banglanewspaper

বলছিলাম দেশের তারকা অঙ্গনের প্রিয় ও পরিচিত মানুষদের কথা। চার মাস ধরে তাদের কোনও কাজ নেই। লকডাউনে সবকিছু স্থবির। শুটিং নেই, স্টেজ প্রোগ্রাম নেই। ঘরে বসে থাকার দিনগুলোতে কোনও আয়-রোজগারও নেই। অথচ এই সময়টাতেই তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনা ভাইরাসের কঠিন দুঃসময়ে হাতে থাকা সঞ্চিত অর্থ বিলিয়েছেন গরিব-দুখীদের মাঝে। সেই শোবিজ তারকারাই এখন দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় পড়েছেন বিড়ম্বনায়। অনেকেরই হাত প্রায় খালি। সরকারিভাবে শিল্পীদের জন্য কোনও প্রণোদনাও নেই। 

এরইমধ্যে বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো মাথায় ভার হয়ে নামলো বিদ্যুৎ বিল। বিশেষত গেল মে মাসের বিদ্যুৎ বিল দেখে দেশের অনেক নামিদামি তারকারই চোখ কপালে উঠেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, এত বিদ্যুৎ বিল আসার কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। মে মাসে হুট করেই দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিল। অনেকের বিদ্যুৎ বিলে রয়েছে অসামঞ্জস্য।

দুদিন আগেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিদ্যুৎ বিল বিড়ম্বনার কথা জানান। এই তারকার বাসায় মে মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এপ্রিলেই মাসিক বিল ছিল ১৬ হাজার টাকা। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেন- ‘এটা কীভাবে সম্ভব!’

অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। গ্যাস, পানি, ফোন-ইন্টারনেট বিলও নিয়মিতই দিই। এটা কোনও প্রশংসনীয় কাজ নয়, এটা দায়িত্ব। ঠিকমতো আয়কর দেয়ার কারণে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার আমাকে পুরস্কৃত করেছিল। শ্রেষ্ঠ করদাতাদের তালিকায় অনেক সম্মানী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার নামটাও এসেছিল। এবার বোধহয় খেলাপিদের তালিকায় আমার নাম উঠতে যাচ্ছে। গত মে মাসের বিদ্যুৎ বিল পেয়ে আমার এমনটাই অনুভূত হলো। আমার তিন জনের সংসারে জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার ৬০৪ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ৪৫৭ টাকা, মার্চে ৯ হাজার ৭০ টাকা, এপ্রিলে ২০ হাজার ৬৯৩ টাকা আর মে মাসে বিল এলো ২৯ হাজার ৮০১ টাকা।

অভিনেত্রী সাবরীন সাকা মিমের বাসায় মে মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২৭ হাজার টাকা। তিনি সেটি সময়মতো পরিশোধ করেছেন। বন্যা মির্জার বাসায়ও প্রায় একই রকম বিল এসেছে। তৌকির আহমেদ এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন। 

তবে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় ৪ মাস ধরে ঘরেই আছি। লকডাউনের শুরুর মাসে অর্থাৎ মার্চে ও পরের মাস এপ্রিলে আমার যা বিদ্যুৎ বিল ছিল মে মাসে তা দ্বিগুণ হলো। বিষয়টি নিয়ে অনেকের মতো আমিও বিস্মিত।’

জনপ্রিয় তারকা মোশাররফ করিমের স্ত্রী অভিনেত্রী জুই করিম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ না এলেও দেড় গুণ এসেছে। আগের দুই মাসের ৭-৮ হাজার টাকা এলেও এবার ১০ হাজারের ওপরে বিল দিতে হয়েছে।’

করোনায় গরম আবহাওয়ায় থাকলে ভালো- এমনটি মনে করে বাসায় এসি একেবারেই চালান না সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। তারপরও এবার তার বাসায় মে মাসের বিদ্যুৎ বিল প্রায় তিনগুণ এসেছে। গত দু-তিন মাস তিনি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতেন। সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘এভাবে বিদ্যুৎ বিল বাড়লে তো বিপদ! শুনলাম অনেক তারকার ক্ষেত্রে এমন অবস্থা। শোবিজ তারকাদেরই বেশি বিল ধরা হচ্ছে কিনা বুঝতে পারছি না। এর সুরাহা হওয়া দরকার।’

সঙ্গীততারকা আঁখি আলমগীর বলেন, ‘আমার বাসায় বিদ্যুৎ বিল সবসময়ই ১৫ হাজারের কমই আছে। এবার মে মাসে ২০ হাজারের বেশি এসেছে। দ্বিগুণ না হলেও যে পরিমাণ বিল এসেছে তাতে উদ্বিগ্ন না হওয়ার কারণ নেই।’

ট্যাগ: bdnewshour24