতে হবে। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম, তা চালিয়ে যেতে হবে। এ দায়িত্ব আমাদের সবার। এটা একক কারো দায়িত্ব নয়।

তিনি বলেন, এ করোনাকালে দেশবাসী সবাই ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরিধান করবেন। হাত ধোয়ার জন্য দামি স্যানিটাইজার দরকার নেই। নরমাল সাবান দিয়ে হাত ধুলেই হাত পরিষ্কার হয়।

আইজিপি বলেন, উন্নত দেশের পুলিশ হতে হলে পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে বিট পুলিশি়ংয়ের মাধ্যমে, পুলিশকে মাদকমুক্ত হতে হবে, পুলিশে থেকে মানুষের কাছ থেকে অ‌বৈধ সু‌বিধা নেয়া যাবে না। মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, মানবিক আচরণ করতে হবে। জনগণের সেবায় নিয়োজিত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের সার্বিক কল্যাণও নিশ্চিত করা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তাঁর এ পাঁচ বার্তা সকল স্তরের পুলিশ সদস্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, আমরা মাত্র দুই সপ্তাহে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে ২৫০ বেড থেকে ৫০০ বেডের কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করেছি। পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে, স্কুল-কলেজ এবং হোটেল ভাড়া করে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য যেখানে চার সপ্তাহের কম সময়ে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা যায় না, সেখানে মাত্র ১২ দিনে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতলে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং মৃত্যুর হার কমছে। তিনি বলেন, করোনা  আক্রান্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩ ভাগ। পুলিশে মৃত্যুর হার মাত্র দশমিক ৫ ভাগ।

আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল দেশের বিভিন্ন হাসপাতল পরিদর্শন করে করোনা চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে সেরা বলে আখ্যায়িত করেছেন। চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও করোনা চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসা প্রটোকল ও ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। 

প্যানডেমিক পুলিশিং ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, আমরা ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের দেশের প্যানডেমিক পুলিশিং গাইডলাইন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের গাইডলাইন সংগ্রহ করে বাংলাদেশ পুলিশের উপযোগী 'প্যানডেমিক পুলিশিং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)' তৈরি করেছি। এখন আমাদের একজন পুলিশ কনস্টেবলও জানেন, কিভাবে প্যানডেমিক পুলিশিং করতে হয়।

বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনা সংক্রমণ কিভাবে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। জাতীয়ভাবেও এ হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য সবাইকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারব।

আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের আবাসিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আমরা স্বল্পমেয়াদে অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যারাক ভবন নির্মাণ করেছি। ডেমরায় করা হয়েছে, উত্তরাতে আজ করা হলো। পূর্বাচলেও আমরা ব্যারাক ভবন নির্মাণ করব। দীর্ঘমেয়াদে আমরা বহুতল ভবন নির্মাণের দিকে যাব। পুলিশ ফোর্সের বসবাসের ঘনত্ব কমিয়ে তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। তিনি পুলিশের ব্যারাক ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করার জন্য আবুল খায়ের গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে করোনা আক্রান্ত হয়ে শাহাদাতবরণকারী ফ্রন্টলাইনার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পুলিশসহ সকলের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আবু সাঈদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, অতিরিক্ত আইজিগণসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: bdnewshour24